বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ব্লু- হোয়েল , সুইসাইড, অস্থির সভ্যতা এবং বিশ্বাসী হৃদয়ের মুচকি হাসি

image
Mon, October 16
04:22 2017

শেখ জাহিদ হাসান:

ණ☛ প্রেমিকার বিরহ সইতে না পেরে পৃথিবীকে চিরতরে গুডবাই জানানোর মত সাহসী প্রেমিকের সংখ্যা মোটেই কম নয়। বিশ্বকাপ আসর থেকে প্রিয় দলের বিদায় নাকি লজ্জার, বেদনার। এই লজ্জা এবং বেদনার জাম্বিল সাথে নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া দুর্দান্ত ক্রীড়াপ্রেমী দু'চার জনের অনুরাগের(?) খবর মিডিয়ার পাতায় ভাইরাল হয়। অনেক সময় পাবলিক পরীক্ষায় A+ না পেয়ে, মেডিকেলে চান্স না পেয়ে কিশোর কিশোরীরা জীবনকে নেই করে দেয়।

ණ☛ প্রায় সময় শোনা যায় পশ্চিমা বিশ্বের যুবক-যুবতীরা ঘোষণা দিয়ে, আয়োজন করে, একযোগে আত্মহত্যা করে। সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় বহুল আলোচিত 'ব্লু হুয়েল' তথা 'মরণ গেম'। এই খেলায় অংশ নেওয়া বুঝি জেনেশুনেই মৃত্যু উপত্যাকায় প্রবেশ করা। ৫০তম ধাপে আত্মহত্যার মধ্য দিয়েই নাকি খেলার পরিসমাপ্তি ঘটে। অবশ্য আমি বিষয়টাকে পাত্তা দেওয়ার পক্ষে নই। আর যাই হোক একটা খেলা কোনোভাবেই জীবন হন্তারক হতে পারেনা। শত শত মাইল দূরে থাকা একজন এডমিন আমার ইচ্ছা, আমার আবেগ, আমার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করবে- তা কি করে সম্ভব? নিজের ভালো পাগলেও বুঝে।

ණ☛ যারা 'ব্লু হোয়েলে' আসক্ত তারা পাগলের উপরের ধাপের 'মহা পাগল' টাইপের কেউ নয় ত, যারা ভালো-মন্দের তফাৎটা হারিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যে। ব্লু হোয়েলের এডমিন ৫০তম ধাপে আত্মহত্যার নির্দেশ দেয়। গেইমার তখন মানসিক বিকারগ্রস্থ থাকে এবং ভারসাম্য হারিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেয়। ৪৯তম ধাপ পর্যন্ত ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করা হয়।

ණ☛ প্রশ্ন হচ্ছে সে অন্যের খেলার পুতুল হতে যাবে কেন? প্রথম দিকের ধাপ যতই আকর্ষণীয় হোকনা কেন যখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতের উপর তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়, তখনই বুঝা উচিত এটা কোনো গেইম নয়। গভীর রাতে গোরস্তানে অবস্থানের যখন নির্দেশ দেয়, তখন বোধোদয় হওয়া উচিত এটা বিনোদন নয়।এটা ক্রাইম, এটা অপরাধ, এটা শয়তানী কর্মকান্ড। জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপ যখন ডিসগাস্টিং হয়ে উঠে, বেঁচে থাকার কোনো অর্থ যখন খুঁজে পায়না, তখন'ই আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয় মানুষ। চরম হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিরাই আত্মহত্যা করে। যার কাছে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য ক্লিয়ার নয়, পূনরায় সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যেতে হবে- এ অনুভূতি যার নেই, সে'ই তুচ্ছ কারণে জীবনকে ধ্বংস করার দু:সাহস (দু:সাহস নয়, কু-সাহস) দেখায়।মানসিকভাবে যারা দেউলিয়া হয়েছে, অত:পর তারাই আত্নহত্যা করে।

ණ☛ এ থেকে মুক্তির পথ তবে কি? পথ একটাই, তা হচ্ছে ইসলাম। ইসলামে সৃষ্টির রহস্য এবং জীবনের সৌন্দর্য্যের চমৎকার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিঁখুতভাবে বিবৃত করেছে ইসলাম। ইসলামে হতাশাকে কুফরী বলা হয়েছে। বিশ্বাসী ব্যক্তি কখনোই মানসিকভাবে দেউলিয়া হয়না। সে বিশ্বাস করে তার প্রতিটা মুহুর্ত এক সুপার পাওয়ার (আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ভালো-মন্দ, উত্থান-পতন সকল ক্ষেত্রে সে ঐ সুপার পাওয়ারের সন্তুষ্টি তালাশ করে। বাস্তবিক'ই দেখা যায় মুসলিম কান্ট্রিতে আত্নহত্যার প্রবণতা অতি অল্প( মুসলিম সোসাইটিতে নাই বললেই চলে)। উচ্চ পর্যায়ের অমুসলিম দার্শনিক, সাহিত্যিকের আত্নহত্যার উদাহরণ থাকলেও প্রাক্টিসিং সাধারণ মুসলিম কিংবা মুসলিম স্কলারদের আত্মহত্যার রেকর্ড আজো লিপিবদ্ধ হয়নি।

ණ☛ যার আল্লাহর সাথে লিংক রয়েছে, তার কাছে জীবনের সৌন্দর্য্য কখনোই ম্লান হয়ে ভেসে উঠেনা। সে 'ব্লু-হোয়েল' খেললেও (প্রকৃতপক্ষে একজন প্রাক্টিসিং মুসলিম এমন উদ্ভট এবং ফালতু বিষয়ে মজে যেতে পারেনা) মৃত্যু তাকে গ্রাস করতে পারেনা। ঐশির বাবা ঐশির হাতে মাসিক হাত খরচের জন্য লাখ খানেক টাকা তুলে দিতে পারলেও একখানা কোরআন তুলে দেননি। ব্যর্থতা এখানেই।

ණ☛ সভ্যতা এখন ব্লু-হোয়েলের ৪৯তম ধাপ অতিক্রম করছে। ধ্বংস অতি নিকটে। ৪৯তম ধাপে আটকে দেওয়া যায়না? হা যায়। জীবনের প্রতি একটু ভালোবাসা, জীবনকে একটু মূল্যায়ন, জীবনের উদ্দেশ্য গভীরভাবে পাঠ করার মাধ্যমেই সভ্যতার ব্লু-হোয়েলের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠা সম্ভব। আমাদের ফিরে যেতে হবে কোরআনের সেই আয়াতের দিকে যেখানে বলা হয়েছে, "বলুন- আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত"।

লেখকঃ সাংবাদিক ও সাহিত্যকর্মী।

লেখাটি ২৫০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৬২২৩৩৪৩৪

অনলাইন ভোট

image
রোডম্যাপহীন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে দেশ- মাহমুদুর রহমান মান্নার এ বক্তব্য যথার্থ বলে মনে করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ২৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা