বিনোদন

এবার সামিরা নিজেই সালমান শাহ্ হত্যার বিচার চাইলেন; এফবিআই-ইন্টারপোল মোস্ট ওয়েলকাম, ভিডিও সহ

image
Wed, August 16
04:55 2017

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

ණ☛ এবার সামিরা নিজেই সালমান শাহ্ হত্যার বিচার চাইলেন। বললেন এফবিআই-ইন্টারপোল মোস্ট ওয়েলকাম। তিনি বলেন, এফবিআই-ইন্টারপোল আনলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। এসব কথা বলতে গেলে আমি অনেক আবেগ প্রবণ হয়ে যাই। আমার উপর দিয়ে অনেক ঝড় যাচ্ছে। আমিও চাই আসল সত্যটা বের হোক। তাহলে আমি শান্তি পাব।’

ණ☛ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার লাইফটা শুরু হয়েছিল প্রেসকে দিয়ে ইমনের হাত ধরে। ইমন যখন ছিল না আমি আর এই জীবনটা চাইনি। তাকে ছাড়া আমি আর এই প্রেসের মুখোমুখি হতে চাইনি। সবকিছু থেকে বের হয়ে এসে আমি একটা নরমাল লাইফ চেয়েছি। নরমাল লাইফ বলতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা।’

ණ☛ সামিরা বলেন, ‘তিনটা বছর একা একা কাটালাম। একটা সময় আমি ভেবেছি বিদেশ চলে যাব পড়াশোনা করতে। সেটা আর হয়নি। আমি ইমনের মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। তার স্মৃতি নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইলাম। তখন খুব প্রয়োজন বোধ করলাম যদি একটি সন্তান আমাদের থাকত! একটা সময় ইমনেরই বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। আমি তাকে ফিরিয়ে দেই। পরে তার পরিবার ও আমার পরিবারের প্রচেষ্টায় বিয়েটা হয়। আমি এখন ভালো আছি।’

ණ☛ তিনি বলেন, ‘যতদিন আমার এই পক্ষের শাশুড়ি বেঁচে ছিলেন আমার পুরনো শাশুড়ি কিন্তু চিৎকার চেচামেচি করেননি। অনেকদিন তিনি এসব নিয়ে কিছু বলতেন না। কারণ ইমনের মা আমার শাশুড়িকে হাড়ে হাড়ে চিনতেন। তারা প্রতিবেশী ছিল। যখনই আমার শাশুড়ি মারা গেলেন তিনি আমাকে নিয়ে নানা রকম ব্লেম দিতে শুরু করলেন নতুন করে। আমার সন্তানদের, আমার স্বামীর, আমার বাবা, মা, বোন ও তাদের পরিবারের যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে তার দায় নীলা চৌধুরীকে নিতে হবে। তার মিথ্যা কথার ফুলঝুড়িতে সালমান ভক্তরা আবেগের বশে আমাকে নিয়ে নানা বাজে কথা ছড়াচ্ছেন। আমার বোনদের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে এটা আমি। আমার বোনদের সন্তানদের দেখিয়ে বলা হচ্ছে আমার সন্তান। এদের কারো কিছু হলে দায়ী হবেন নীলা চৌধুরী।’

ණ☛ সামিরা বলেন, ‘সত্য কথা একটাই। সত্য কখনও দুইটা হয়না। মিথ্যে কথা বলতে গেলে প্যাচিয়ে বলতে হয়। একেকবার একেকবার জনের নাম বলতে হয়। আমি যা বলেছি সেটাই প্রমাণ হবে। ইন্টারপোল, এফিবিআই আসলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। আমিও চাই তারা আসুক।’

ණ☛ তিনি বলেন, ‘আমার শাশুরি (সালমান শাহের মা, নীলা চৌধুরী) বারবার বলেন যে- তিনি ইন্টারপোল, এফবিআই এর তদন্ত চান। আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি ওয়েলকাম জানাই। আমার জন্য আরো সুবিধা হবে প্রমাণ করতে যে, এটি আসলেই আত্মহত্যা, কোনোভাবেই হত্যা না। আল্লাহ আছেন উপরে। যত তদন্ত করা হোক না কেন আমার কোনো সমস্যা নেই।’

ණ☛ তিনি আরো বলেন, ‘এই মামলার সঠিক তদন্ত আমিও চেয়ে এসেছি। স্বামী খুনের অপবাদ আমি বয়ে বেড়াতে চাই না। এই তো সেই স্বামী যে আমার একটু সুখের জন্য কতো পাগলামি করেছে। আমিও তাকে প্রাণের মতো ভালোবেসেছি। সেইসময় যারা সালমানের কাছের মানুষ ছিলেন তারা সবাই জানেন এসব। আমাকে সালমানের মা ব্যক্তি আক্রোশ থেকে খুনের আসামি বলছেন।’

ණ☛ সালমান শাহের ভক্তদের উদ্দেশ্যে সামিরা বলেন, ‘আমার কথাগুলো সালমান শাহের ভক্তদের মানতে কষ্ট হবে। কিন্তু এটাই সত্যি। আমারও কষ্ট হয়। যার হাত ধরে বাবা, মা পরিবার ছেড়ে চলে এসেছিলাম তাকে হারিয়েছি ভাবতে। আজও ইমনের বিকল্প কেউ নেই আমার মনে। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয়। ইমনের মায়ের ভুল কথায় বিভ্রান্ত হয়ে, আবেগতাড়িত হয়ে তার ভক্তরা আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলেন, বাজে ধারণা করেন। কিন্তু কারো উপর আমার কোনো রাগ নেই, কষ্ট নেই। প্রথম থেকেই তারা সালমান শাহকে ভালোবাসেন।’

ණ☛ কাঁদতে কাঁদতে সামিরা বলেন, ‘সালমান শাহের ভক্তরা এতদিন এক তরফা শুনে এসেছে। তাই ওরা আমাকে দোষ দেয়। এতে ওদের কোনো দোষ নেই। এখন ওদের বোঝা উচিত। এখন অনেক কিছু আছে, সবকিছু মিলিয়ে দেখুক। কাগজপত্র, বিভিন্ন প্রমাণ, ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) রিপোর্ট, সিআইডি, জুডিশিয়াল রিপোর্ট দেখুক। সর্বশেষ পিবিআই দেখছে এখন। রিপোর্ট একই হবে ইনশাল্লাহ।’

ණ☛ সামিরা আরো বলেন, ‘আমি কিছুই করিনি। আমি কিছু করে থাকলে বাসায় বসে এই দোষ আমার কাঁধে নিতাম না। এখন এত বোকা কোনো বাংলাদেশের মেয়ে নেই। আর আমাদের দেশে শাশুরি-বউয়ের মধ্যে টুকটাক ঝামেলা থাকেই। কিন্তু আমার শাশুরি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইমনের মৃত্যুকে ‘ইনক্যাশ’ করতে চাইছেন। বারবার তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইমনের খুনি হিসেবে বলছেন- সামিরা-সামিরা-সামিরা। কেন? আমার ইমন (সালমান শাহ) যতদিন বেঁচে ছিল আমার শাশুরি কি সে সময় বোবা ছিলেন? কেন ইমন নিজে বলেনি? আমাকে নিয়ে কারো কাছে কোনো অভিযোগ করেনি? কারণ সত্যিটা হলো আমার কোনো দোষ ছিলো না। ইমন ওর মাকে পছন্দ করতো না। এটা ইমনের পরিবার, খালা-মামা ও তাদের বাচ্চারা জানতো। ফিল্মের লোকেরাও জানতো। ওর মাকে নিয়ে সবসময়ই ও মানসিক প্রেসারে ভুগতো। অনেক কষ্ট নিয়ে সে আলাদা হয়েছিলো মায়ের কাছ থেকে।

লেখাটি ২২৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Video




Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৫৯৩২৭০২৪

অনলাইন ভোট

image
জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের এ বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৩০ জন

আজকের উক্তি

আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ না ছড়ানোর ব্যর্থতায় বিএনপির টপ-টু-বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের