রাজনীতি

বড়লেখায় সরকারি হাসপাতালে দুর্ঘটনার রোগি টাকা ছাড়া চিকিৎসা পায় না: রাজি না হলেই রেফার

image
Sat, July 8
02:58 2017

বড়লেখা প্রতিনিধি:


ණ☛ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কতিপয় উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দুর্ঘটনায় কিংবা সংঘর্ষে সামান্য কাটা ছেড়া রোগির কন্টাক্ট ছাড়া সুচ ধরেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কন্টাক্টে রাজি হলেই নিয়ে যান প্রাইভেট চেম্বারে, নতুবা সেলাই ছাড়াই রেফার্ড করেন সিলেট ওসমানীতে। কাংখিত টাকা না পেয়ে সেকমো নূর নবী পা কাটা এক রোগিকে চিকিৎসা ছাড়াই রেফার্ড করেন। পরে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের এক ভিজিটর বিনা পয়সায় তার পা সেলাই করে দেয়ায় তাকে আর সিলেট ওসমানীতে যেতে হয়নি।


ණ☛ কানের ভেতরে ঢুকে যাওয়া তোলা বের করতে আরেক সেকমো অপর রোগির নিকট থেকে ১৫০০ টাকা আদায় করেন। সরেজমিন অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই সকালে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামে মোটরসাইকেল আরোহী রাসেল আহমদ (২৭) উল্টে পড়ে আহত হন। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালি কেটে যায়। সকাল সাড়ে ৮টায় রক্তাক্ত অবস্থায় আত্মীয় মোস্তফা কামাল ও ইমন আহমদ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) নূর নবী পায়ের রগ কেটে গেছে জানিয়ে সেলাই করতে টাকা দাবী করেন। ৫শ’ টাকায় তার মন ভরেনি। তাই সেলাইয়ে অসম্মতি জানিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। আহত ভুক্তভোগী রাসেল আহমদ জানান, টাকা দিতে না পারায় জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নূর নবী সেলাই সম্ভব নয় জানিয়ে আমাকে রেফার্ড করেন। পরে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের এক ভিজিটর বিনা পয়সায় পা সেলাই করে দিয়েছেন।


ණ☛ ব্যবসাযী আব্দুস সহিদ মুক্তা অভিযোগ করেন তার বাড়ির কর্মচারী সুমন দাস মানবের (২০) গত ১১ জুন কোদালে বাম পা কেটে গেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরী বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) নূর নবী পা সেলাই করতে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। লুকমানজওয়ার লাকি নামের মধ্যস্থ ব্যক্তি ৩ হাজার টাকা বললেও তিনি তাতে রাজি না হয়ে সিলেট ওসমানীতে রেফার করেন। পরে স্থানীয় ফার্মেসীর এক ফার্মাসিষ্ট পা সেলাই করে দিয়েছেন।


ණ☛ সাহান হাসানুজ্জামান নামের রোগি অভিযোগ করেন কানের ভেতর তোলা ঢুকে যাওয়ায় এ সরকারী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক (সেকমো) অমিত আচার্য ১৫০০ টাকা আদায় করে কানের তোলা বের করে দেন। চিকিৎসক নামক এসব কসাই রোগি ও স্বজনদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে রেফার্ডের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করে।


ණ☛ বড়লেখা পৌরসভার কাউন্সিলার জেহিন সিদ্দিকী জানান, রক্ত বের হওয়া রোগি দেখলেই কিছু ডাক্তার টাকা আদায়ের ধান্ধা শুরু করেন। টাকা না পেলে রেফার্ড করেন। সরকারী এ হাসপাতালে টাকা ছাড়া চিকিৎসা হয় না। এলাকার রোগীরা প্রায়ই এসব অভিযোগ নিয়ে তার কাছে আসেন।


ණ☛ উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার নূর নবী রোগীর নিকট টাকা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কেউ প্রমাণ দিলে যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। সেকমো অমিত আচার্য জানান, কারো নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন বলে মনে পড়ছে না।


ණ☛ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবেন।

লেখাটি ১০৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৫৪১১১৬৭৪



অনলাইন ভোট

image
জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের এ বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৪৮৪ জন

আজকের উক্তি

আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ না ছড়ানোর ব্যর্থতায় বিএনপির টপ-টু-বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের