আন্তর্জাতিক

মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংক চুপ কেন?: জেসিকা ইভানস

image
Wed, September 13
09:33 2017

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

ණ☛ মিয়ানমার উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং সামরিক শাসনমুক্ত হয়ে সেনা সমর্থিত নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসছে এমন সময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্রুততার খুব আগ্রহ দেখিয়ে এনগেজড হয় বিশ্বব্যাংক। সেখানে গরিব ও বিপন্ন সক সব নাগরিকের স্বার্থে যায় এমন সংস্কারমুলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এমনটা বলার পর তাদের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রায় সম্পর্ক গড়ে তোলে বিশ্বব্যাংক। এর ফল হিসেবে মিয়ানমারে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ ২০০ কোটি ডলারের বেশি।

ණ☛ পুলিশ পোস্টে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থি, সশস্ত্র গ্রুপের আক্রমণের জবাবে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক শোচনীয়ভাবে নীরব রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রীয় নিষ্পেষণের শিকার রোহিঙ্গারা। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারা অন্যতম। মিয়ানমারের বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে তারা সবচেয়ে কোনঠাসা জাতি। জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গত দু’সপ্তাহে প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খুঁজছেন। এসব শরণার্থীর বর্ণনায় পাওয়া গেছে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, গোলা বর্ষণ আর তাদের গ্রামে অগ্নিসংযোগের তথ্য। এটাকে সরকারের জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। স্যাটেলাইটে পাওয়া নতুন ডাটা বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দেখতে পেয়েছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো ব্যাপকভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

ණ☛ ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতাকে বিশ্বব্যাংক এই বলে এড়িয়ে যায় যে, সেটা ছিল স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। তীব্র সমালোচনার পর ২০১৫ সাল থেকে তারা স্বীকার করতে তাকে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে উত্তেজনা উসকে দেয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এ বিষয়ে এখন আরো দূরে অগ্রসর হওয়া দরকার। মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো উচিত বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের। সরকার যখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে অগ্রগতি সাধারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তখন কিভাবে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর এই কঠোর হামলা হতে পারে এ বিষয়টিতে নজর দেয়া উচিত তার। মিয়ানমারের এই ঘটনায় সেখানে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

ණ☛ এ ছাড়া সেকানে দারিদ্র্য দূর করা ও অভিন্ন স্বার্থ উন্নীত করার যে জোড়া উদ্দেশ্য তাকেও খর্ব করে দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন এডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট- যেসব সুপারিশ করেছে তা বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে সহায়তার প্রস্তাব দেয়া উচিত বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব রয়েছে।

ණ☛ বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ কিভাবে মানুষ, সমাজ ও অর্থনীতির জন্য খারাপ হতে পারে তার ওপর এর আগে জোর দিয়েছেন জিম ইয়ং কিম। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার যে প্রচেষ্টা তাকে ব্যাংকের কর্মকান্ডে যুক্ত করা উচিত। এটা হতে পারে এ প্রতিষ্ঠানের জন্য তার লিগেসি। তা হবে যদি তিনি কেবল মারাত্মক নিয়ম লঙ্ঘন মোকাবিলা করেন। মিয়ানমারে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার বিরুদ্ধে তার কথা বলা শুরু করা উচিত।

(জেসিকা ইভানস হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস-এর সিনিয়র গবেষক/এডভোকেট)

(হিউম্যান রাইটস ওয়াচে প্রকাশিত তার লেখার অনুবাদ)

লেখাটি ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭১৬১৮৯৪৯

অনলাইন ভোট

image
ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আপনি কি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৬ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা