রাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে বিআইআইটির সেমিনার অনুষ্ঠিত

image
Wed, May 16
10:41 2018

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:

আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক থ্যট (বিআইআইটি) গত মঙ্গলবার (১৫ মে ২০১৮) উত্তরাস্থ কনফারেন্স হলে ‘Family: A Primary Institute of the Ummah’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। উক্ত সেমিনারে প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার অংশগ্রহণ করে।

বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট সায়েন্স জার্নালিষ্ট, লেখক, গবেষক এবং বিআইআইটি’র সম্মানিত ফেলো মেম্বার জনাব মীর লুৎফুল কবির সা’দী। প্রবন্ধের উপর মূল্যবান আলোচনা রাখেন ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং এ- রিসার্চ একাডেমির ফ্যাকাল্টি মিসেস মাসুমা বেগম। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, ইসলামি গবেষক, বিশিষ্ট নারীবাদী ও বিআইআইটি ট্রাষ্ট-এর চেয়ারম্যান জনাব শাহ্ আব্দুল হান্নান।

মূল প্রবন্ধকার জনাব মীর লুৎফুল কবির সা’দী বলেন, মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত। তাই মানুষকে যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সে উদ্দেশ্য যথাযথভাবে পালন করতে হলে মানুষকে পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখতে হবে। সেটা করতে হলে তাওহিদভিত্তিক পরিবার গঠন করা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো উপায় নাই। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. ইসমাইল রাজী আল-ফারুকীর লেখা আত-তাওহিদ বইটির কথা উল্লেখ করে বলেন, আজ এই পরিবার দিবসে আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে কীভাবে দু’জন মানুষের মধ্যে টসসধঃরংস-এর ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কীভাবে দু’জন মানুষ টসসধঃরংস-এর ভিত্তিতে ভালোবাসা, হৃদ্যতার সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারবে? জনাব সা’দী ড. ইসমাইল রাজী আল-ফারুকীর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বলেন, ১০জন ১০জন করে পরিবার নিয়ে ধীরে ধীরে আমাদেরকে টসসধঃরংস ধারণার দিকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং এ- রিসার্চ একাডেমির ফ্যাকাল্টি মিসেস মাসুমা বেগম বলেন, আমাদের পরিবার ফোরাম থাকা অবশ্যই দরকার। কিন্তু তিনি অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পরিবারগুলো আজ ভাঙ্গনের মুখে। একদল পুরুষ মনে করেন নারীরা ঘরকন্যা করবে, তাদের বহির্জগতে পদচারণার দরকার নাই আর একদল মনে করেন নারীদের ঘরের বাইরে আসা দরকার। নারীরা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে এটা হয় না। এভাবে পুরুষরা নারীদের প্রান্তিকভাবে দেখেন। পরিবার ভাঙ্গনের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে মিসেস মাসুমা বেগম বলেন, বিয়ের সময় স্বামী স্ত্রীকে তার সমকক্ষ মনে করলেও পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সময়ের সাথে সাথে মেয়েদের জ্ঞানের পরিধি না বাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডি থাকে না। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দুরত্ব বাড়তে থাকে যার ফলশ্রুতিতে পরিবারগুলো ভাঙ্গনের মুখোমুখি হচ্ছে। আর এ ভাঙ্গন থেকে পরিবারকে রক্ষার জন্য তিনি স্বামী এবং স্ত্রী উভয়কে আল্লাহ তায়ালা কোন্ প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি করেছেন তা যথাযথভাবে বুঝে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, ইসলামী গবেষক, বিশিষ্ট নারীবাদী ও বিআইআইটি ট্রাষ্ট-এর চেয়ারম্যান জনাব শাহ্ আব্দুল হান্নান বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, শুরু থেকেই পরিবার প্রথা ছিল। আর ইসলামও শক্তিশালী পরিবার গঠনের উপর জোর দিয়েছেন। যদি তা না হতো তাহলে আল্লাহ তায়ালা শুধু হযরত আদম (আ.) অথবা শুধু বিবি হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করতেন। ইসলামে পরিবারের গুরুত্ব বুঝাতেই আল্লাহ তায়ালা তা না করে হযরত আদম (আ.) এবং বিবি হাওয়া (আ.) দু’জনকেই সৃষ্টি করেছেন।

পাশ্চাত্যবাদীদের কেউ কেউ পরিবারের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিলেও পাশ্চাত্যবাসী আজ হতাশ তাদের সমাজের বর্তমান অবস্থা দেখে। পরিবার ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে দেখা যায়, ফ্রান্সে প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ কুকুরের সাথে বসবাস করছে, মানুষ হয়েও তারা অন্য একজন মানুষকে বিশ্বস্ত¡ মনে করতে পারছে না। জনাব হান্নান বলেন, পরিবারের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই জাতিসংঘ ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নির্বিশেষে সবাইকে এমন দিবস পালনের আহ্বান জানান যাতে পরিবার প্রথাকে আমরা আরো শক্তিশালী করতে পারি।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজ বলেন, জাতিসংঘ এ বছর আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসের যে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছেন (ঋধসরষরবং ধহফ ওহপষঁংরাব ঝড়পরবঃরবং) তা অত্যন্ত সময়পোযোগী। কারণ সমগ্র বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভিত্তি হিসেবে পরিবারের ভূমিকা আজো অপরিসীম। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পরিবারের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও দৃঢ় বন্ধনের কারণে পরিবার এখনো প্রতিটি মানুষের কাছে সর্বপ্রথম বিদ্যাপীঠ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পায়রা.নিউজকে একান্ত সাক্ষাতকারে বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজ বলেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অনুসরণ করে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পারিবারিক বন্ধন অস্বীকার করে নিকটজনকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, তারা পরোক্ষভাবে আমাদের চিরাচরিত সমাজ-ব্যবস্থাকেই অস্বীকার করছে। আমাদের জাতিগত যে একটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আছে নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি তাকেই অস্বীকার করছে। আমাদের বুঝতে হবে, অন্যের কাছ থেকে ধার করা কোন কিছুতেই গৌরব নেই। বরং তা আমাদের জন্য অপমান।

এ প্রসংগে পায়রা.নিউজকে তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে ওহপষঁংরাব ঋধসরষু’ও ধারণা বাড়াতে হবে এবং পরিবারকে সদস্যদের মধ্যে শেয়ারিং প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ঋধসরষু গধহধমবসবহঃ ঈড়ঁৎংব প্রবর্তন করা ও এ সম্পর্কিত ওহংঃরঃঁঃব প্রতিষ্ঠা করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করে। তিনি মুসলমানদের রক্তের সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখার ওপর জোরালো তাগিদ দেন এবং মুৃসুলম পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য অক্ষুণœ রেখে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারে অনাবিল সুখ-শান্তি বিরাজ করুক এ প্রত্যাশা করেন।

গ্রন্থনা: ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। উপদেষ্টা সম্পাদক, পায়রা নিউজ। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ, বাংলাদেশ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ।

[email protected]

লেখাটি ৪৮ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭১৬৮৪২০৯

অনলাইন ভোট

image
ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আপনি কি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৬৭ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা