রাজনীতি

কালীগঞ্জে স্কুল ছাত্রী সুমীর মৃত্যু রহস্য কি? হত্যা না কি আত্মহত্যা

image
Thu, December 7
01:40 2017

মোঃ ইউনুস আলী, লালম‌নিরহাট প্র‌তি‌নি‌ধি:

ණ☛ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কে ইউ পি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সুমী বেগমের মৃত্যু রহস্য কি? এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর উত্তর মেলেনি কালীগঞ্জ উপজেলাবাসীর। আসলেই কি সুমী আত্মহত্যা করেছিল না কি তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল! এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। সুমীর মৃত্যু রহস্য উৎঘাটনে সহযোগীতা চেয়ে প্রেসক্লাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ණ☛ প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়, কালীগঞ্জ হাসপাতাল সংলগ্ন ঔষধ ব্যবসায়ী জনৈক ফজলু মিয়ার বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন সুমীর বাবা দক্ষিন মুসরত মদাতী গ্রামের বাসিন্দা দুলাল হোসেন। এরই এক পর্যায়ে কালীগঞ্জ হাসপাতাল এলাকার দুলাল নামের এক ছেলের সাথে সুমীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি সুমীর বাবা জানতে পারলে গত ২৩অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে তার বাবা ও সুমীর বড় চাচা লাভলু মিয়া সুমীর মুখে কাপড় গুজে দিয়ে বেদম মারপিট করে। এক পর্যায়ে তার বাবা ও বড় চাচা লাভলু মিয়া সুমীকে বলে তুই গলায় ফাঁস দিয়ে মরিস না কেন? অপমান এবং আঘাতের ব্যথা যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ওই দিনেই সুমী বেগম তাদের ভাড়া বাসার বাথরুমে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে লাশ নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ দেখে বুঝতে পারে যে, সুমীর মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ নিয়ে তাদের বাড়ি যেতে বলে। পরে তারা সুমীর লাশ আবার বাসায় নিয়ে আসে এবং থানা পুলিশকে অবগত না করে লাশ নিয়ে দ্রুত গ্রামের বাড়ি দক্ষিন মুসরত মদাতী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করে।

ණ☛ এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আহসান হাবিব বলেন, ওইদিন তারা (সুমীর বাবা ও বড় চাচা লাভলু মিয়া) সুমীর লাশ নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। হাসপাতালে এন্ট্রিও হয়। পরে তারা লাশ নিয়ে চলে যায়। থানা পুলিশকে কেন অবগত করা হলো না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে থানা পুলিশ হাসপাতালে আসেনি।

ණ☛ সুমীর বড় চাচা লাভলু মিয়া সুমীকে পিটানো এবং আত্মহত্যা করার প্ররোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করায় লজ্জায় সুমী আত্মহত্যা করেছে। একটি কুচক্রি মহল তাদের হয়রানী করার জন্য এরকম কথা বলছে। কিন্তু লাশ দাফন করার আগে থানা পুলিশকে কেন জানানো হলো না, এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। নাম প্রকাশ না করার সর্তে কালীগঞ্জ হাসপাতাল এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্যেই পুলিশকে অবগত না করে তড়িঘড়র করে লাশের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কালীগঞ্জবাসী এই ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে চায়।

ණ☛ কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, ওই সময় এই থানায় আমি কর্মরত ছিলাম না। আসলে ব্যাপারটি কি ঘটেছিল তাই পরিস্কার করে বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া আত্মহত্যার কোন ঘটনা থানা অবগত হলে অবশ্যই থানায় ইউডি মামলা এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

লেখাটি ১২৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭১৬১৮৫৪৪

অনলাইন ভোট

image
ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আপনি কি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৬ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা