রাজনীতি

রোহিঙ্গা সমস্যা; ভারতের অবস্থা ঐ বুড়ির মতো!

image
Thu, December 28
04:53 2017

মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান (অব.):

ණ☛ আমরা দেখছি ভারত ,চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য। চীন মিয়ানমারের পক্ষে কারণ রাখাইনে সম্পদ আছে যা চীনের দরকার। চীন রাখাইন রাজ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর করেছে। গ্যাস এবং পেট্রোলের পাইপলাইন বসিয়েছে ওখান থেকে কুনমিং পর্যন্ত।

ණ☛ রাখাইন চীনের খুব প্রয়োজন কারণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সমুদ্র পথে নির্গমন যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এই রাখাইনই একমাত্র নির্গমন জলপথ চীনের জন্য। এই রাখাইন দিয়েই চীন বঙ্গপোসাগর হয়ে জলপথে বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। অতএব রাখাইন চীনের চাই চাইই ওটা নাহলে চীনের চলবেনা। তাই চীন মিয়ানমারের পক্ষে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। কারণ চীন জীবন মরণ সমস্যার মধ্যে আছে। তাই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মোংজালা (বাংলাদেশ) মরলো কি বাঁচলো চীনের মাথা ব্যাথার বিষয় নয়।

ණ☛ ভারতেরও একই অবস্থা। চীনের প্রতিপক্ষ হিসাবে রাখাইনে ভারতকে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই হবে। ভারতের নাকের ডগায় চীন এসে বসবে আর ভারত হাতপা গুটিয়ে বসে থাকবে তাতো হয় না। এটা কৌশলগত কারণ রাখাইনে ভারতকে থাকতেই হবে। ভারতের অবস্থা হয়েছে ঐ বুড়ির মতো কাদায় পিছলে যখন পড়েই গেছি তখন কোঁচোড় থেকে পান বের করে খাই। এটা করতে গিয়ে ভারতও রাখাইনে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়েছে।

ණ☛ মিয়ানমারের সম্পদে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে রাশিয়াও মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। তদুপরি রাশিয়ার নিজ দেশে চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতায়া এবং দাগেস্তানের মতো সমস্যা বিদ্যমান। তাছাড়া এই অঞ্চলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার দ্বারা চীন ও ভারতের না বন্ধু না প্রতিপক্ষ এমন অবস্থানে রেখে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চায়।

ණ☛ আমরা দেখেছি, ইতিমধ্যেই আমাদের দেখা হয়ে গেছে চীন, ভারত এবং রাশিয়া বাংলাদেশের মাথার উপরে কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে। রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে এসেছে খুন ধর্ষণ অগ্নি সংযোগ ও জাতিগত নির্মুলকরনের শিকার হয়ে।এই যুদ্ধাপরাধ যে দেশ করলো সেই মিয়ানমারের পক্ষে যেসব দেশ দাঁড়িয়ে জাতিসংঘে সমর্থন দেয় সেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্ষা করে আমরা আমাদের মাথায় তাদের কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে দেবো কোন যুক্তিতে?

ණ☛ যে রাখাইনের সম্পদ নিয়ে আজ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার মহা বিপদে ফেলেছে, যে রাখাইনের সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে চীন, ভারত, রাশিয়া সভ্যতা ভব্যতা নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নির্লজ্জ ভাবে যুদ্ধাপরাধী মিয়ানমারের পক্ষাবলম্ববন করে বাংলাদেশকে মহা বিপদে ফেলেছে সেই দেশ গুলিকে আমরা কেন রাখাইনের সম্পদ ভোগ করতে দেবো শান্তিতে?

ණ☛ দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে আছে শরণার্থী হিসেবে। বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের উচিৎ দুই/তিন লক্ষ রোহিঙ্গাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে ,কমান্ড সহায়তা দিয়ে রাখাইন রাজ্য স্বাধীন করতে পাঠাতে হবে। এটা করতেই হবে কারণ বিতাড়িত রহিঙ্গরা আর কতবার বিতাড়িত হবে? কতবার বাংলাদেশ এই পৈচাশিক নরমেধযজ্ঞ দেখবে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি স্বীকার কররে সামাল দেবে? রহিঙ্গরা মিয়ানমারের নাগরিক।রাখাইন তাদের মাতৃভূমি। রহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি স্বাধীন করার আজন্ম অধিকার আছে।

ණ☛ সামনে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। জনগণের উচিৎ হবে ঐ রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা যারা রহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরৎ পাঠাতে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনে রহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্য স্বাধীন করতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

লেখক: কলামিস্ট ও প্রাক্তন মহাপরিচালক বিডিআর।

লেখাটি ১২৪৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৪৮৭৪৪৯৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৭৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা