আন্তর্জাতিক

সুচির উচিত কি কারণে মুসলিমরা বাণের পানির মতো পালাচ্ছেন সে বিষয়টি পরিস্কার করা: দ্য ডন

image
Sun, September 10
05:41 2017

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

ණ☛ মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখা হয় অং সান সুচিকে। কিন্তু তিনি যদি রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়ে কথা বলতে ব্যর্থ হন তাহলে তার সেই অর্জনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এশিয়াজুড়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতনের প্রতিবাদ হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হচ্ছে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির। তার সমালোচনা করেছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডেসমন্ড টুটু, মালালা ইউসুফজাই। কিন্তু সুচি বলছেন ভিন্ন কথা। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সম্পাদকীয়তে এসব কথা লিখেছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।

ණ☛ ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মধ্যে মাঝে মাঝেই সহিংসতা দেখা দিয়েছে গত কয়েক বছরে। এক্ষেত্রে প্রতিবারই রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রীয় নৃশংসতার শিকার হয়েছে। তবে এবার সহিংসতার মাত্রা ও তা নিয়ে বিশ্বের সাড়া অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া গেছে। গত মাসে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিদের হামলায় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের কয়েকজন নিহত হওয়ার পর শুরু হয়েছে এবারের সহিংসতা।

ණ☛এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। বেশ কয়েকটি নৌকাডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সির মতে, যেসব রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছেন তারা ক্লান্ত শ্রান্ত, ক্ষুধার্ত। জরুরি ভিত্তিতে তাদের থাকার জায়গার দরকার।

ණ☛বৌদ্ধ উগ্রপন্থিদের পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও হামলার অভিযোগ আছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলছে, তারা গ্রামের পর গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। উপরন্তু মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর বলেছেন, মিয়ানমারে হত্যা করা হয়েছে কমপক্ষে এক হাজার মানুষকে। এর বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। দেশের সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমার ছেড়েছে বহু রোহিঙ্গা। তারা বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলোতে মাথা গুঁজতে পেরে স্বস্তি বোধ করছে। তবে শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব শিবিরে খাদ্য ও পানির মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

ණ☛এ ছাড়া মহামারী আকারে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সহিংসতার এই উত্থান ও রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ভয়াবহ অবস্থা দেখে পাকিস্তান সহ সারা বিশ্বের প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, জেনারেলদের বিরুদ্ধে এই সুচিই মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তার হৃদয়ে কাঁপন লাগে না। তিনি এক্ষেত্রে ভিন্ন মানুষ।

ණ☛ তিনি বলেছেন, রাখাইনে চলমান ঘটনা হলো মিথ্যার বিশাল একটি প্রচারণা হিসেবে। তবে এটা সত্য হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের প্রবাহ ও তা নিয়ে সামাজিক মিডিয়াতে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তাতে বলা যায়, হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে উৎখাত করা হয়েছে। এটা অনস্বীকার্য। অং সান সুচির উচিত কি কারণে মুসলিমরা বাণের পানির মতো পালাচ্ছেন সে বিষয়টি পরিস্কার করা।

লেখাটি ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৫৪১১১৩২৯



অনলাইন ভোট

image
জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের এ বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৪৮৪ জন

আজকের উক্তি

আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ না ছড়ানোর ব্যর্থতায় বিএনপির টপ-টু-বটম নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের