রাজনীতি

'জনগনের জমায়েত আগাম বন্যা প্রতিরোধে সরকারকে সক্রিয় করে তোলবে'

image
Mon, July 24
04:14 2017

নজির হোসেন:


[এই লিখাটি জনগন ও সরকারের অকাল বন্যা প্রতিরোধে করনীয় ঠিক করা জন্য লেখা। আলোচনা এবং জন আন্দোলন শুরু করা হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা করনীয় ঠিক করতে ইতিবাচক অবদানের লক্ষ্যে গঠনমুলক আলোচনা করবেন আশা করি।পড়াশুনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা করনীয় ঠিক করতে অবদান রাখবে ভাল। সবার অংশ গ্রহনে একটা পথ বেরিয়ে আসুক এই প্রত্যাশাই রইলো]


১) আগাম বন্যা সুনামগঞ্জ বাসীর মহাবিপদ। এখনই করনীয় ঠিক করতে না পারলে চরম সংকটে পড়বে হাওড়পাড়ের জনগন। গত ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে। ছিটেফুটা ধানও তুলতে পারেনি কৃষক। কোন প্রকারে সহায় সম্বল বিক্রি করে,খেয়ে না খেয়ে ,অত্যন্ত অপ্রতুল সরকারী সাহায্যের উপর নির্ভর করে বেচে আছেন জনগন। ইতিমধ্যে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে অন্যত্র মাইগ্রেইট (স্থানান্তর) করতে শুরু করেছেন। আগামী বছর যদি ফসল রক্ষা না হয় ভাটি অঞ্চলের এই কৃষি সভ্যতা ঠিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংসয় দেখা দিয়েছে।


২) এখন জাতীয় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্দি পেয়ে ৪.৫ লাখ কোটি হয়েছে। আগে বিএনপি আমলে ২০০৫ সালে হাওড় বাধের বাজেট ছিল ৭.৫ কোটি টাকার মত। এখন সেটা দাড়িয়েছে ৬৭ কোটি টাকায়। অপার বউলায় এবং যাদুকাটা নদী খননের কাজ নাকি শুরু হতে যাচ্ছে। এই খননের সাথে সুনামগঞ্জের বন্যা নিয়ন্ত্রনের পরিকল্পনার কোন মিল আছে কিনা। সাংঘর্ষিক কিনা? এগুলি নিয়ে জনগনের ধারনা অস্পষ্ট। এখন মেঘালয় সীমান্তে কয়লা নির্ভর অর্থনীতি বিপর্যস্থ। কৃষি ও পর্যটন এর উন্নয়ন করে বাচতে হবে মানুষকে। কৃষির উন্নয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রন একান্ত দরকার। বন্যা নিয়ন্ত্রনে সরকারের বোধহয় এখন প্রকল্প ধারনা গড়ে ওঠেনি। ডুবন্ত বাধ তত্ব থেকে সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা বেরিয়ে আসতে পারেনি। কানাডিয়ান সিডার গবেষনার পর হাওড় উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা আরো একটি ইনটেলেকচুয়েল ডকুমেন্ট। কিন্তু বাজেট ভিত্তিক বরাদ্দে সরকারের মনোযোগের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছিনা। কি করবেন সরকার হাওড় অষ্ণল উন্নয়ের অথবা ছোট করে বল্লেসুনামগঞ্জের অকাল বন্যার প্রতিরোধে। আগামী বছরে আগাম বন্যা প্রতিরোধে এখন তো কর্মকৌশল ঠিক করা উচিত। জনগনকে তো অংশীদার করতে হবে ঐ কর্মকৌশলে। জনগনেরও উচিত নিজেদের কথা বলা। বিশেষতঃ টেন্ডার না পিআইসি? ডুবন্ত বাধ তত্ব না ২০ বছর সাময়িক সমাধান? নদী খননের মাটির মেনেজমেন্টটা কি? হাওড় দেওয়াল ও হাওড় গ্রাম তৈরি করা হবে কিনা ইত্যাদি। করনীয় ও দাবীনামা ঠিক করা।


৩) অকাল বন্যা প্রতিরোধে সরকারী কর্ম কান্ড হলো ৩৪ হাওরে ডুবন্ত বাধ দেওয়ার কৌশল। এতে সল্প মেয়াদী সমাধান হিসেবে ক্লোজার গুলিতে মাটির কাজ করা হয়,কিছু আফর মেরমত করা হয়। কিছ’ স্লু-ইস গ্যাইট মেরামত করা হয়। এটা এতই অপরিকল্পিত যে মনে হয় একদল বোকা লোক কিছু টাকা বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে উঠেছে। অকাল বন্যা হাওর এলাকার দীর্ঘ দিনের সমস্যা। ডুবন্ত বাধ ব্যবস্থা চালু আছে দীর্ঘ দিন যাবত। অকাল বন্যার স্থায়ী সমাধান এখনই করতে না পারলেও একটা দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান সম্ভব। ২০ বছর মেয়াদী সমাধানের চিন্তা করা যায়। রক্তি, যাদুকাটা, সুরমা, কংস এর পশ্চিম উত্তর অংশে একটা আদর্শ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। রক্তি,বৌলাই, পাটলই, ইত্যাদি নদী গুলি ৭ ফুট গভীরতায় খনন করতে হবে এবং হাওরের আফর গুলি ৪ ফুট উচু করলে ডুবন্ত বাধ কৌশলেও ২০ বছর অত্র এলাকা অকাল বন্যামুক্ত রাখা সম্ভব। নিম্নোক্ত হাওর গুলিকে নিয়ে ২০ বছর টেকসই প্রকল্প করা যেতে পারে। মাতয়িান হাওর, মহালয়িা হাওর, হালরি হাওর, চন্দ্রসোনার থাল হাওর, সোনামোড়ল হাওর, ধানকুনয়িা হাওর, , মহালয়িা হাওর, হালির হাওর, গুরমার হাওর জয়ধোনা হাওর, কাইল্যানী হাওর, ঘোড়াডোবা হাওর, গুরমার র্বধতিাংশ হাওর, রুই বিল। অত্র প্রকল্পে ৫৬০ কিঃ মিঃ বেড়ী বাধএবং ২৫৩৮১ হেঃ বোর ফসল অকাল বন্যামুত্ত হবে। এটাকে একটি আদর্শ প্রকল্প হিসাবে বাস্তবায়ন করে পরে অন্যান্য হাওরে তা প্রয়োগ করা।


৪ ৷ অকাল বন্যারোধে আরো কিছু সমস্যা:

** সরকারের ইচছামত বরাদ্ধ পদ্ধতি একটা তুগলকী ব্যাপার ছাড়া কিছুই নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্ষলিত ব্যয়ের ৫০% বরাদ্ধ পাওয়া যায় না। তখন দেহের অনুপাতে নয় টাকার পরিমানে পোষাক বানাতে হয়। অথচ আফর বাধ একটু ভাংলে সারা হাওর তলিয়ে সর্বস্ব শেষ হয় কৃষকের।

**অকাল বন্যার একটা আপদকালীন সময় আসে যখন আফর বাধ গুলি ভাংগার জন্য টুই টুই করতে থাকে।তখন জনগন স্বতঃফ’র্তভাবে বাধ রক্ষার সংগ্রামে নেমে পড়েন ঔ সময় সুতলী,বাশ,চাটাই অত্যান্ত জরুরী ভাবে কাজে লাগে। কিনতু সরকারী ভাবে কখনও একটি “আপদকালীন তহবিল ”বরাদ্ধ করেন না। দেখা গেছে সামান্য এক টুকরো সুতলীর অভাবে অনেক বড় বড় হাওড় তলিয়ে গেছে।

** অকাল বন্যায় হাওর রক্ষায় জনগনের অংশ গ্রহণ অত্যান্ত জরুরী, এ জন্য প্রতিটি হাওরের জন্য হাওর কমিটি করতে হবে। আপদকালীন সময়ে জনগনকে সেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্দ করতে হবে।

** ডুবন্ত বাধের কাজ অবশ্যই ফাল্গুনের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ করতে হবে।

** মাটির কাজ অবশ্যই জনগনের অংশিদারিত্ব মুলক প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে হতে হবে।

**হাওর উপযোগী উন্নত ফলনশীল ধান উদ্ভাবন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

** সুরমা কুশিয়ারার মিলন স্থল মেঘনার ভরাট অংশ খনন করতে হবে।

**প্রতি হাওরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাংগাল রাস্তা নির্মান করতে হবে।


৫) করনীয়:

ক ৷ জনগনের মতামত সভা করা

খ ৷ অচিরে নদী গুলি খননের পূর্নাংগ প্রকল্প প্রনয়ন করে আংশিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু করা

গ ৷ নদী খননের বর্তমান চালু কর্মসূচী বন্যা নিয়ন্ত্রনের মহা পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন কিনা যাচাই করা।

ঘ ৷ আফর বাধ মেরামতের জন্য মাটির কাজ পিআইসি করবে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনই ঘোষনা করা। পিআইসি গঠন সংক্রান্ত ২০০৫ সালের সরকারী পরিপত্র অনুসরন করা

ঙ ৷ ডুবন্ত বাধ ধারনা এখনই নীতিগতভাবে পরিত্যাগ করা এবং ক্রমান্নয়ে আপর ব্যবস্থাপনা অর্থনীতি বাসথবায়ন করা

চ ৷ আপর ব্যবস্থাপনা অর্থনীতির ধারনার সম্প্রসারন করা। (নদী খননের মাটি দিয়ে “হাওড় গ্রাম” “হাওড় দেওয়াল” তৈরি করা, ডাকারী জোন,মৎস্য মাগ্রশন রোড,হাওড় রোড,ফিস পাস,নৌকা পাস ,ফিস প্রসেস ইন্ডাষ্ট্রি ,ইকো ট্যুরিজম ইত্যাদির প্রকল্প প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।)

ছ ৷ পাকার কাজ টিকাদার গন করবেন

জ ৷ ইউনও প্রশাসন সরকারী পরিপত্রের অধীনে হাওড় কমিটি গঠন করবেন। হাওড় কমিটির নির্দিষ্ট টিআরও ঠিক করে দিবেন।

ঝ৷ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট লাইন মিনিষ্ট্রির সমন্নয়ে মূল তদারকি টীম গঠন করা (ইউএনও প্রশাসন,জেলা প্রশাসন,পরিবেশ, কৃষি, দুর্নীতিদমন, সাংবাদিক, সুশীল, কৃষক ইত্যাদি)

ঞ ৷ আপার বৌলাই ও যাদুকাটা নদী খননের শুরুর আগে জনগনের মতামত নেওয়া ৷

ট ৷ আফর রক্ষায় একটি আপদকালিন ফান্ড তৈরি করা (বাশ সুতলী চাটাই যোগাযোগের জন্য)

লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য।

লেখাটি ১১৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৫৯৩২৬৮৮৯

অনলাইন ভোট

image
জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের এ বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৩০ জন

আজকের উক্তি

আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ না ছড়ানোর ব্যর্থতায় বিএনপির টপ-টু-বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের