অর্থ বাণিজ্য

মৌলভীবাজারে জমজমাট চড়া সুদে ঋণ ব্যবসা: নি:স্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ!

image
Wed, August 2
11:25 2017

দুরুদ আহমেদ, মৌলভীবাজার:


ණ☛ মৌলভীবাজারে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে জড়িয়ে নি:স্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে চলেছেন দাদন ব্যবসায়ীরা। জেলাসদর থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, গ্রাম, পাড়া ও মহল্লার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মধ্যবিত্ত পরিবার এবং প্রায় প্রতিটি নিম্মবিত্ত পরিবার দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অবৈধ এ দাদন ব্যবসা সম্পর্কে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এমনই ভয়াবহ তথ্য। ক্ষুদ্র ঋণের নামে বিভিন্ন এনজিও এর দাদন ব্যবসার কাহিনী বেশ পুরনো। তাদেরই অনুসরণে এ ব্যবসা শুরু করে বিভিন্ন সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি।


ණ☛ সর্বশেষ, এনজিও এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতির অনুসরণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এ ব্যবসা শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তি। জামানত হিসাবে জায়গা-জমি বা গাড়ী-বাড়ীর মালিকানা কাগজপত্র ও অলিখিত নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চড়া সূদসহ নির্ধারিত দৈনিক কিস্তি পরিশোধের শর্তে বিভিন্ন শ্রেণীর হকার, ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী, ফুটপাতের যেকোন ধরণের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও যেকোন ধরণের ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী, বাসার কাজের বুয়া, রিকশাচালক, ঠেলাচালক, ভ্যান চালক, অটোরিকশা ও টমটমচালক প্রভৃতি শ্রেণীর মধ্যবিত্ত ও নিম্ম  বিত্ত লোকজনের মাঝেই এরা ক্ষুদ্র ঋণের নামে চড়া সূদের ব্যবসা পরিচালনা করে।


ණ☛ এরকম একজন দাদন ব্যবসায়ী হলেন- বাবু। তার সূদ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘শাহ মোস্তফা লোন’। এটির অবস্থান মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকার সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিস সংলগ্ন মমতাজ ভিলা’র ৪র্থ তলায়। সাইন বোর্ড বিহীন এ প্রতিষ্ঠানটির বৈধ বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার কাছ থেকে চড়া সূদে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা শহর ও শহরতলীর সহ¯্রাধিক মানুষ। সূদের টাকা আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন লোকজনের সাথে ঝগড়া বিবাদ এ অফিসের প্রতিদিনের ঘটনা।


ණ☛ শাহমোস্তফা লোন নামীয় প্রতিষ্ঠানটি ছাড়াও নতুনকুড়ি, মাতৃভূমি, বৃষ্টি, পাতাকুড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন নামের শতাধিক সূদ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে জেলাশহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায়। একইভাবে জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এ ধরনের অনেক সূদ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত সূদ ব্যবসায়ীর সংখ্যা সারা জেলায় কয়েক হাজারের বেশী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এসব সূদ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ সবাই নিজেদেরকে সরকার অনুমোদিত বৈধ ব্যবসায়ী বলে দাবী করেন।


ණ☛ অথচ, বৈধতার প্রমান দেখাতে অপারগতা জানান প্রায় সবাই। অবৈধ এ দাদন ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি ও বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনছেন দাদন ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে, দাদন ব্যবসায়ীদের চড়া সূদের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে শত শত পরিবার। ঋণগ্রহীতা অনেকে হচ্ছেন দেশান্তরী, অনেকে সহায়-সম্পদ বিক্রি করে হচ্ছেন পথের ফকির, অনেকে আশক্ত হয়ে পড়ছেন মাদকসেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে, অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক পেশায়।


ණ☛ এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস, জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস, পুলিশ প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে তারা সবাই জানান- বিষয়টি তারা খোজ নিয়ে দেখবেন এবং অবৈধ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু, এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন দফতরের কোন প্রকার পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

লেখাটি ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৩২৭২৭১৯

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৫১ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা