রাজনীতি

'বাংলাদেশে উচ্চতর শিক্ষাক্ষেত্রে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভূমিকা'

image
Sat, April 22
03:23 2017

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:


ණ☛ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, একাধারে একজন সুপরিচিত লেখক ও স্বনামখ্যাত কবি, বহুগ্রন্থের রচয়িতা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সমাজ সেবক ও একজন প্রভাবশালী আলোচক।




ණ☛সম্প্রতি ভিসি মহোদয়ের সাথে এইউবি’র উত্তরাস্থ কার্যালয়ে একান্ত আলাপচারিতায় ‘বাংলাদেশে উচ্চতর শিক্ষাক্ষেত্রে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভূমিকা’সহ শিক্ষার গুণমান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু বলুন।

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: আশির দশকের শেষার্ধেই আমি ঘুরেছিলাম দ্বারে দ্বারে, আলোকিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি স্বপ্ন নিয়ে। এমন এক উচ্চ শিক্ষার বাতিঘর প্রতিষ্ঠার আকণ্ঠ বাসনা নিয়ে, যা মানুষকে মানুষ বানাবে, তৈরী করবে দক্ষ জনশক্তি। আর এই সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বর্ণালী মেধাগুলো স্বল্পমূল্যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও জাতির অগ্র-সেনানী হবে। সে চারাগাছ অংকুরিত হয়েছিল বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশের পর ১৯৯৬ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকার ওসমানি মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তৎকালীন মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদযাত্রা শুরু হয়। দুই দশকের সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি এক মহিরুহের নাম।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বা কি বিশেষত্ব আছে?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অনেকগুলো বিশেষত্ব আছে। তন্মধ্যে উল্লে¬খযোগ্য হলো- এখানে শিক্ষা ব্যয় রাখা হয়েছে নূন্যতম, যাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরাও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম এখানে চালু রয়েছে। আছে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনীয় শিক্ষা কার্যক্রম, যা বহির্বিশ্বে স্বীকৃত। এখানে আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধচর্চার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল বিষয়ের সঙ্গে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে মূল্যবোধবিষয়ক কোর্স ও কো-কারিকুলাম কার্যক্রম, যা একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এখানে বাস্তব জীবনের পাথেয় হিসেবে কো-কারিকুলাম কার্যক্রমের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাস্তভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সকল বিভাগেই সময় মত ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যদি কোনো কারণে ক্লাস মিস হয় তবে পরবর্তীতে সেই ক্লাস নেওয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন ক্লাব ও ফোরাম, ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি পুস্তক ও জার্নালসমৃদ্ধ লাইব্রেরী, আধুনিক মান সম্পন্ন কম্পিউটার ল্যাব ও ইন্টারনেট সুবিধা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি বিষয় থাকা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন, কিন্তু পাবলিক ডিমান্ড নেই- এ অজুহাতে বাংলা, ইতিহাস, সমাজজ্ঞিান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো বিষয় খুলছে না বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু টাকা কামানো নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানে যদি হয় টাকা উপার্জন, আমি সেটাকে সমর্থন করি না। আমি মনে করি, জাতি গঠন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে যেসব বিষয় জরুরি সেগুলো উচ্চশিক্ষা লেভেলে পড়ানো দরকার। এসব সাবজেক্ট ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। প্রতি বছর হাজার হাজার সার্টিফিকেটধারী বের হচ্ছে। কিন্তু জব মার্কেটে প্রবেশ করতে পারছে না। এসব সার্টিফিকেট দিয়ে লাভ কী? আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্কেট ডিমান্ড চিন্তা করে সাবজেক্ট খোলে। জব মার্কেটের দিকে থাকায় না। আমি মনে করি, পাবলিক ডিমান্ড দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। এখানে জাতীয়ভাবে যে বিষয়গুলো খুবই দরকার সেগুলো থাকা বাঞ্ছনীয়। একজন মানুষকে পুরোপুরি মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে এসব বিষয় পড়ানো খুব জরুরি।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অনার্স ও মাস্টার্সে কি কি অনুমোদিত বিষয়ে পাঠদান করা হয়?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অনার্স ও মাস্টার্সে ১৩টি বিষয় রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি বিষয় পাবলিক ডিমান্ড নেই। তারপরও আমি এসব বিষয় খুলেছি। কারণ এসব বিষয় ছাড়া পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হয় না। প্রথম দিকে এসব বিষয় চালু রাখার জন্য প্রচুর ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তারপরও চালু রেখেছি। প্রথম দিকে বাংলা বিভাগ চালু করার সময় অনেকেই আমাকে পাগল বলেছেন। আমি বলেছি, বাংলা বিভাগ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সেটি ভাবা যায়? তাই শুরু থেকেই বাংলা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় খুলেছি। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার কিংবা গ্রাম থেকে আসার শিক্ষার্থী যারা কম টাকায় পড়তে চায়, তাদের জন্য এ বিষয়গুলো। আমি যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি এতে।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: একজন আদর্শ শিক্ষকের কি কি গুণাবলি থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে 'ঞবধপযরহম ঊভভরপরবহপু জধঃরহম'। এতে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রত্যেক সেমিস্টারে প্রত্যেক কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়ন নেওয়া হয়। প্রতি সেমিস্টারে একজন শিক্ষক যে বিষয়ের ওপর পাঠদান করেন, সে বিষয়ে শিক্ষকের জ্ঞানের পরিধি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, উপস্থাপন কলাকৌশল ও আচরণিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি মূল্যায়ন রেটিং ফরম তৈরি করা হয়েছে। এ রেটিংয়ে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে পেতে হবে ৮০। কেউ যদি কখনো ৮০ এর নিচে পায়, সেক্ষেত্রে তাকে তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে সচেতন হতে পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। কোনো শিক্ষক যদি কাংখিত মানের না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে ডেকে সংশোধনের পরামর্শ দেই। যার মাধ্যমে শিক্ষকের মানোন্নয়ন হয়, আর শিক্ষার্থীরাও কাংখিত জ্ঞানার্জনে সক্ষম হয়। আমি বিশ্বাস করি, এ স্বাতন্ত্র্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আদর্শ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য পিএইচডি অথবা বিদেশী ডিগ্রিধারী শিক্ষকের কি প্রয়োজন মনে করেন?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: আগামী দিনের জব মার্কেটের দিকে তাকিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বিশ্বমানের কারিকুলাম তৈরি করেছে। সেই কারিকুলাম ভালোভাবে পড়ানোর জন্য বাংলাদেশের কনটেস্টে ভালো মানের শিক্ষক নেওয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের পিএইচডি অথবা বিদেশি ডিগ্রি না থাকলে টিচিং মেথডোলজির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষকরা অফিসে ফুলটাইম থাকেন। লাইব্রেরি অত্যন্ত সৃমদ্ধ। মাল্টিমিডিয়া রুমে ক্লাস হয়। রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে ক্লাস পরীক্ষা মিস হলে সঙ্গে সঙ্গে তা কাভার করা হয়। নিয়মিতভাবে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধে সমন্বয় করা হয়। এটির কারণে অভিভাবকদের সবচেয়ে উৎসাহিত হয়। একাডেমিক শিক্ষার বাইরে সহশিক্ষার কাজ খুব গুরুত্বসহকারে পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফোরাম থেকে এসব সহশিক্ষা যেমন শিক্ষামূলক সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, কমিউনিটি সার্ভিস, নৈতিকতা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। জব মার্কেটে এখানকার শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে টিকে আছে। শিক্ষাব্যয় খুব কম হওয়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আমরা টানতে পেরেছি। এসব কার্যক্রমের কারণে রোটারি ক্লাবের প্রশংসা করে এশিয়ানকে ক্রেস্ট দিয়েছে। গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউশন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রচুর গবেষণা করতে হয়। গবেষণার জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কশপ হয়।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: উচ্চশিক্ষার সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ বা মাপকাঠির জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: উচ্চশিক্ষার সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ বা মাপকাঠির জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। এটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত হতে হবে। সরকারি পর্যায়ে করলে পক্ষপাতপুষ্ট হওয়া ঝুঁকি থাকবে। অবশ্যই সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এর আওতায় আনতে হবে। কোনো আবেগ নয়, বরং জাস্টিসের ভিত্তিতে কাউন্সিল করতে পারলে সহজেই উচ্চশিক্ষার কোয়ালিটি নির্ণয় করা সহজ হবে। সংজ্ঞায়িত করা যায় এ রকম কিছু মানদণ্ড থাকতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পজিটিভ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূর করতে হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতা অনুসারে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এতে অনেক শিক্ষক সংকট কমে যাবে। কোয়ালিটি শিক্ষকদের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি খুবই প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রেখে সমন্বয়ে করতে পারে। কিন্তু একেবারে বন্ধ করে রাখা উচিত হবে না।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হয়, তাদের একটা শ্রেণী তুলনামূলকভাবে কম মেধাবী। তাদের ঘষামাজা করে একটি ভালো পর্যায়ে নিয়ে আসতে হয়। কাজটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি। অন্যদিকে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তারা তুলনামূলকভাবে মেধাবী। তুলনামূলকভাবে অধিক মেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থী যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়, তাহলেই কেবল প্রকৃত অবস্থা ও অবস্থান সবার কাছে সহজে অনুমেয় হবে। বর্তমান এ প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ কম নয়। আমরা প্রতি মাসে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ থেকে দু’তিনটি চিঠি পাই, যারা এশিযান ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বিদেশে চাকরির অফার পেয়েছে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয় মূলত তাদের পাসকৃত সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাই করার জন্য। ওখানে লবিংয়ে কোনো চাকরি হয় না, হয় মেধার জোরে। এতে প্রমাণ হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাসকৃত ছাত্রছাত্রীরা চাকরির বাজারে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে আহ্বানে করব, সরকারি ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো সেশনকে ভিত্তি করে একটি গবেষণা পরিচালনা করার, যাতে দেখা যাবে কে কোথায় আছে। এটি যে কেউ করতে পারেন। এতে চাকরি ও অবস্থানগত দিক থেকে উভয় সেক্টরের একটি তুলনামূলকভাবে চিত্র পাওয়া যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, এটি হতে পারে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সুতরাং শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো যৌক্তিক কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আপনার কোন সুপারিশ আছে কি?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক: ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার সুপারিশ হলো-

প্রথমত: মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাচাই-বাছাই করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া উচিত। প্রতিষ্ঠাতার অব্যশ্যই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ হওয়া জরুরী।

দ্বিতীয়ত: মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত শর্ত দেয়া যেতে পারে। যেমন: ১. পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ। ২. সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, ইত্যাদি।

তৃতীয়ত: সার্বিক কাজের সহযোগিতা করা উচিত। যেমন: ১. স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে সহযোগিতা। ২. শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃত্তি ও গবেষণার কাজে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মতো সহযোগিতা করা। -এসব নীতিগত শর্ত ও সহযেগিতার পর তাদের কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেয়া উচিত। সকল সিদ্ধান্ত ও কর্মকান্ডে নিয়ন্ত্রণ থাকলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতা ও শিক্ষার গুণগত মান বাঁধাগ্রস্থ হয়।


এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন, শীর্ষস্থানীয়, সুবৃহৎ ও স্বনামখ্যাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চ শিক্ষায় এক উল্লেখযোগ্য নাম।




ভার্সিটির অনুষদ ও বিভাগ: এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাকাল্টি রয়েছে ৫টি। ১. স্কুল অব বিজনেস, ২. স্কুল অব কম্পিউটার এন্ড সাইন্স, ৩.স্কুল অব সোস্যাল সাইন্স, ৪. স্কুল অব আর্টস, ৫. স্কুল অব এডুকেশন। এই ৫টি অনুষদের অধীনে রয়েছে মোট ১৩ বিভাগ। ১. বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ২. কম্পিউটার সাইন্স, ৩. কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ৪. ইকোনোমিকস, ৫. ইংলিশ, ৬. সোশ্যলজি এন্ড এন্থ্রোপলজি, ৭. সোশ্যাল ওয়ার্ক, ৮. বাংলা, ৯. ইসলামিক স্টাডিজ, ১০. ইসলামিক হিস্টোরি এন্ড সিভিলাইজেশন, ১১. গভর্ণমেন্ট এন্ড পলিটিক্স, ১২. ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, ১৩. এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং। এর মধ্যে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে ১১টি বিষয়ে আর অনার্স রয়েছে ১২ টি বিষয়ে। ক্লাসরুম: এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমগুলো প্রশস্ত এবং আলো চলাচলের উপযোগী করেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। আধুনিক চাকচিক্যতা পরিহার করা হলেও পড়াশোনার পরিবেশ উন্নতকরণের সব সুযোগ-সুবিধাই রাখা হয়েছে এসব ক্লাসরুমগুলোতে।




প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রযুক্তি সাপোর্ট রয়েসে ক্লাসরুমগুলোতে। ল্যাব: এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ কম্পিউটার লাইব্রেরি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ও ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পরিচ্ছন্ন ল্যাবটিতে রয়েছে আধুনিক সকল সুবিধা। ইতোমধ্যে আশুলিয়াস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে বৃহত্তম একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।




এশিয়ানের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ডিজিটালমানের: এইউবিতে রয়েছে একটি সুবিশাল এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। বৃহৎ আয়তনের এই লাইব্রেরিতে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের লক্ষাধিক দেশি-বিদেশী বই, জার্নাল ও গবেষণাপত্র। এখানে নিয়মিত পত্রিকা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক যুগে ডিজিটাল পদ্ধতির দিকগুলো মাথায় রেখে এ লাইব্রেরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লাইব্রেরিতে সিডি, ভিসিডি ও অডিও ভিজ্যুয়াল আছে তিন শতাধিক। লাইব্রেরিতে সংগৃহীত বই-পুস্তক ও জার্নালসমূহের তথ্যাদি ক্যাটালগ আকারে এইউবি ওয়েবসাইটে সংযুক্ত রয়েছে। ফলে যেকোনো পাঠক-পাঠিকা নিজেদের ঘরে বসেই দেখতে পারেন এইউবি লাইব্রেরির সংগ্রহ। লাইব্রেরিতে পড়াশোনার জন্য রয়েছে বিশাল পাঠকক্ষ। পড়াশোনার সময় যাতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য নেট সার্চ করতে পারে এর জন্য পুরো ভবনটিই ওয়াইফাই সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি পদ্ধতিতে ই-বুক ও ই-জার্নালের বিশাল সংগ্রহ রাখা হয়েছে এইউবি’র ই-লাইব্রেরিতে। একদল দক্ষ লাইব্রেরিয়ান লাইব্রেরিটি পরিচালনা করে থাকে।




আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস: ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার টংগাবাড়িতে বঙ্গবন্ধু রোডের পাশে প্রায় দশ একর সুবিশাল জমির উপর নির্মিত হচ্ছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বিশাল একাডেমিক ভবন। ইতিমধ্যেই স্বপ্নের এ মূল ক্যাম্পাসের একটি দশতলা ভবনের ৪-৫ তলা কমপ্লিট হয়েছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ থেকে সেখানে ক্লাস শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মূল ক্যাম্পাসে আশুলিয়ার টংগাবাড়িতে বঙ্গবন্ধু রোডের পাশে যাতায়াতের সুবিধার্থে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির নিজস্ব বাস সার্ভিস চালূ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসটি। চলছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য একটি ফুটবল মাঠ, ক্রিকেট প্র্যাক্টিসের জন্য পিচ প্রস্তুত করা হচ্ছে বেশ কয়েকটি। সেখানে থাকছে বেসবল এবং ভলিবল খেলার মাঠ। সেইসাথে ইনডোর গেম-এ থাকছে টেবিল টেনিস, ক্যারাম এবং চিজ খেলার সামগ্রি প্রভৃতি।


গ্রন্থনা: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: পরিচালক, এশিয়ান ইনস্টিটিউট, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। উপদেষ্টা সম্পাদক, ক্যাম্পাস পত্রিকা। সম্পাদনায়: আহমাদ আলী।

লেখাটি ১২৫৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৬২২৩৩৬৪৯

অনলাইন ভোট

image
রোডম্যাপহীন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে দেশ- মাহমুদুর রহমান মান্নার এ বক্তব্য যথার্থ বলে মনে করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ২৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা