রাজনীতি

আবার শুরু হয়েছে মাইনাস টু ফরমূলার বাস্তবায়ন!

image
Tue, April 24
07:13 2018

মোবায়েদুর রহমান:

আবার শুরু হয়েছে মাইনাস টু ফরমূলার বাস্তবায়নের কাজ। তবে সেবার অর্থাৎ ১/১১ এর জরুরী সরকারের সময় দুই জন নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন মিলিটারি কন্ট্রোলড সরকার। তবে ওপরে ওপরে মাইনাস টুর কথা বলা হলেও সেটি ছিলো আসলে মাইনাস ওয়ান ফর্মূলা বাস্তবায়নের চক্রান্ত। আর সেটি হলো মাইনাস টুর আড়ালে মাইনাস ওয়ান অর্থাৎ বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চক্রান্ত।

জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে মাইনাসের কথা বলা হলেও ইন্দো মার্কিন যৌথ প্রকল্পের অধীনে শেখ হাসিনার প্রধান মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই মাইনাস টু ফর্মূলার আপাত অবসান হয়।

৯ বছর ৪ মাস পর সেই মাইনাস টু ফর্মূলা বাস্তবায়নের চক্রান্ত জোরদার হয়েছে। এবারও টার্গেট দুইজন । শেখ হাসিনার স্থলে এবার টার্গেট হলেন বিএনপির অস্থায়ী চেয়ার পার্সন তারেক রহমান। মাইনাস টু ফর্মূলার অধীন বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে বেগম জিয়াকে ইতো মধ্যেই জেলে ঢুকানো হয়েছে। ৫ বছরের সাজা বহাল রেখে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য বলে ঘোষণা করার ব্যবস্থা পাকা করা হয়েছে। এখন ধরা হয়েছে তারেক রহমানকে। তাকে একেবারে নাগরিকত্ব অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিক থেকেই খারিজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাজারে অতীতে গুজব ছিল যে, মামলা মোকদ্দমার কারণে তারেক রহমান যদি ইলেকশন করতে না পারেন তাহলে তার স্ত্রী ড. জোবায়দা রহমান ইলেকশন করবেন। এখন দেখা যাচ্ছে জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জায়মা রহমান সহ তারেক রহমানের পুরো গোষ্ঠীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ঘোরতর চক্রান্ত চলছে।

এবার চক্রান্তের হাতিয়ার হলো তারেক রহমানের পাসপোর্ট বিতর্ক। বিশাল সফর সঙ্গী নিয়ে প্রধান মন্ত্রী লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন এবং তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। সকলেই জানেন যে , ঐ অনুরোধে কোনো কাজ হবে না। তাই এখন তার পাসপোর্ট নিয়ে লেগে পড়েছে এই সরকার। বাংলাদেশ হাই কমিশন তো সরকারের অধীনে। সেই হাই কমিশন থেকে তারেক রহমানের পাসপোর্টের কয়েকটি পাতা ফটোকপি করে মিডিয়াতে ছেড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পাসপোর্টের ঐ কয়েকটি পৃষ্ঠা গণমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছেন যে, তারেক রহমান তার বাংলাদেশী নাগরিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন।

দূতাবাস বা হাই কমিশনে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সাথে নাগরিকত্ব বিসর্জনের সম্পর্ক কি? ইমিগ্রেশন সম্পর্কে যাদের মিনিমাম নলেজ রয়েছে তারা আওয়ামী প্রোপাগান্ডাতে হত বিহবল হয়েছেন। অন্যদের কথা বাদ দিন। খোদ আওয়ামী সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যরিষ্টার শফিক রহমান বলেছেন যে, ইংল্যান্ডের নাগরিক হওয়ার জন্য তিনি সাময়িক ভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাই কমিশনে জমা রাখতে পারেন। অনুরূপ মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহ্ধীন মালিক। তার মতে, পাসপোর্ট থাকা না থাকার ওপর নাগরিকত্ব নির্ভর করে না। আর পাসপোর্ট তো হলো একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। তারেক রহমান সপরিবারে তাদের ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভের জন্য। এখানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনের প্রসঙ্গ আসে কিভাবে? অভিযোগটি যখন আওয়ামী লীগের একজন প্রতি মন্ত্রী তুলেছেন তখন সে অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্বও ঐ প্রতি মন্ত্রীর। এটি আইনের বিধান।

তারেক রহমান পলিটিক্যাল অ্যাসাইলামে ব্রিটেনে আছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তারেক রহমান সম্ভবত সেই সব শর্ত পূরণ করেছেন।এখন সম্ভবত তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন এবং সম্ভবত সেটি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিষয়টিকেই সম্ভবত সম্পূর্ণ উল্টা ভাবে চিত্রিত করেছেন আওয়ামী লীগ সরকার এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্রিয়ার আলম।

বেগম জিয়া কারাগারে। তার অনুপস্থিতিতে তার পুত্র তারেক রহমান অস্থায়ী ভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন। একজন পাগল ও উন্মাদও বোঝে যে বাংলাদেশের নাগরিক না থাকলে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব করা তো দূরের কথা, একজন সাধারণ সদস্যও থাকা যায় না। আর তারেক রহমান এবং বিএনপির উচ্চ শিক্ষিত নেতৃ বৃন্দ এই সহজ সরল সত্যটি বুঝবেন না যে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বিসর্জন দিলে তিনি বিএনপির সাধারণ সদস্যও থাকতে পারেন না। এই কান্ড জ্ঞান টুকু বিএনপির র্যাংক এ্যান্ড ফাইলের মধ্যে আছে। তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন , তিনি বাংলাদেশের নাগরিক আছেন এবং ভবিষ্যতেও মৃত্যু পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক থাকবেন। তবে যদি তারা ইচ্ছা করেন তাহলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ডুয়াল সিটিজেন শিপও রাখতে পারেন। যেমন রেখেছেন আওয়ামী লীগের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং আরো অনেকে।

আওয়ামী লীগ যত চেষ্টাই করুক বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানকে মাইনাস টু ফর্মূলা করে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশ থেকে বহিষ্কার করতে সক্ষম হবেন না।

লেখক, কলামিস্ট ও এসোসিয়েট এডিটর, দৈনিক ইনকিলাব।

Email: [email protected]

লেখাটি ৬০২ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭১৬৮৩৯৩৪

অনলাইন ভোট

image
ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আপনি কি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৭ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা