শিল্প ও সাহিত্য

এডুকেশন ওয়াচ’এর বিশেষ সম্মাননা পেলেন সুপা সাদিয়া

image
Fri, April 20
06:53 2018

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:

এডুকেশন ওয়াচ’এর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেলেন সুপা সাদিয়া। সম্প্রতি শিক্ষা বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন এডুকেশন ওয়াচ ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, চ্যালেঞ্জ এবং পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

এডুকেশন ওয়াচ সম্পাদকম-লীর সভাপতি কে.এম. খায়রুল বাশারের সভাপতিত্বে গত ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ বিকেলে শাহবাগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএনএম মেশকাতউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী ও ইভেন্স গ্রুপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিসেস শবনম শেহেনাজ চৌধুরী দীপা। সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালণলেয় শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু এবং এডুকেশন ওয়াচের সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান খলিল এবং এডুকেশন ওয়াচের নির্বাহী সম্পাদক সায়ফুল হক সিরাজী।

২০০৬ সালের মার্চ মাসে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর জনসংযোগ বিভাগে নির্বাহী হিসেবে যোগদান এবং বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন সুপা সাদিয়া। এডুকেশন ওয়াচ’এর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়ে ‘পায়রা নিউজ’কে সুপা সাদিয়া অনুভূতি জানান, ‘এ সম্মাননা পেয়ে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ, আমি অভিভূত। এ বিরল সম্মাননা আমি স্টামফোর্ডের প্রেসিডেন্ট প্রয়াত ড. এম. এ. হান্নান ফিরোজ স্যারকে সানন্দে উৎসর্গ করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি খুব জনপ্রিয় নয়, সবার প্রিয়জন হতে চাই। আজ বুঝলাম এডুকেশন ওয়াচের কাছে আমি প্রিয়জন। পুরস্কার অবশ্যই কাজে দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। আমি গবেষণা কাজ অব্যাহত রেখেছি, আর রাখবো। পাশাপশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজ চালিয়ে যাবার প্রত্যাশা করছি।

সুপা সাদিয়াকে এই বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে তিনি এমন একটি চ্যালেঞ্জিং পেশার পাশাপাশি গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিবেচনায়। তরুণ গবেষক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। এই পরিচিতির কারণ তার প্রকাশনা। ২০১১ সালে ৫২ এর বায়ান্ন নারী প্রকাশিত জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে। এর দ্বিতীয় সংস্করণ(পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত) প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে কথা প্রকাশ থেকে। ৭১ এর একাত্তর নারী ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় কথা প্রকাশ থেকে। ‘অগ্নিযুগ’ শিরোনামে গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে দ্যু প্রকাশন।

‘একাত্তরের ৭ বীরশ্রেষ্ঠ’ এ বছরই প্রকাশিত হচ্ছে দ্যু প্রকাশন থেকে। ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী’ তার পরবর্তী গবেষণা কাজ নিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন। তিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সে গবেষণা কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এছাড়া তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হল ২০০৫-২০০৬ সালে গণিত শিখি ০-৩, ৪ টি বই প্রকাশিত প্রিসমেটিক কালারস থেকে। ২০০৭ সালে স্মরণীয় দিনপঞ্জি প্রকাশিত জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে।

এর পাশাপাশি সুপা সাদিয়া ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৮-২০১০ সালে দৈনিক বাংলাদেশ সময়-এ সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৩ সালে প্রথম লেখা দৈনিক দক্ষিনাঞ্চল পত্রিকায় ‘চাদের দেশে মানুষ’ প্রকাশিত হয়। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় দুই-শতাধিক ফিচার প্রকাশিত এবং তিনি নিয়মিত লিখে চলছেন। সম্প্রতি ইস্পাহানি মির্জাপুর চা এবং দৈনিক সমকাল আয়োজিত ‘মুক্তিযোদ্ধার কাছে চিঠি লেখা’ প্রতিযোগিতায় ৪ সেরাদের একজন হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ২০১২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি’র সদস্য পদ লাভ করেন। তিনি প্রগতি লেখক সংঘের একজন সদস্য।

সুপা সাদিয়া। মহাত্মা অশ্বিনী কুমার, জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল, মুকুন্দ দাসসহ অনেক মহতী ব্যক্তির শহর বরিশালে জন্ম ১৯৮০ সালে । বরিশাল থেকেই ১৯৯৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ। গণিত ও উচ্চতর গণিতে ৯০ এর বেশি নম্বর পাওয়া এবং স্টার মার্কসসহ পাশ করায় মনোরমা বসু মাসিমা বৃত্তি লাভ করেন তিনি। এরপর সরকারি ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২০০২ সালে গণিতে স্নাতক (সম্মান) ও ২০০৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে। তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

মূলত বাঙালি পরিবার। দাদা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এর সাথে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন। বড় চাচা ছিলেন ন্যাপের প্রথম সারির কর্মী। একমাত্র মামা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। বাবা বদিউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত। মা তাহমিনা রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলেন। এক ভাই ও এক বোন দুজনই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। মুক্তমনা মানুষ অপু হাসানের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ, একমাত্র সন্তান অভ্র।

বহুমুখী প্রতিভাধর এই নারী লেখাপড়ার পাশাপাশি জড়িত হয়ে পড়েন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সাথে তিনি যুক্ত ছোটবেলা থেকে। এছাড়া বরিশাল নাটক, প্রান্তিক সংগীত বিদ্যালয়সহ আরো বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত। তিনি সন্ধানী, বন্ধুনীড়সহ বেশ কিছু সামাজিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্য। তিনি ফটোগ্রাফি, সাইকেল চালানো এবং সাতারে বেশ দক্ষ।
সুপা সাদিয়া শিক্ষানুরাগী হওয়ায় কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে ঢাকার গাজীপুরস্থ ইন্টারন্যাশনাল এঞ্জেল এসোসিয়েশন এর ইউরিকো এঞ্জেল স্কুলে গণিত বিষয়ে শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন।

গ্রন্থনা: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। উপদেষ্টা সম্পাদক, পায়রা নিউজ। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ, বাংলাদেশ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ।

লেখাটি ১৬৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৩১১৮৮২৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৪৩ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা