ফল প্রত্যাখ্যান; সিইসি’র পদত্যাগ দাবি বিএনপির

রাজনীতি

ফল প্রত্যাখ্যান; সিইসি’র পদত্যাগ দাবি বিএনপির

image
Thu, May 17
03:21 2018

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে সিইসি কেএম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।

গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয় নিশানে হাওয়া লাগে না। খুলনা সিটি নির্বাচনে নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি নির্বাচনে বেশির ভাগ ভোটারকে ভোট দিতে না পেরে কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ্য নেই, যোগ্যতাও নেই। নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ভোট-ডাকাতির দক্ষযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করল জনগণ। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা যেভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, তা কোনো সুস্থ নির্বাচন পদ্ধতি হতে পারে না। আমি দলের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার লজ্জায় গণমাধ্যমের সামনে না এলেও ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন, খুলনায় চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। উনি ঠিকই বলেছেন, উল্লিখিত ভোটের পরিবেশই হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন। যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে। কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়। পুলিশের সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট-ডাকাতির উৎসব চলে। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়। কেন্দ্র দখল করে আধা ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ ভোট দেয়া হয়। ভোটকেন্দ্রের বাইরে মুখোশধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢোকানোর পর ভোট নেয়া হয়। কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জাল ভোটের উৎসব চলে। সে রকম নির্বাচনকে তো ‘চমৎকার’ বলবেনই নির্বাচন কমিশন। বিএনপির মুখপাত্র দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের উপস্থিতি ৬৫ শতাংশের ওপরে বললেও মূলত সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। সন্ত্রাসীদের হামলা ও বাধার কারণে অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটাররা যেতে পারেনি।

তিনি বলেন, ভোটের দিন নৌকার প্রার্থীর লোকজনদের ছিল সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা। গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) লাইন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট দিয়েছে। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিংয়ে’ সহায়তা করেছে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে। কোথাও কোথাও অবশ্য আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের বলপ্রয়োগ করে বের করে দেয় এবং কোথাও কোথাও মারধরও করে। ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। ওদিকে মঙ্গলবার রাতেই খুলনা নির্বাচন নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, খুলনা সিটি করপোরশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাস দিয়ে বিএনপির কর্মীদের কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টেদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন।

তিনি বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হলো এ সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। না হলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যা-ই হোক নির্বাচনের পরিবেশ এত খারাপ হতো না। প্রধান নিবাচন কমিশনারের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, যখন সংবাদ এলো ১টার পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হয়েছে। তখন সিইসিকে ফোন করে বলি, খুলনার নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি আমাকে বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। আমি যখন বললাম, আমি আপনাকে সোর্স বলছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বললেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি।
তখন আমি সংবাদ মাধ্যমগুলোর নাম বললে তিনি বলেন আমি দেখছি। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তখনও তিনি বলেছিলেন, আমি দেখছি। তিনি শুধুই দেখছেন। এ সময় তিনি খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেন।

লেখাটি ৭১৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৬৪২০১৩৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৯৪ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger