রাজনীতি

'মাদক ব্যবসায়ীর মটরসাইকেল বিক্রয়ের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিল পুলিশ!'

image
Tue, March 13
08:31 2018

বিশেষ প্রতিনিধি, নওগাঁ:

রক্ষক যখন- ভক্ষক! তখণ, করার আর কি... জন সাধারণের? কথায় আছে- মাছের রাজা ইলিশ। আর দেশের রাজা পুলিশ!

আসুন, এবার পুলিশের কাণ্ড জানি....

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশ হেরোইন ব্যবসায়ীর মটরসাইকেল আটকের এক সপ্তাহ দিন পর জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জনগণ পুলিশের এমন রহস্যজনক কারবারে আতঙ্কে ভূগছেন।

পুলিশ হেরোইন ব্যবসায়ীকে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এ্যাপাচি আরটিআর মডেলের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মটরসাইকেলটি জব্দ তালিকায় না নিয়ে ঘটনার এক সপ্তাহ পর গোপনে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সিদ্দিকুর রহমান ও এসআই তরিকুল ইসলামের মধ্যস্থতায় জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুনঞ্জন চলছে।

জানা গেছে, রাণীনগর থানাপুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালীন সময়ে গত ০৩/০৩/২০১৮ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই তরিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার নগর ব্রীজের দক্ষিন পার্শ্বে রাস্তার উপর থেকে কুজাইল গ্রামের মাওলানা আব্দুস সালামের ছেলে ও দূর্গাপুর মসজিদের পেশ-ইমাম মাওলানা মো: কেফায়েত হোসেন (২৪) কে তার দেহ তাল্লাশি করে পরিহিত পাঞ্জাবির ডান পকেট থেকে পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো ৪ শ’ ৪২ পুড়িয়া হেরোইন যার ওজন ২৬ গ্রাম সহ একটি ভারতীয় তৈরি টিভিএস কোম্পানির এ্যাপাচি আরটিআর মডেলের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের নতুন মটরসাইকেল আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এসময় হেরোইন ব্যবসায়ীর মূলহোতা উপজেলার কুজাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুর গফুরের ছেলে হেলাল হোসেন ওই গাড়িতে থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। এর পিছনেও রয়েছে অর্থ বানিজ্যের গোপন আতাত।

রাণীনগর থানাপুলিশ রহস্যজনক কারণে হেরোইনের পরিমাণ জব্দ তালিকা যথারীতি করলেও মটরসাইকেলটি ওই তালিকার বাহিরে রাখা হয়।

এব্যাপারে রাণীনগর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-০২, তারিখ ০৩/০৩/২০১৮ইং।

পরদিন ৪ মার্চ আটককৃত কেফায়েত হোসেনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আসামির স্বজনরা থানায় যোগাযোগ করলে চার্জসিট হালকা সহ নানান সহযোগিতার আশ্বাসের নামে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। চাহিদা মত এত টাকা কেফায়েত এর গরিব পিতার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব হলে থানা থেকে টাকা জোগানোর পরামর্শ হিসেবে ওই মটরসাইকেলটি বিক্রয়ের কথা বলে। দাম-দরের এক পর্যায়ে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সিদ্দিকুর রহমান ও এসআই তরিকুল ইসলামের মধ্যস্থতায় উপজেলার নিকাহ রেজিষ্টার কাজী বেলাল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

বিক্রয়ের টাকার মধ্য থেকে মাত্র ৭০ হাজার টাকা আসামী কেফায়েত এর বাবা মাওলানা আব্দুস সালামকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা পুলিশের মধ্যেই কম- বেশি করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুনঞ্জন চলছে।

আসামীর পিতা আব্দুস সালাম জানান, আমি গরিব ও অতি সাধারণ মানুষ, আমাকে তারা সহযোগীতা করবে মর্মে মটরসাইকেলটি তারা বিক্রি করে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। কত টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে সেটাও আমি জানি না।

মটরসাইকেল ক্রেতা কাজী বেলাল হোসেন জানান, আমি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে মটরসাইকেলটি গত ১০ মার্চ শনিবার থানা থেকে কিনেছি।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সিদ্দিকুর রহমান থানা থেকে মটরসাইকেল বিক্রির কথা অস্বীকার করে জানান, হেরোইন, রেজিস্টেশন বিহীন মটরসাইকেল সহ আসামী কেফায়েত হোসেনকে ওই দিন আটক করে থানায় আনা হয়। পরে বৈধ কাগজপত্র মূলে তার পরিবারের কাছে মটরসাইকেলটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেখাটি ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৯৯২৫৯১৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১২৬ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger