রাজনীতি

'ধর্ম ও উৎসবের মধ্যে কোন সংঘাত নাই'

image
Sun, April 15
07:26 2018

মেজর অব. মো. আখতারুজ্জামান:

ধর্ম এবং উৎসবকে যারা এক করে ফেলতে চান তারা প্রকারন্তরে ধর্মকে মানুষের সহজাত পছন্দ থেকে দুরে ঠেলে দেয়া চেষ্টা বলেই প্রতিয়মান হয়। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম মুলত একটি শাসন ব্যবস্থা যা আল্লাহ তাহলা মানুষের জন্য নির্ধারন করে দিয়েছেন। ধর্মে মানুষের জন্য কিছু করনীয় এবং কিছু নিষিদ্ধ যা মানা হলো ধর্মের অনুশাসন।

ইসলাম ধর্মে কি করনীয় এবং কি করনীয় নয় তা মুসলমান হিসাবে আমরা সবাই কমবেশি জানি বা জানার সুযোগ হয়। পৃথিবীর কোন জনগোষ্টির বা ধর্মের শতকরা একশত ভাগ মানুষ এক মানদন্ডে ধর্মকে মানে না। তাই ধর্মের অনুশাসনগুলি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য সকল ধর্মেই ধর্মগুরু বা শিক্ষক আছেন যারা ধর্মকে অবিকৃত রেখে নব নব পদ্ধতিতে চলমান প্রজন্মকে ধর্মের অনুশাসনের ভিতরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

এক সময় ধর্মের প্রচারকরা ধর্মহীন বা অবহেলিত বা দু:শাসনে আবদ্ধ জনগোষ্টিকে বিভিন্ন ধর্মের আওতায় আনার চেষ্টা করতো। কিন্তু এখন ধর্ম প্রচারকের প্রয়োজনিতা শেষ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। কিন্তু পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ এখন ধর্মের অনুশাসনকে আধুনিকতার বিপক্ষে দাড় করাতে চায়।

বিশেষ করে তরুন জনগোষ্টি যারা তাদের তারুন্যের প্রভাবে কোন প্রকার অনুশাসন মানতে চায় না, তা ধর্মেরই অনুশাসন হোক বা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় অনুশাসন হোক। তাই আমরা দেখেছি বিশ্বের চলমান ইতিহাসে নিয়নত্রীত সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা কমিউনিজম ঠিকে থাকতে পারে নাই।

একই ভাবে বলা যায় কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের কারনে সৌদি আরব বা ইরান বা তুরস্কের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থা বিভিন্ন চ্যালেজ্ঞের মুখাপেক্ষি হচ্ছে যেখানে পরিবর্তন অত্যাসন্ন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যে তরুনরা তার সময়ের ধর্মীয় অনুশাসন ভাঙ্গতে চায় সেই তরুনরা তাদের পড়ন্ত বেলায় ঐ পুরোনো অনুশাসন নিয়ে চলমান তারুন্যের সঙ্গে লড়তে চায় যার ফলে সংঘাত সৃষ্টি হয়। তরুনরা সবসময়ই বেগমান।

যেহেতু ধর্মে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় তাই তরুনরা ধর্মের প্রয়োগে পরিবর্তন আনতে চায় যার একটি উদাহরণ উৎসবের আয়োজন। তরুনরা তাই বিভিন্ন উৎসব নিয়ে মাতে যেখানে ধর্মের অনুশাসন শিথিল বা নমনীয়। তাই বাংলাদেশে যে কোন উৎসব সার্বজনিতা পেয়েছে এবং শিশু, কিশোর ও তরুন এবং নারী সমাজ যে কোন উৎসবে প্রানবন্ত হয়ে উঠে।

এমনকি ধর্মীয় অনুষ্টানে তারা তাদের মত করে উৎসব আমেজে মেতে উঠে। সাম্প্রতিক সবে বরাতের রাতে সারা রাত তরুনরা নামাজ নিয়ে মাতামাতি করে। দুই ঈদেতো ব্যপক উৎসব সবার মাঝে পরিলক্ষিত হয়। ব্যাপক উৎসবে তরুনরা মেতে উঠে বাংলা ও ইংরেজী নব বর্ষে। এগুলি তারুন্যের বহি:প্রকাশ যা শ্বাসত। এখানে ধর্মের অনুশাসন নিয়ে আসলে সংঘাত অনিবার্য। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে সেই চিরন্তন বানী “ মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়”।

পরিশেষে একটি কথা বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, জ্ঞ্যান ভিত্তিক সমাজ ব্যাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়। সংস্কৃতি মানুষের বিনোদনের জন্য, জীবন গড়ার জন্য নয়। জীবনে দাড়াতে পারলে সংস্কৃতি তথা বিনোদনের অনেক উপকরন সহজলভ্য হয়ে যায় কিন্তু জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে না পারলে জীবন ধুসর হয়ে যায় যেখানে ধর্ম ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকে না।

তাই বলতে পারি ধর্মের চাহিদা মানব জীবনে কখনই কমতি হবে না।

সবাইকে ধন্যবাদ। সবাইকে শুভ নববর্ষ।

সাবেক সংসদ সদস্য।

লেখাটি ১১১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৬৯৭০২৭১৯

অনলাইন ভোট

image
ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আপনি কি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৩২ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা