বিনোদন

পরকীয়াময় ভারতীয় অশ্লীল সিরিয়াল আমাদের যুবশক্তিকে সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে!

image
Sat, April 7
09:57 2018

এম আরমান খান জয়:

বাংলাদেশ পুরোপুরি এখন ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার! রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আগ্রাসনে বাংলাদেশকে কব্জা করার পর ভারত এখন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে বিজয়ী হবার পথে। বাংলাদেশের চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ হলেও, আমাদের সরকার ভারতীয় সব কয়টি চ্যানেল উন্মুক্ত করে রেখেছে।

বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সামাজিক ঐতিহ্য আজ চরম ভাবে হুমকির মুখে পড়েছে ভারতীয় অশ্লীল টিভি সিরিয়ালের কারণে। আর কত সমাজের অবক্ষয় হওয়ার পরে ভারতের নষ্ট সিরিয়াল, ভারতীয় চ্যানেল গুলো বন্ধ হবে বাংলাদেশে সম্প্রচার ? চরম মস্তিষ্ক বিকৃতি মূলক সিরিয়ালের একটি উদাহরণ দিচ্ছি এখানে , স্টার প্লাস সিরিয়াল,গোপি বাহূ নামক নাটক,সাথ নিভানা সাথীয়া,বিদ্যা মীরা,বিয়ে করলো,একই পরিবারের দুজনকে,নিজের বোনের শ্বশুরকে বিয়ে করলো মীরা যা দেশীয় সংস্কৃতি বিরোধী।

সিরিয়ালের পরিচালকের কি জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক লোপ পেয়েছে, এধরনের দৃশ্য আমাদের সমাজের কি ক্ষতি করবে তাঁর কোনো ধারণা আছে? মানে আপন দুই বোন একজন বিয়ে করেছে ছেলেকে আর অন্য বোন বিয়ে করেছে নিজের আপন বোনের স্বামীর পিতাকে!?? একই সংসারে এক বোন অপর বোনের শ্বাশুরি!?? এইসব সিরিয়ালের কারণে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, সিরিয়ালের কারণে শিশু পানিতে পড়ে মৃত্যু বা ঘরে আগুন লেগে সব পুড়ে ছাই, সিরিয়ালের পোশাকের জন্য আত্মহত্যা ইত্যকার ঘটনা এখন হরহামেশাই ঘটছে।

অনেক ভারতীয় টিভি চ্যানেল কিছু শিশু চরিত্রকে কেন্দ্র করে ড্রামা সিরিয়াল শুরু করছে। এই সিরিয়ালগুলো আমাদের দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে, শিশু চরিত্র হলেও তাদের ডায়ালগ, আচরণ ও মুখভঙ্গির মধ্যে কোনো শিশুসুলভ ব্যাপার নেই। এদের দিয়ে হিংসা, ঈর্ষার প্রতিযোগিতামূলক আচরণের অভিনয় করানো হচ্ছে। যা শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। এর ফলে আমাদের শিশুরা কী শিখছে? তাদের উপর কি এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না?

দেশের মোট টিভি দর্শনার্থীর ৮০ ভাগ নারী এবং নারীদের ৯০ ভাগেরও বেশি টিভি অনুষ্ঠান বলতে কেবল ভারতীয় সিরিয়ালে সীমাবদ্ধ। ভারতীয় এসব সিরিয়াল থেকে তবুও যদি ইতিবাচক কিছু শেখা যেত! এসকল ভারতীয় সিরিয়াল যেমন পারিবারিক শান্তি কেড়ে নিয়ে কুটনামি, পরকীয়া তথা নষ্ট সংস্কৃতির চর্চায় উদ্ভূদ্ধ করছে তেমনি খুঁটিনাটি কারনে ডিভোর্সের মত সর্বনিম্ন বৈধতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিরিয়ালের নেতিবাচক প্রভাব সমাজের সর্বত্র। দেশীয় ঐতিহ্যের ধারক যৌথ পরিবারগুলোকে ভেঙ্গে একক ও অনু পরিবারের রূপ নিচ্ছে। নষ্ট সংস্কৃতির চর্চায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অমূল্য সম্পর্কে দিন দিন দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। মা-মেয়ে এবং বাবা-ছেলেদের মধ্যে টিভি-রিমোট দখলের প্রতিযোগীতায় সাংসারিক অশান্তি নিত্যকার ব্যাপার।

পরিবারের ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের অন্তরায় হিসেবে পারিবারিক কলহ নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালে যে সব দৃশ্য সচরাচর দেখতে পাওয়া তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-অসম প্রেম, স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া, পারিবারিক ভাঙ্গন, বহু বিবাহ, বউ-শ্বাশুড়ীর ঝগড়া, সম্পত্তির কারণে ভাই-ভাই ঝগড়া, স্ত্রীর কূটনৈতিক চাল, ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা, সন্দেহ, অশ্লীলতা, আত্মীয়দের ছোট করা, অন্যকে বিপদে ফেলা, চুরি শিক্ষা, অপরাধ শিক্ষা এসব বিষয়ই হিন্দি সিরিয়ালের মূল বিষয়বস্তু।
ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে সবচেয়ে বিপর্যয় ঘটেছে আমাদের নৈতিকতার। একান্নবর্তি পরিবার এখন বিলীন হতে শুরু করেছে। পারস্পারিক পারিবারিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিলীন হতে শুরু করেছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তথাকথিত আধুনিকতার আগ্রাসন হানা দিয়েছে।

সারাদিন বাসায় সিরিয়াল দেখে সেলিব্রেটিদের জীবনাচরণ অনুকরণ করতে গিয়ে আমাদের মেয়েরা ধর্মীয় রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে উত্তেজক পোশাক-আশাকে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। তারা যখন রাস্তায় বের হচ্ছে তখন পিছু নিচ্ছে সোনার ছেলেরা। ঘটছে নানান অপকর্ম। হিন্দুয়ানী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে পরিবারে ভাঙ্গনের সাথে সাথে মারাত্মকভাবে ডিভোর্স বেড়ে গেছে। বাবা মা ভাই বোন একসাথে বসে এই সিরিয়ালগুলো দেখার কারণে পরিবারের মধ্যে বাঙালির ঐতিহ্যের লজ্জাশীলতা হারিয়ে গেছে। সব মিলে বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই ৮০% দায়ী বলে মনে করি।

বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যে কাজটি অনেক আগেই করা উচিৎ ছিল। একথায় বন্ধ করা উচিত। এতে আমাদের ছেলেমেয়ের এবং ঘরের বউদের পরকীয়া ও বড়দের প্রতি বেয়াদবি শেখায়।

পাকিস্তান আমাদের জোর করে উর্দু বলাতে চেয়েছে। আর এরা হিন্দি সিরিয়াল দিয়ে হিন্দি বলাচ্ছে। আমি মনে করি হিন্দি সিরিয়াল একটা নেশা। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

কী আর বলবো, একটা সময় আমাদের বাচ্চারা টিভিও ভালো করে চিনতো না, আর আজ তাদের মুখে মুখে স্টার জলসা, জি বাংলাসহ আরো কতো কী! পিচ্চি মেয়েটিও আজ কখনো পাখি ড্রেস, কখনো কটকটি ড্রেস আবার কখনো বা কিরণমালা ড্রেসের বায়না ধরে! সবই যে ঐ ভারতীয় সিরিয়ালের কল্যাণে! সেদিন আমার ছয় বছরের একটা আদরের বোন মাইসা বললো, ওর নাকি কিরণমালা ড্রেসসহ কিরণমালা খাতা, কলম এবং জুতাও আছে! মাঝে মাঝে আবার নিজেই কিরণমালা সেজে আমার কাছে কুমার এনে দেওয়ার দাবী করে! বললাম, এসব শিখলে কোত্থেকে? বলে যে, বাসায় সে মাঝে মাঝেই টিভিতে এসব অনুষ্ঠান দেখে! ওকে তো পিটিয়েও ফিরিয়ে রাখা যায় না! ৬ বছরের একটা বাচ্চার যদি অবস্থা হয় এই, তাহলে কী আর বলার থাকে! আজ গ্রামের সাধারণ ৫/৭ জন মহিলার ছোট্ট একটা বৈঠকেও দেখবেন সেখানে চলছে স্টার জলসা ও জি বাংলার যত্তসব ফালতু প্যাঁচাল! ভারতীয় সিরিয়াল একদিকে আমাদের দেশের সুস্থ সংস্কৃতিকে তো নষ্ট করছেই, অন্যদিকে খুব সুকৌশলে তাদের হিন্দুয়ানী অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আমাদের আম জনতার মন-মস্তিস্কে ঢেলে দিচ্ছে হিন্দুয়ানী যতোসব কালচার! ফলে, ক্রমেই এ দেশ ও জনতা হিন্দুইজম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যাচ্ছে!

কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির সংস্কৃতিকে আগে ধ্বংস করতে হবে আর ভারত আমাদের নীতিনির্ধারকদের দিয়ে সে কাজটিই করছে। এভাবে আর ১০ বছর গেলেই আমাদের না থাকবে মুসলমানদের কোনো সংস্কৃতি না থাকবে বাঙালি সংস্কৃতি!!

পরিশেষে,একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে, সেই দেশের যুবশক্তিকে সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়াটা খুব সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি ফলপ্রসু ব্যবস্থা। আজ আমাদের দেশ এমন কঠিন এক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের স্বীকার, যার ফলে যুব সমাজ পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে, আর পরিবার ধ্বংসের পথে। দেশের হর্তাকর্তারা এটাও দেখেও দেখেন না, শুনেও শুনেন না, বুঝেও বুঝেন না! ভাব করে বসে আছেন সব্বাই!!

যে অধিক সংখ্যক সাধারণ মানুষ, মিডিয়াকর্মী এবং সচেতন মহলের গুনীজন এ সকল ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবীতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক মানুষের আন্দোলনে সরকার অসংখ্য দাবী পূরণ করেছে অথচ কোন এক রহস্যজনক কারনে সরকার দেশের জন্য অমঙ্গলজনক এ চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি অথচ অত্যাবশ্যকভাবে করা উচিত
ছিল।

সরকারের সামন্য কিছু দোষ-ত্রুটি প্রকাশের কারনে কিংবা সরকারের বিরোধিতা করায় দেশীয় অনেক জনপ্রিয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হল অথচ দেশের সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ ভারতীয় যে চ্যানেলগুলো প্রত্যহ দেশের মানুষের শান্তি গ্রাস করছে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়াটা কতটা যৌক্তিক তা নতুন করে ভেবে দেখা উচিত । দেশীয় যে চ্যানেগুলোর সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে সেগুলো সরকার ও সরকার সমর্থক শ্রেণীর জন্য হুমকি হলেও সেগুলো রাষ্ট্রের অস্থায়ী ক্ষতি করছিল কিন্তু ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘকালীন ক্ষতির কারণ হবে।

যে ক্ষতির মাত্রা এখনও সম্পূর্নভাবে অনুমিত না হলেও নিকট ভবিষ্যতে বর্তমান প্রজন্ম যখন জাতির নেতৃত্ব দিবে তখন পুরোপুরিভাবে মাত্রা টের পাওয়া যাবে। সুতরাং সাবধান হওয়ার এটাই বোধহয় সর্বোত্তম সময়। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশী চ্যানেলগুলোকে ধারাবাহিকভাবে প্রথম রেখে অন্য দেশের চ্যানেলগুলোকে শেষে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো খুঁজে পেতে রিমোটের সবগুলো বাটন চাপতে হয়! সরকারের দায়িত্বশীলরা এসব ক্ষতিকর চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করলেও অন্তত জাতীয় স্বার্থে আমাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

এক কথায় বলতে দাদার শত্রু ছিল ব্রিটিশ বাবার শত্রু ছিল পাকিস্তান আর আমাদের শত্রু হলো ভারত। আমার মতে ভারতীয় সিরিয়ালের চ্যানেলগুলো বন্ধ করলে প্রতিটি বাসায় প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা কম খরচ হবে। ভারতীয় সিরিয়াল আসক্তদের মনে রাখা উচিত, ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত ১২টি সিরিয়াল আমাদের জাতীয় জীবনের ৬টি মূল্যবান ঘন্টা নষ্ট করে। কোন জাতির যদি উন্নতির স্বপ্ন থাকে তবে তারা ৬ ঘন্টা সময় অর্থহীনভাবে নষ্ট করার মত বোকামী করতে পারে না।

সভাপতি, গোপালগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব।

লেখাটি ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৭৯৭৪৬৯৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১০৬ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger