রাজনীতি

বাঁশের সাঁকোই ২০টি গ্রামের একমাএ যোগাযোগের মাধ্যম

image
Sun, September 10
03:50 2017

এম আরমান খান জয়,গোপালগঞ্জ:

ණ☛ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা ও ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। গত ৩০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কুমার নদী পার হচ্ছেন তারা। এতে করে কৃষকের পণ্য পরিবহন এবং রোগী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ණ☛ মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া ও সালথা উপজেলার কুমারকান্দা বাজারকে বিভক্ত করেছে কুমার নদী। ৩০ বছর ধরে এ নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে নদীতে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এ দুই উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া, কুমারকান্দা, কেশারদিয়া, জানবাগ, যদুনন্দী, অলসপুর, বালুচর, কামইদিয়া, ফুলবাড়িয়া, পশারগাতী, কাওয়ালদিয়া, পুরাতন মুকসুদপুর, কোনাকোনা, খাড়দিয়া, পিশনাইল, বেতালসহ ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলে একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠে বাঁশের সাঁকো। কৃষ্ণাদিয়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি বড় বাজার রয়েছে। ফলে সালথা উপজেলার অন্যান্য গ্রাম থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ শত শত মানুষ কৃষ্ণাদিয়ায় আসেন। এছাড়া সালথা উপজেলার ওইসব গ্রাম থেকে মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।

ණ☛ সালথা উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মাদ আবু জাফর বলেন, সালথার অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কৃষ্ণাদিয়া হাটে আসেন। এছাড়া ওইসব গ্রামের শিক্ষার্থীরাও কৃষ্ণাদিয়ার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রসায় পড়াশুনা করেন। চিকিৎসার জন্যও যেতে হয় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এসব শ্রেণিপেশার মানুষকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া মুমূর্ষ রোগী পারাপারে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

ණ☛ কৃষ্ণাদিয়া বাগুমৃধা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে স্কুল না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কৃষ্ণাদিয়ার প্রাইমারি ও হাইস্কুলে এসে ভর্তি হয়। এক্ষেত্রে তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সাঁকো। কুমার নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাব।

ණ☛ কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের কৃষক সুভাষ দাস ও মনা দাস বলেন, মুকসুদপুর উপজেলা সদরে অধিকাংশ শাক-সবজি কৃষ্ণাদিয়া হাট থেকে যায়। এসব সবজি কৃষ্ণাদিয়াসহ সালথা উপজেলার গ্রামে উৎপাদিত হয়। সালথার গ্রাম থেকে কৃষ্ণাদিয়া বাজারে সাঁকো পার হয়ে সবজি আনতে কৃষকের কষ্টের সীমা থাকে না।

ණ☛ কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাগু মৃধা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চৈতন্য কুমার পাল বলেন, হাটের দিনে হাজার হাজার মানুষ সাঁকো পার হয়ে কৃষ্ণাদিয়ায় আসে। এছাড়া প্রতিদিন দুই উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। কুমার নদীর উপর ব্রিজ নির্মিত হলে দুই উপজেলার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। মুকসুদপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল খালেক বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য কুমার নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে কৃষ্ণাদিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে কৃষ্ণাদিয়ার অদূরে ছিলমারী খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

লেখাটি ৭৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৫৯৩২৬৫৯৪

অনলাইন ভোট

image
জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের এ বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৩০ জন

আজকের উক্তি

আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ না ছড়ানোর ব্যর্থতায় বিএনপির টপ-টু-বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের