রাজনীতি

সন্তান মারা গেলে মা কি বেঁচে থাকে? না আমি বেঁচে নেই, জিন্দা-লাশ: নীলা চৌধুরী, ভিডিও সহ

image
Sat, January 14
03:06 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ණ☛ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সালমান শাহ ঐক্যজোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় সালমানশাহ’র জননী বেগম নীলা চৌধুরী বলেছেন,

আমি কাওকে দাওয়াত করি নাই সবাই নিজের ইচ্ছায় এসেছেন এটাই আমার সফলতা। এটা নিয়ে আমি এগিয়ে যাবো। কেউ যদি মনে করেন আমি মারা গেলে বা আমাকে মেরে ফেললে সব শেষ হয়ে যাবে। পিবিআইর তদন্ত শুরু হয়েছে, আমাকে অনেক হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমার একটাই উত্তর, একজন মায়ের সন্তান মারা গেলে সে মা কি বেঁচে থাকে? না আমি বেঁচে নেই, বেঁচে আছি জিন্দা-লাশ হয়ে। আমি জ্বলছি, আমার ছেলের জন্য ৪১ টা লাশ হয়েছে। প্রতিটা লাশের জবাব নিয়েই আমি লাশ হব, তার আগে লাশ হবো না।


ණ☛ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বলেন, আমি গর্ব করি সিলেট বাসীর জন্য। সিলেট থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়, যে দলের রাজনীতি সিলেটের মাজার থেকে শুরু হয় সেই দল বিজয়ী হয়, সরকার গঠন করে। আমি সরকার দলীয় একজন লোক, কিন্তু এখন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে আছি যাতে সবাই এই মনে না করে সরকার দলে থাকায় আমাকে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, 'পিবিআইর তদন্ত যদি পূর্বের ন্যায় হয় তাহলে আমি (মহানায়ক সালমান শাহ্‌ জননী বেগম নীলা চৌধুরী) মেনে নেব না, আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে'


ණ☛ তিনি বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত হলে সবকিছুই বেরিয়ে আসতো। কিন্তু সুষ্ঠ তদন্ত হচ্ছে না। সালমান শাহ হত্যার বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এজন্য তিনি সালমান শাহর ভক্তদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।





ණ☛ তিনি আরো বলেন, বিগত ১৯ বছর পার হওয়ার পরও তার পুত্র বাংলার প্রখ্যাত চিত্র নায়ক সালমান শাহ হত্যার তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। একটি গোষ্ঠি বারবার তদন্ত কাজ বাধা সৃষ্টি করে আসছে। ওরা অপপ্রচার করে আসছে, সালমানশাহ আত্মহত্যা করেছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট। তিনি বলেন, সালমান কোন দু:খে আত্মহত্যা করতে যাবে, তার কিসের অভাব ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশেষ গোষ্ঠির সঙ্গে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ দেখার জন্য সালমানের পিতাকেও প্রথমদিকে ফ্ল্যাটে যেতে দেয়া হয়নি। তিনি বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে আদালত এ মামলাটি পূন:তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক। এর আগেও র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত করলেও আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলীর পক্ষপাতিত্বের কারণে সঠিক তদন্ত হয়নি।


ණ☛বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদন তিনি খুব ভালো করেই বুঝেন। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এর বেদনা জননেত্রী শেখ হাসিনাই অনুভব করতে পারেন। ঠিক আমার সন্তান হারানোর বেদনা মায়ের কাছে কতোটুকু বেদনাদায়ক তা বুঝাতে পারবোনা।





ණ☛ এদিকে, সমাবেশ শেষে নীলা চৌধুরী দাবি করেন, র‌্যাবের তদন্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধা প্রদান করা হয়। আর এই বাধা প্রদানের কারণই হলো, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সালমান শাহকে হত্যা করার ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, তিনিই যতই আন্দোলন চাঙ্গা করেন তার জীবনের ওপর ততই হুমকি আসে।


ණ☛ মহানায়ক সালমান শাহ জননী নীলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জোটের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আফজাল হোসেইন সোহেল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।


ණ☛ বক্তব্য রাখেন সালমান শাহ’র চাচা জালাল আহমেদ চৌধুরী, মামা আওরঙ্গজেব চৌধুরী বুলবুল, আলমগীর কুমকুম চৌধুরী, সালমান শাহ’র চাচাতো ভাই মাহী চৌধুরী, খেলাঘর সভাপতি তাজুল ইসলাম বাঙালি, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কামকামুর রাজ্জাক রুনু, দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি আকাশ চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস সুটন সিংহ, সিলেটের ডাক’র সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সজল ছত্রী, সালমান শাহ ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক কবি এস.পি. সেবু, বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বিপ্র দাস বিশু বিক্রম প্রমূখ। শুরুতে গোলাম রাসেলের তেলাওয়াতের পর দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শীপ্রা।





ණ☛ জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালমানশাহ ঐক্যজোটের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহরাজুল আম্বিয়া, আফতাবুল কামাল রেকী, সৈয়দ মোস্তাক আলী, রেজুয়ান হোসেইন, সৈয়দা লিমা আক্তার, জোটের ওসমানী নগর শাখার আহ্বায়ক সালমান কবির, বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সুজিত দেব, হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহমুদ ইকবাল, গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক এম.এন.আই রুমেলসহ সালমান শাহ’র কয়েক শতাধিক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ নিহত হন। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪শে জুলাই সালমানের বাবা ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সিএমএম আদালতে একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম আদালত অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগটি একসঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে একই বছরের ৩রা নভেম্বর সিআইডি ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করে সিআইডি। একই বছরের ২৫শে নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডি পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। কিন্তু সিআইডির দাখিলকৃত প্রতিবেদনে সালমানের বাবা সন্তুষ্ট না হয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন। ওই রিভিশন মামলার ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ২০০৩ সালের ১৯শে মে মামলাটিকে ফের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে এ মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩রা আগস্ট সিএমএম বিকাশ কুমার সাহার কাছে মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি নারাজি দাখিল করেন। নারাজিতে তিনি বলেন, এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত চাই। আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। যার শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করেন। যা পরে ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রিভিশন মঞ্জুর করেন। র‌্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন। বর্তমানে এ হত্যা মামলার নথি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিআইবি) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৭ই ডিসেম্বর বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআইবিকে নতুন করে মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম মামলার নথি (কেস ডকেট) আদালত থেকে বুঝে নিয়েছেন।

লেখাটি ৬৩১৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Video




Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৩০৪১০২৯

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৪৩ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা