রাজনীতি

বিকাশমান বাংলাদেশের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

image
Thu, May 31
10:20 2018

নজির হোসেন:

১) ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের অপূঁজিবাদী একটি মিশ্র অর্থনীতি চালু হয়। আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতি ও শাসন পদ্ধতি কি হওয়া উচিত সে ব্যাপারে একেবারেই দিশেহারা হয়ে যায়৷ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নামের ইউটপিয়া আওয়ামী যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং তখনকার শাসকগোষ্টির চিন্তা ও শাসনকে অস্থির করে তুলে।

এশিয়টিক মোড অব ডেমক্রিসির এই অঞ্চলের স্বরূপ উন্মোচনের রাজনৈতিক মেধা আওয়ামী লীগে দৃশ্যমান হয়নি৷ ফলে তখনকার শাসকগোষ্টি ভুল পথে ধাবিত হয়ে বহুদলীয় শাসনের কমিটমেন্ট থেকে সরে গিয়ে বাকশাল গঠন করেন৷

কমিউনিষ্ট পার্টি আওয়ামী লীগকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিপথগামী করে৷ শিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে শিশু পূঁজিবাদকে হত্যা করা হয়৷ এশিয়ার পাশ্চাত্য অর্থে পূঁজিবাদ গড়ে ওঠেনি
বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

পূঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিকে ধারণ করে কৃষি বিপ্লবই ছিল মুল করণীয়। আওয়ামী লীগ তা না করতে পারার ফলে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে৷ দুর্নীতির অপশাসনে সমাজ জীবন কলুষিত হয়ে পড়ে৷

২) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালকাঁটা কর্মসূচি (সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন), কৃষি ভুর্তুকী, কৃষিঋণ প্রবর্তন, কৃষিকে যান্ত্রিক করণ, সার, বীজ, কীটনাশক ঔষধ সরবরাহ, উন্নত জাতের ফলনশীল ধান প্রবর্তন, গ্রাম সরকার, গ্রাম রক্ষী বাহিনী গঠন, মৎস্য উৎপাদনে আধুনিক নীতি ব্যবস্থা প্রনয়ন, জাল যার জলা তার নীতির বাস্তবায়ন, মৎস্য চাষে বৈজ্ঞানিক উৎপাদন ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়া ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহন করে কৃষিতে গুণগত পরিবর্তন এনে কৃষি বিপ্লব শুরু করেন৷

খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে যায়৷ সমাজের দক্ষিণ শক্তি এবং সামরিক বাহিনী, অসন্তুষ্ট বামপন্থী সহ সমাজ জীবনে সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন৷ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চত করেন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন৷

উৎপাদনমুখী শিল্পনীতি প্রনয়ন করে জাতীয়করনের হ্রাস টেনে ধরে বাজার অর্থনীতি চালু করেন৷ জাতীয় চরিত্রের উৎপাদক শ্রেণি গড়ে উঠার সকল সুযোগ সৃষ্টি করে দেন৷ প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন৷ সামগ্রিক শিক্ষা বিপ্লব ঘটান৷

অবকাঠামো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করেন৷ সার্ক দর্শন ও সার্ক বাস্তবায়ন করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিকট প্রতিবেশীর কাছে বন্ধুত্ব পৌঁছে দেন৷ পাশ্চাত্য, প্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরেন ৷

৩) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন তুলে ধরে একটি সামাজিক রাজনৈতিক সমঝোতা (social cotact) তৈরি করেন ৷ স্বাধীনতার শত্রুদের নির্মুল করতে না পারার কারণে পাকিস্তানি ভাবধারা ও সমাজে চলমান দ্বিজাতি তত্ত্বের সংমিশ্রনে এক ডানপন্থী ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে ওঠার বিপরীতে ডান বাম মধ্য পন্থীদের এক প্লাটফর্মে সমবেত করার কৌশল গ্রহন করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতির একটি মধ্য ধারার সৃষ্টি করেন৷

সৎ, সাদাসিধে জীবন যাপন এবং কঠোর প্রকৃতির শাসকের যোগ্যতা তাকে এশিয়ার এক জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করে৷

১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতান্তিক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন ৷ দেশে ইলেকট্ররেল ডেমোক্রেসির ধারা সূচিত হয় ৷
আর এই ইলেকটরেল ডেমক্রেসির ধারাটি ২০১৪ সালে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে দমন ও নির্যাতন করে দেশনেত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়াকেই জেলে দেয়নি মূলতঃ গনতন্ত্রকেই জেলবন্ধী করেছে৷

৪৷ কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী কোন স্বৈরাচারই শেষ পর্যন্ত ঠিকে থাকতে পারেনি৷ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয় ঐক্যের দর্শনটি ধারন করে গনতান্ত্রিক শক্তির নূন্যতম ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদীদের সাংগঠনিক শক্তি শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মাধ্যমে অচিরে স্বৈরাচারের পতন ঘটাবে৷

সাবেক সংসদ সদস্য।

লেখাটি ৪৮০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৮৪৭০০৫৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১১০ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger