ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভয়ানক হুমকী: ওলামালীগ

রাজনীতি

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভয়ানক হুমকী: ওলামালীগ

image
Mon, June 4
12:19 2018

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাল্যবিবাহের বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই ‘প্লান ইন্টারন্যাশনাল’ এনজিওসহ বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী সকল এনজিও এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননাকারীদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভয়ানক হুমকী। দেশের প্রতিরক্ষা কেনাকাটা করতে ভারতের অনুমতি নেয়া মানে দেশের স্বাধীনতা ভারতের হাতে তুলে দেয়ার নামান্তর। দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কুখ্যাত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করতে হবে।

দেশে প্রায় সবাই কর ফাঁকি দেয়। করের পরিবর্তে পবিত্র যাকাত বাধ্যতামূলক করলে প্রতি বছর দেশে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পবিত্র যাকাত উঠতো। যা দিয়ে দরিদ্র দূর হয়ে যেতো। তাই করের পরিবর্তে ৯৮ভাগ মুসলমানের দেশে পবিত্র যাকাত বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দুর্ঘটনা রোধে আসন্ন ঈদে ১০ দিন জাতীয় ছুটি দিতে হবে। রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে। রোজা ও ঈদে সব পন্যে বিশেষ ছাড় দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামকে যেখানে স্বাধীনতার ইতিহাসের দলীলপত্র ইত্যাদিতে সুস্পষ্টভাবে জিহাদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে জিহাদের অপব্যাখ্যা করে মাদরাসার ৩২টি পাঠ্যপুস্তক থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ বিকৃত করার অপচেষ্ঠা করা এবং মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত অধ্যায়সমূহ মুছে ফেলার নাস্তিক্যবাদী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। জিহাদ আর সন্ত্রাসকে এক করে দেখানো যাবেনা। অবিলম্বে পবিত্র কুরআন শরীফ বিকৃততে জড়িত হোতাদের বহিস্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বাংলাদেশে এক লাখ বিশ হাজার কোটি টাকার ঈদ মার্কেটে একচেটিয়া ভারতীয় পন্যের সয়লাব রুখে দিতে হবে। স্বদেশের মুহব্বতে ও ইসলামী কারণে ভারতীয় পন্য বয়কট করতে হবে। ভারতীয় নায়িকা-গায়িকার আদলে অশ্লীল পোশাক রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলামের দেশে, ৯৮ভাগ মুসলমানের দেশে চলতে পারে না।
মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোড়দার করতে হবে। শুধু মাদকসেবীদের বিনাশ করলেই হবে বরং মাদকের রাজনৈতিক গডফাদার এবং মাদক দ্রব্য নির্মূল অধিদফতরের মাদক ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের সমূলে উৎখাত করতে হবে। মাদক নিরোধে পবিত্র দ্বীন ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
উগ্র হিন্দু রানা রাশ গুপ্তরা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মৌলবাদী হিন্দু রানা দাশদের গ্রেফতার করতে হবে। তাকে যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনাল থেকে বহিস্কার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে আজো গ্রেফতার করা হয়নি। সে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসবাদ ও মুসলিম বিদ্বেষ বিশেষ করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার স্থাপত্যসমূহকে হিন্দুদের মন্দিরে রূপান্তর করায় অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এই গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকসহ তার পৃষ্টপোষকদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও বসুন্ধরা গ্রুপ প্রধানমন্ত্রীকে হুমকী প্রদানকারী কুখ্যাত দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক তসলিমা নাসরিনের উস্কানী ও সন্ত্রাসীমূলক লেখা প্রতিনিয়ত ছাপিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হোক এবং এ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশককে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশে দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করায় বসুন্ধরা গ্রুপের সব পণ্য বয়কট করতে হবে।
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল চলার সময় আইন লঙ্ঘন করে জাতীয় পতাকা অবমাননা করে দেশব্যাপী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিদেশী পতাকা লাগানো নিষিদ্ধ করতে হবে। বিশ্বকাপ দেখার নামে মুদ্রাপাচার বন্ধ করতে হবে।

ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেণ্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অচল শহর হওয়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

এদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে; সন্ত্রাসী আইএস-এর প্রবর্তক, নব্য দাজ্জাল ‘আহলে হাদীস’ নামধারী ওহাবী-সালাফীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

দ্বীন ইসলাম বিরোধী মারাত্মক কুফরী আক্বীদা প্রচার করায় দেওয়ানবাগী ভন্ডকে গ্রেফতার করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুরতাদ ঘোষণা করতে হবে ও মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।

আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য লেখা, প্রকাশনা-প্রচার এবং বাল্যবিবাহ বিরোধীদের শাস্তি মৃত্যুদ-, ভারতের চাপে করা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল,পাঠ্যপুস্তক থেকে জিহাদের আয়াত শরীফ বাদ না দেয়ার দাবী, নাস্তিক তসলিমা নাসরিনের গডফাদার বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামকে গ্রেফতার-বসুন্ধরা গ্রুপের পণ্য বর্জন, আইএস এর প্রবর্তক আহলে হাদীস নামধারী সালাফী মতবাদ নিষিদ্ধসহ দাবীতে ১৪ দফা দাবীতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩টি সংগঠন আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করেছে।

(১) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদ- দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনার ছদ্মাবরণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবমাননায় নাস্তিকরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিকদের মুক্তমনা ব্লগ, ইষ্টিশন ব্লগ, ধর্মকারী ব্লগগুলো এদেশে এখনো তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গত ৭ই আগস্ট গণজাগরণ মে র কুখ্যাত নাস্তিক ‘মাহমুদুল হক মুন্সি’ তার ফেসবুক টাইমলাইনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো বোন উনাকে জড়িয়ে চরম গর্হিত, অত্যন্ত আপত্তিকর ও ক্ষমার অযোগ্য স্ট্যাটাস দিয়েছে। শুধু নাস্তিক মুন্সিই নয়; চরম ইসলামবিদ্বেষী আইডি নয়ন সাহা, সুষুপ্ত পাঠক, জুলিয়াস সিজার, জ ই মামুন, রাজেশ পাল, সুপ্রীতি ধর’রা এদেশে তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। গত ৭ অক্টেবরও সুপ্রীতি ধর বাথরুমে রেখে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করার কথা বলেছে। অথচ পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণদের ক্ষেপিয়ে দেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রাখলেও বঙ্গবন্ধুর যিনি হযরত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে শাস্তির জন্য ১০ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দন্ডবিধি সব আইনেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিন্দু থেকে বিন্দুতম অবমাননা করলে বা মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশ ও প্রচার করলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুদ-ের বিধান করতে হবে।

(২) পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাল্যবিবাহের বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদ-। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী এনজিওসহ জড়িতদের সনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, এনজিওগুলো কর্তৃক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অব্যাহত তথ্যসন্ত্রাসের শিকার হয়ে অনৈতিক বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়ণ করেছে সরকার। অথচ দেশে ১৮ বছরের নীচের ছেলে মেয়েদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলে অবৈধ গর্ভপাত, ভ্রুণহত্যা ও কুমারী মাতার পরিমাণ। সে নিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী এনজিও বা সরকারের কোন মাথাব্যাথা নেই।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বছরে কত সংখ্যক গর্ভপাত হয় তার একটি জরিপ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুতম্যাকার ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে তাদের সঙ্গে গবেষণার কাজটি করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন বাংলাদেশ (বাপসা)। গুতম্যাকার ইনস্টিটিউটের জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৯৪ হাজার অবৈধ গর্ভপাত হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে দিনে ৩ হাজার ২৭১টি গর্ভপাত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গাটমেচারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখের বেশি অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। এদিকে আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ গর্ভপাতের ঘটনাই ঘটে বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্কের কারণে। বৈধ ও শরীয়তসম্মত বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বললেও ১৮ বছরের নীচের টিনেজ ছেলে মেয়েদের লাখ লাখ অবৈধ গর্ভপাতকে সমর্থন করছে বাল্যবিবাহ বিরোধীরা। অথচ বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী গর্ভপাত অবৈধ।

বক্তারা বলেন, যমুনা টিভি’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসেছে, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ ভ্রুণ শিশু হত্যা করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য এর অধিকাংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচের কুমারী মাতাদের অবৈধ ফসল। এনজিও, নারীবাদী এবং সরকার অবৈধভাবে কুমারী মাতা হতে সমর্থন করছে তাই এর বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। এমনকি আইন প্রণয়নও করছে না। কিন্তু বৈধ বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ইউনিসেফ দাবি করেছে বাল্যবিবাহের কারণে বাংলাদেশে ২৩ হাজার শিশু মারা যায়। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ১৪ জন শিশু মারা যায়। সে হিসেবে বছরে মারা যায়, ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪০ জন। ইউনিসেফের দাবি অনুযায়ী, অল্প বয়সে বিয়ে করলে যদি ২৩ হাজার শিশু মারা যায়, তবে বাকি ৯৯,৬৪০ জন শিশু মারা যায় কেন? তারা তো বাল্যবিবাহের ফলে মারা যায়নি। সুতরাং বাল্যবিবাহের কারণে শিশু মৃত্যুর প্রচারণা মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষীদের নির্ঝলা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। এছাড়া বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়ণ করা হলো কিন্তু দেশে কথিত বাল্যবিবাহে শিশুমৃত্যুর ৪ গুণেরও বেশী শিশু মৃত্যু হচ্ছে সেজন্য তো কোন আইন প্রণয়ণ না হওয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূলত সুন্নতি বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করা।

বক্তারা বলেন, মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিবাহ অস্বাস্থ্যকর নয় বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত। গবেষণা মতে, ১৯ এর নিচে মা হতে যদি সিজারিয়ান অপরেশন লাগে ৫%, সেখানে ২৬-এ মা হলে সিজারিয়ান হার বেড়ে দাড়ায় ২৫% -এ। এছাড়া লন্ডন থেকে প্রকাশিত গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করেছেন, সময় যত কাছে আসছে, ছেলে ও মেয়েরা তত তাড়াতাড়ি বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে। কয়েক বছর আগে, জার্মান বিজ্ঞানিরা এক গবেষণায় বলেছে, ১৮৬০ সালে মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হতো ১৬.৬ বছর বয়সে, ১৯২০ সালে তা নেমে আসে ১৪.৬ বছর বয়সে, ১৯৫০ সালে তা হয় ১৩.১ বছর বয়স, ১৯৮০ সালে তা আরো নেমে দাড়ায় ১২.৫ বছর বয়স, এবং ২০১০ সালে তা দাড়িয়েছে ১০.৫ বছর বয়সে এবং সূত্রমতে ২০১৮ সালে এই বয়স ৯ এর ঘরে নেমে এসেছে (যঃঃঢ়ং://রং.মফ/ঘঋগু৬ু) । সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাল্যবিবাহের ফলে মায়ের স্বাস্থ্যগত ঝুকির প্রচারণাও মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী এনজিও, নারীবাদীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।

বক্তারা বলেন, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ নারীবাদী তথা প্রগতিবাদীদের দৃষ্টিতে ১৮ বছরের আগে কেউ বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হতে পারে না। অথচ নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক ইউরোপ-আমেরিকার বহু দেশেই ১৮ বছরের নীচে বিয়ে দেয়া ও করা সম্পুর্ণ বৈধ এবং তারা বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃত। এক্ষেত্রে তারা আপত্তি জানাতে ব্যর্থ।

বক্তারা বলেন, ১) অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের বিয়ের সর্বনিন্ম বয়স ১৮, কিন্তু কোর্টের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে। ২) বেলজিয়ামে আদালতের অনুমতিতে ১৮ বছর বয়সের কমে বিয়ে হতে পারে। ৩) বুলগেরিয়ায় আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। ৪) ডেনমার্কে রাজার অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে। ৫) ফ্রান্সে পিতা-মাতা ও আদালতের সম্মতিতে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হতে পারে। ৬) জার্মানিতে আদালত ও পিতা-মাতার ইচ্ছায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। ৭) ইটালিতে আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে। অনুরূপভাবে নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, রাশিয়া এবং ইংল্যান্ডে মেয়েরা ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারে। কানাডায় কোর্টের অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সে মেয়েরা বিয়ে করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারে। আমেরিকায় বহু স্টেটে মেয়েরা কোর্টের অনুমতি নিয়ে কমবয়সে বিয়ে করতে পারে। (সূত্র: উইকিপিডিয়া যঃঃঢ়://মড়ড়.মষ/ঘ২উখঝই)

বক্তারা বলেন, নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো ১৬ বা ১৮ বছর বয়সের নীচে বিবাহকেই অনুমতি দিচ্ছে না বরং অবৈধ কুমারী মাতাকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাদের অবৈধ সন্তানের ভরণ-পোষণও করছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘চাইল্ড ট্রেন্ড’র সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ জরিপ অনুযায়ী নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকায় ২০০৯ সালে কুমারী মায়ের সংখ্যা ছিল ৪১ শতাংশ। গত ৫ দশকে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী কুমারী মায়ের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাছাড়া ইউএস সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সমীক্ষা অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিশোরী মা হচ্ছে। সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিজের (সিএসজে) গবেষণায় দেখা গেছে ব্রিটেনে, ৪৬ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় কুমারী মায়ের গর্ভে। অথচ এসব দেশের বির”দ্ধে তথাকথিত নারীবাদীদের প্রতিবাদ নেই। কুমারী মাতা নামক এসব অবৈধ সর্ম্পকের প্রতিকারে জাতিসংঘে তাদের কোন আবেদন নিবেদনও নেই। বরং বাংলাদেশের মতো মুসলমান দেশগুলোতেই তাদের সব অপতৎপরতা।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে, ছেলের ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে আইন অনুযায়ী তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য। এক্ষত্রে বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে ২ বছর কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ)
অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০, ৬০, ৮০ ইত্যাদি বছরের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না- এমন কোনো শর্ত-শারায়িত সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে উল্লেখ নেই।

বক্তারা বলেন, স্বয়ং বঙ্গবন্ধু দশ বছর বয়সে তিন বছর বয়সী বঙ্গমাতা ফযীলাতুন্নেছাকে বিয়ে করেছেন। যা বঙ্গবন্ধুর ৯৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স¦রচিত লিখনীতেও রয়েছে। বাল্যবিবাহ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে রয়েছে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা বাল্যবিবাহ করেছেন।

সুতরাং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনকে ঘষেমেঝে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ নামক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কালো আইন এদেশের মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের বিয়ের নুন্যতম বয়স নির্দিষ্ট নয় বরং ছেলে বা মেয়ে যখন বিয়ের উপযুক্ত হবে তখন বিয়েতে সব ধরনের সহযোগীতা সরকারকে করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ উনাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে প্রণীত আইনে এদেশে কোনো মেয়ের বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দ-নীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করেছে। অথচ তাদের দেশে অনুমতি সাপেক্ষে ১৬ বছরে বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিবাহ বা বাল্যবিবাহ নিয়ে এদেশের জনগণ বা সরকারের কোন মাথাব্যথা না থাকলেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পশ্চিমা এনজিওগুলোর মাথাব্যথা বেশী। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসে তারা কথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি, মিডিয়া, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে নিয়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে, মিডিয়ায় লিখাচ্ছে। প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিনিময়ে নগদ খাম ধরিয়ে দিচ্ছে। দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংস, এইডস ছড়ানো, জনসংখ্যা হ্রাস, দেশদ্রোহী হাজারো তৎপরতার সাথে জড়িত এসব এনজিও। এসবের মধ্যে রয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর), যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন, ইহুদী স্বার্থ সংরক্ষণকারী ইউনিসেফ, জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ব্র্যাক। বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ এবং দেশ ও মুসলিম বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত এসব এনজিওদের নিষিদ্ধ করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।

(৩) ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভয়ানক হুমকী। দেশের প্রতিরক্ষা কেনাকাটা করতে ভারতের অনুমতি নেয়া মানে দেশের স্বাধীনতা ভারতের হাতে তুলে দেয়ার নামান্তর। দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কুখ্যাত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভয়ানক হুমকী। স্বাধীন দেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ভারতীয় চক্রান্ত। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তির মাধ্যমে সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করেছে ভারত। তা না হলে দেশের উন্নয়নের অগ্রদূত, বঙ্গবন্ধুর মতো আপোষহীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরকম একটি দেশ বিরোধী, আত্মমর্যাদাহীন চুক্তি কখনোই করতেন না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘পিন্ডির গুহা থেকে মুক্ত হয়ে দিল্লির কাছে বন্ধক দিতে পারি না’। সেই বঙ্গবন্ধু কন্যা ভারতীয় চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন তা হতে পারেনা। স্বাধীন দেশের জনগণ দেশের পক্ষে আছে। তাই দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই দেশ বিরোধী চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করুন।

বক্তারা বলেন, ভারত; চীনা সর্ম্পকের জুজু দেখিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী একের পর এক সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার পর গত ১১ মে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট নামের বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী, মারাত্মক অবমাননাকর প্রতিরক্ষা চুক্তি আদায় করে নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, “বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদাপত্র ভারতকে দিতে হবে। তা থেকে ভারত তাদের উৎপাদিত অস্ত্র সরবরাহ করবে।” ভারত মূলত একটি অস্ত্র আমদানিকারক দেশ, রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। তুলনামূলকভাবে উন্নত চীনা অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের অস্ত্র কেনার এই বাধ্যবাধকতা কেন থাকবে তাহলে দুই দেশের সমঝোতায়? ভারতের সেকেলে ও মানহীন অস্ত্র যেখানে কোন দেশ ক্রয় করে না, সেখানে এসব মানহীন সেকেলে অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করে মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা হবে।
অথচ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের তৈরী অস্ত্র রপ্তানী করতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে।
বক্তারা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী, “বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দেয়া অপ্রয়োজনীয় ৫০ কোটি ডলার ভারতীয় ঋণ দিয়ে তাদের উৎপাদিত সেকেলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করতে হবে। তবে তৃতীয় দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চাইলে ভারতের অনুমতি নিতে হবে।” চাপিয়ে দেয়া ঋণ সুদে আসলে উসুল করবে বাংলাদেশ; আর অনুমতি নিতে হবে ভারতের। এটা নেপাল, ভুটানের মতো পরাধীনতার লক্ষণ। বাংলাদেশকে ভারতনির্ভর করার গভীর চক্রান্ত। যা চরম অমর্যাদাকর ও অবমাননাকর।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী যখন অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ তৈরী করছে সেখানে খুলনা শিপইয়ার্ডে ভারতীয় নৌবাহিনী বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাথে যৌথভাবে যুদ্ধ জাহাজ তৈরীর সমঝোতা করা হাস্যকর বিষয়। এছাড়া “দুই দেশের সামরিক স্কুলের শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ, সামরিক পর্যবেক্ষক, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা তথ্যবিনিময়ের কথা বলা হচ্ছে। অতীতে চুক্তি থাকার পরও নদীর পানির মতো ‘নিরীহ’ তথ্যবিনিময়ে ভারতের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় দেশের প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতির স্বাতন্ত্র্যের ক্ষেত্রে তথ্যবিনিময় বাংলাদেশের জন্য অনুকূলভাবে ব্যবহার করা কখনোই আসলে সম্ভব নয়। ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো বৈরিতা হলে কথিত চক্তি ও সমঝোতার আলোকে বাংলাদেশকে জিম্মি করা ভারতের জন্য অসম্ভব নয়।

বক্তারা বলেন, অতীতে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারত মৈত্রী ও সহযোগিতার নামে অবমাননাকর শর্ত দিয়ে চুক্তি করেছে। যেমন, নেপালের সঙ্গে ১৯৫০ সালের চুক্তিটিতে বলা আছে যে নেপাল ভারতের সম্মতি ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে পারবে না, নেপালের প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নে ভারত অগ্রাধিকার পাবে। ভুটানের সঙ্গে ভারতের আদি মৈত্রী চুক্তিতে অনুরূপ বিধান ছিল; ছিল এমনি বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের পরামর্শ দ্বারা ‘গাইডেড’ হওয়ার বাধ্যবাধকতাও। নেপাল সম্প্রতি চুক্তিটির কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করলেও ভারত সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে ভুটানের সঙ্গে চুক্তিটি ২০০৭ সালে নবায়ন হলে, তাতে বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ভুটানের স্বাধীনতা ভারতের হাতেই রেখেছে।

ভারত ট্রানজিট, নৌ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, কানেকটিভিটি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সবকিছুই নিতে আগ্রহী, দিতে নয়। ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার দেয়নি। এসব অধিকারের প্রতি যুগের পর যুগ ধরে কর্ণপাত না করা একটি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা মানে দেশের সার্বভৌমত্ব তাদের হাতে ছেড়ে দেয়া। চতুর ভারতকে বিশ্বাস করা ঠিক হবেনা। বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য এরকম একটি অসম ও দেশবিরোধী চুক্তি শোভনীয় নয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কুখ্যাত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করতে হবে।

(৪) দেশে প্রায় সবাই কর ফাঁকি দেয়। করের পরিবর্তে পবিত্র যাকাত বাধ্যতামূলক করলে প্রতি বছর দেশে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পবিত্র যাকাত উঠতো। যা দিয়ে দরিদ্র দূর হয়ে যেতো। তাই করের পরিবর্তে ৯৮ভাগ মুসলমানের দেশে পবিত্র যাকাত বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পবিত্র যাকাত দ্বীন ইসলাম উনার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে লোক দেখানো ইবাদত বা লোককে খুশী করার জন্য কোন ইবাদত বন্দেগী নিষিদ্ধ। কিন্তু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী পবিত্র যাকাত উনার জন্য নি¤œমানের শাড়ী, লুঙ্গি বাজারজাত করে। আর কমদামের কাপড় পেয়ে কিছু অজ্ঞ লোকেরা পবিত্র যাকাত দেয়ার নামে লোক দেখানোর প্রদর্শন করে, আরেক শ্রেণী পবিত্র যাকাত মেলার আয়োজন করে। যার মাধ্যমে ফরজ ইবাদত পবিত্র যাকাত উনাকে অবজ্ঞা করা হয়। যা সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। পবিত্র যাকাত উনার কাপড়ের নামে এসব নিম্নমানের কাপড় উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে সরকারকে ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে অভিযান চালাতে হবে।

বক্তারা বলেন, ইনকাম ট্যাক্স বাতিল করে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রণয়ণ করলে এক বছরের মধ্যেই দেশের দারিদ্যতা দূরীকরণ সম্ভব। ইনকাম ট্যাক্সের পরিবর্তে পবিত্র যাকাত উনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করলে আদায়কৃত পবিত্র যাকাত উনার মাধ্যমে বর্তমান উন্নয়ন বাজেটের চেয়েও বেশী, প্রায় দেড় লক্ষাধিক কোটি টাকা আয়ের সুফল দেশবাসী পাবে। কারণ বাংলাদেশ ব্যংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোতে ৮ লাখ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ৭ লাখ কোটি টাকার কালো টাকা রয়েছে। তাছাড়া নগদসহ অন্যন্য আমানত, স য়পত্র, বিভিন্ন বিনিয়োগ, বাড়ি-গাড়ী, শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাবর-অস্থাবর ইত্যাদি সম্পত্তি আরো কয়েক লাখ-কোটি টাকা রয়েছে। এসব থেকে আড়াই শতাংশহারে সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় করলে দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশী পবিত্র যাকাত আদায় করা সম্ভব। যার সুফল গোটা দেশবাসী ভোগ করবে।

(৫) দুর্ঘটনা রোধে আসন্ন ঈদে ১০ দিন জাতীয় ছুটি দিতে হবে। রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে। রোজা ও ঈদে সব পন্যে বিশেষ ছাড় দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা বলেন, আসন্ন ঈদে ১০ দিন জাতীয় ছুটি দিতে হবে। আসন্ন পবিত্র রমাদ্বান শরীফে স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হবে ৪৫ দিনের ছুটি দিতে হবে। এই মাসে খেলাধূলা বন্ধ রাখতে হবে, দ্রব্যমূল্য হ্রাস করতে হবে, টিভি চ্যানেলে অশ্লীল অশালীন নাচ-গান বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার সরকারের হাঁকডাকের কোনো তোয়াক্কাই করছে না অসৎ সিন্ডিকেট। অথচ দুবাই, কাতার, ওমান, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, প্রভৃতি দেশে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা ৫০% শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে। ছাড় দেয়ার এক প্রকার প্রতিযোগীতা লক্ষ্য করা যায় সেদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিভিন্ন উৎসবে জিনিসপত্রের দাম কমলেও আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিভিন্ন উৎসবে জিনিসপত্রের দাম কমলেও আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারীভাবে সব ধরনের পণ্যে রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষ্যে ছাড়ের ঘোষণা দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, এদেশে ঐতিহ্যগতভাবেই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। কিন্তু ইদানীংকালে এর ব্যতিক্রম ঘটানো হচ্ছে। গত বছরও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়; এই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসেও বিভিন্ন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। অথচ হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। জামাত-জোটের হরতালেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। পরীক্ষাও পেছানো হয়েছে। তাহলে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উপলক্ষে কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে না? অবিলম্বে সারাদেশে পরীক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪৫ ছুটি ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত মসজিদে সরকারিভাবে ইফতারীর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হলো তাক্বওয়া তথা আল্লাহভীতি হাছিলের মাস। অথচ এ মাসে খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষ ত্বাকওয়া হাছিলের পরিবর্তে আরো বেশি গানবাজনা, বেপর্দা-বেহায়াপনা, অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। সুতরাং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের দ্বীনী ভাবগাম্ভীর্যতা রক্ষার্থে ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ফুটবলসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া খেলাধুলা, টিভি-সিনেমা ও নাটক নিষিদ্ধ করতে হবে।

(৬) ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামকে যেখানে স্বাধীনতার ইতিহাসের দলীলপত্র ইত্যাদিতে সুস্পষ্টভাবে জিহাদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে জিহাদের অপব্যাখ্যা করে মাদরাসার ৩২টি পাঠ্যপুস্তক থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ বিকৃত করার অপচেষ্ঠা করা এবং মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত অধ্যায়সমূহ মুছে ফেলার নাস্তিক্যবাদী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। জিহাদ আর সন্ত্রাসকে এক করে দেখানো যাবেনা। অবিলম্বে পবিত্র কুরআন শরীফ বিকৃততে জড়িত হোতাদের বহিস্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বিভিন্ন পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সন্ত্রাসবাদে উৎসাহিত হওয়ার অভিযোগ তুলে মাদরাসা ৩২টি পাঠ্য বই থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ উনাদের বিকৃত এবং বাদ দেয়ার চক্রান্ত করছে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মীয় পাঠ্যবইয়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করার আদেশ দিয়েছে। বইগুলোতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, কংসবদ, জরাসন্ধ বদ, শিশুপাল বদ যুদ্ধসহ আরো অনেক যুদ্ধের কাহিনী পড়ানো হচ্ছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ধর্মের উপর হাত দিয়েছে দুই মন্ত্রণালয়। অথচ জিহাদ হলো সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যা প্রতিটি রাষ্ট্রেরই রয়েছে। ইতিমধ্যে বইগুলো পরিবর্তনে তারা কমিটি করেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষে এসব পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে আর থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আলমগীর হোসেন।

বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেননি। স্বাধীনতার পর দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও নাস্তিক গডফাদার দাউদ হায়দারকে দেশছাড়া করেছে। সেখানে তার কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের সময় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাস্তিক আর উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ঠাঁই পেয়েছে। যারা এসকে সিনহার মতো বেঈমানী করে প্রতিবেশী ও মোসাদের সাথে ষড়যন্ত্র করে সরকার পতনের চক্রান্তে লিপ্ত। এসব কুচক্রীরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ফরয বিধান পবিত্র জিহাদ’কে সন্ত্রাসবাদের সাথে এক করে পাঠ্যপুস্তক থেকে পবিত্র জিহাদ সংক্রান্ত সব অধ্যায় বাদ দেয়ার চক্রান্ত করছে। ‘জিহাদ সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ করে’ এরকম মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে মাদরাসার পাঠ্যপুস্তক থেকে পবিত্র জিহাদ সংক্রান্ত অধ্যায় বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ প্রতিটি শ্রেণীর ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে প্রতিপক্ষকে হত্যা করার নির্দেশনা সম্বলিত হিন্দুদের যুদ্ধ কাহিনীর অধ্যায় বাদ দেয়ার কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি। বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক এ নির্দেশের মাধ্যমে দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনর প্রতি আঘাত দেয়া হয়েছে। এমনকি জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের সাথে সম্পৃক্ত করলেও হিন্দুদের বিভিন্ন যুদ্ধকে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ বলা হয়নি।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকে পবিত্র জিহাদ বলে প্রচার করা হতো। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের এক কথিকায় বলা হয়- “ওরা আমাদের সাথে যে ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তা হচ্ছে ন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার দৃষ্টিতে ওরা শয়তানের বন্ধু ও দোযখী। অতএব, মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য। ......অতএব, হে বাঙালি ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা অন্যায়কারী পশ্চিমা হানাদার পশু ও এদের পদলেহী দালাল কুকুরদের বিরুদ্ধে সার্বিক জিহাদ চালিয়ে আমরা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই। জয় আমাদের সুনিশ্চত। ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহান কারীব’।” (আবু রাহাত মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান রচিত) [তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প ম খন্ড, পৃষ্ঠা- ২৮২-২৮৫]

বক্তারা বলেন, পবিত্র জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদকে তারা এক করে ফেলেছে। অথচ পবিত্র জিহাদ হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। আর সন্ত্রাসবাদ বা যুলুম নির্যাতন হারাম। সন্ত্রাসী কার্যক্রম হারাম। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তেমনি সম্মানিত ইসলামী দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো পবিত্র জিহাদ। তাই পবিত্র জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের সাথে মিলানো চরম মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। পবিত্র জিহাদ হচ্ছে মুসলমানদের ইতিহাস, মুসলমানদের ঐতিহ্য। বদর, খন্দক, ওহুদ ইত্যাদি বিভিন্ন পবিত্র জিহাদের মাধ্যমে মুসলমান শিশুরা তাদের শৌর্য-বীর্য, সোনালী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। এটা জানা প্রত্যেক মুসলমানের ধর্মীয় অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে যারা সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদ তৈরী করে তারা মুসলমান নয় বরং মুরতাদ। যেমন, আইএস, আল কায়দা, তালেবান ইত্যাদি সন্ত্রাসীরা অধিকাংশই ইহুদী ও খ্রিষ্টান। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা মুসলমানদের বেশধারণকারী ট্রেনিংপ্রাপ্ত ও ধর্মান্তরিত।

বক্তারা বলেন, মুর্খ নাস্তিকরা আজ পাঠপুস্তক থেকে জিহাদ সংক্রান্ত অধ্যায় উঠাতে চাচ্ছে। কাল তারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে পবিত্র জিহাদ সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে বাদ দেয়ার দাবী তুলবে। সুতরাং মুসলমান দেশে এসব নাস্তিক্যবাদী, হিন্দুত্ববাদীরা থাকার অধিকার নেই। তারা যদি মুসলমানদের মুসলমানিত্ব মেনে নিতে না পারে তাহলে এদেশ ছেড়ে চলে যাক। অবিলম্বে নাস্তিকদের পাঠ্যপুস্তক থেকে জিহাদ সংক্রান্ত অধ্যায় বাদ দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। চক্রান্তকারীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে পবিত্র জিহাদ সংক্রান্ত অধ্যায় বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও প্রত্যেক শ্রেণীর ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে প্রতিপক্ষকে হত্যা করার নির্দেশনা সম্বলিত বিভিন্ন যুদ্ধ কাহিনীর বর্ণনা রয়েছে। যেমন, ৮ম শ্রেণীর ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ১৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন আত্মীয়-স্বজনদের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে রাজি না হওয়ায় কৃষ্ণ অর্জুনকে উপদেশ করে, ‘কর্ম অর্থাৎ কর্তব্যপালনই ধর্ম। তুমি ক্ষত্রিয়, যুদ্ধের মাঠে যুদ্ধ করাই তোমার ধর্ম। আসক্তিহীনভাবে যুদ্ধ কর, একটি সুফল পাবে। তুমি যুদ্ধ না করলে তোমার ধর্ম নষ্ট হবে। কেননা স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য অনুসারে কর্ম সম্পাদন করাই ধর্ম।’ কৃষ্ণ একথা বলার পর অর্জুনের মোহভঙ্গ হয় এবং সে যুদ্ধ করে। লক্ষ লক্ষ লোক হত্যা করার আহবান কি সন্ত্রাসবাদের পড়ে না?

বক্তারা বলেন, ৮ম শ্রেণীর হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ১৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে, বলা হয়েছে, “কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধ বিমুখ অর্জুনকে যুদ্ধ করতে যেসব আদেশ উপদেশ দিয়েছে তার নাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,সংক্ষেপে গীতা।” পুরো গীতায় রয়েছে, যুদ্ধন্মাদ হওয়ার প্ররোচনা। সেই গীতার বর্ণনা রয়েছে, উক্ত বইয়ের ১৭ পৃষ্ঠায়। বইয়ের ৫৭ পৃষ্ঠায় পাঠ ২ ও ৩ এ রয়েছে, কার্তবীর্যার্জুন ও রাবণের যুদ্ধ কাহিনী। ৬৮ পৃষ্ঠার পাঠ ১, ২ ও ৩ এ রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন যুদ্ধ কাহিনী। যেমন কংসবদ, জরাসন্ধ বদ, শিশুপাল বদ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ও ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার কাহিনী। সেখানে বলা হয়েছে, শ্রী কৃষ্ণ মথুরার যুদ্ধে মথুরার রাজা কংসকে হত্যা করে। কংস বদের পর কংসের শশুড় ‘মগধের রাজা’ জরাসন্ধের সাথে যুদ্ধে জরাসন্ধকে হত্যা করে। এরপর চেদিরাজ্যের রাজা শিশুপালকে হত্যা করে। রাজ্য দখল নিয়ে কুরু ও পান্ডবদের মধ্যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ লোক নিহত হয়। কৌরবদের সবাই নিহত হয়। এগুলো কি সন্ত্রাসী হতে শিক্ষা দেয়না?

৭ম শ্রেণীর হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ১৩ ও ১৪ পৃষ্ঠায় ‘মহিসাষুর বধ’ এবং ‘শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ’ শিরোনামে দেবী দুর্গার সাথে মহিসাষুর ও শুম্ভ-নিশুম্ভ পৃথক যুদ্ধের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কালিকার সাথে শুম্ভ, নিশুম্ভ, রক্তবীজ, চন্ড ও মুন্ডের মারামারির বর্ণনা দেয়া আছে যা হিন্দু শিক্ষার্থীদের মারামারি, কাটাকাটি শিক্ষা দেয়া হয়েছে। ওই বইয়ের ৫০ পৃষ্ঠায় কৃষ্ণের বৎসাসুর, বকাসুর, অঘাসুর, এরিষ্টাসুর, কেশী দানব, বৈমাসুরের সাথে যুদ্ধের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যা দ্বারা ছোটকাল হতেই হিন্দুদের সন্ত্রাসী কাজকর্মের দিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু এসব যুদ্ধ কাহিনী হিন্দু সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ করলেও সেসব অধ্যায় নিষিদ্ধ করেনি। শুধু মুসলমানদের জিহাদ’কে সন্ত্রাসবাদে আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করা হলো আর হিন্দু ধর্ম বইয়ের যুদ্ধকে বৈধতা দেয়া হলো কাদের স্বার্থে?

বক্তারা বলেন, হিন্দু ধর্মীয় বইয়ে যুদ্ধের বর্ণনা রাখা হোক আর বাদ দেয়া যাই হোক না কেন মুসলমানদের ধর্মীয় বই থেকে জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত শরীফ বিকৃত করার অপচেষ্ঠা করা মানে পবিত্র কুরআন শরীফ পরিবর্তনের অপচেষ্ঠার শামিল। যা এ পর্যন্ত নমরুদ, সাদ্দাদ বা ফেরাউনের মতো কাফিররাও দুঃসাহস করেনি। এটা মূলত সরকারকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী প্রমাণ করতে সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা নাস্তিক্যবাদীদের অপচেষ্ঠা। তাদের এই দুঃসাহস এদেশের দ্বীন প্রিয় মুসলমানরা রুখে দেবে। যেখানে এসব নাস্তিকদের পাবে ধর্মপ্রাণরা তাদের প্রতিহত করবে। তাই সরকার বিরোধী জনরোষ বন্ধ করতে অবিলম্বে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ বিকৃত ও বাদ দেয়ার চক্রান্তকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। এর নেপথ্যে থাকা পবিত্র কুরআন শরীফ বিরোধী নাস্তিক্যবাদী হোতাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সংক্রান্তে গঠিত কমিটি নিষিদ্ধ করতে হবে। অবিলম্বে মাদরাসার বই থেকে জিহাদ সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার নাস্তিক্যবাদী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে হারাম সেটা অর্ন্তভূক্ত করা হোক।

(৭) বাংলাদেশে এক লাখ বিশ হাজার কোটি টাকার ঈদ মার্কেটে একচেটিয়া ভারতীয় পন্যের সয়লাব রুখে দিতে হবে। স্বদেশের মুহব্বতে ও সম্মানিত ইসলামী কারণে ভারতীয় পন্য বয়কট করতে হবে। ভারতীয় নায়িকা-গায়িকার আদলে অশ্লীল পোশাক রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে ৯৮ভাগ মুসলমানের দেশে চলতে পারে না।

বক্তারা বলেন, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হলো তাক্বওয়া তথা আল্লাহভীতি হাসিলের মাস। ঈদ উপলক্ষে দেশীয় পোষাক বাদ দিয়ে এক লাখ বিশ হাজার কোটি টাকার ভারতীয় পোষাক বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। পবিত্র ঈদ এলেই ভারতীয় নায়ক-নায়িকাদের নামে অশ্লীল পোশাকে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো ভারতীয় বিভিন্ন গায়িকা পতিতাদের নামে তৈরি উলঙ্গ পোশাক প্রশাসনের সামনে বাজারজাত হচ্ছে। ভারতীয় পতিতা খোয়াব, কারিনা, শবনম, কাহানী, ইশতা, রাখী, বর্ষা, হীর, জিনাম, ওমটেক্স, হায়া, কারিজমা, কাশিকা, কাদুলি, বানি, বিভা, বিবেক, বিনয়, গঙ্গা মারিয়াবি, জেরিন, ইয়াসিকির ড্রেসে বাজার এখন সয়লাব হয়ে গেছে।

এসব অশ্লীল পোষাকের পড়ার ফলে বাড়ছে নারী টিজিং, সম্ভ্রমহরণ, অনাচার, ব্যভিচার, বিবাহ-বিচ্ছেদসহ ধ্বংস হচ্ছে পারিবারিক, সামাজিক তথা ধর্মীয় বন্ধন। তাই পবিত্র ঈদ বাজারে ভারতীয় নায়ক-নায়িকাদের নামে আসা অশ্লীল পোষাকের আমদানী সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করতে হবে। এসব অশ্লীল পোশাক আমদানীকারক ও বাজারজাতকারক সব ফ্যাশন হাউসগুলোকে নিষিদ্ধ করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

(৮) মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোড়দার করতে হবে। শুধু মাদকসেবীদের বিনাশ করলেই হবে বরং মাদকের রাজনৈতিক গডফাদার এবং মাদক দ্রব্য নির্মূল অধিদফতরের মাদক ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের সমূলে উৎখাত করতে হবে। মাদক নিরোধে পবিত্র দ্বীন ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ইয়াবার আগ্রাসন একটি দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের যুবসমাজকে বিকলাঙ্গ ও অপরাধপ্রবণ একটি গোষ্ঠীতে পরিণত করতেই দেশবিরোধী অপশক্তি বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। এই ইয়াবা এমন একটি মাদক যে- এটি সেবনে প্রথমেই শুরু হয় মানসিক অবসাদগ্রস্ততা। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে, মেজাজ হয় খিটখিটে, গলা-মুখ শুকিয়ে আসতে থাকে, অনবরত প্রচ- ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি বাড়তে থাকে। বাড়ে নাড়ির গতি, রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। দেহে আসে মানসিক অবসাদ, ঘুম না হওয়া এবং চিন্তা ও আচরণে বৈকল্য দেখা দেয়। মানুষ আর মানুষ থাকে না। হয়ে উঠে হিং¯্র, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। ন্যায়-অন্যায় বোধ লোপ পায়। হয়ে উঠে অপরাধপ্রবণ। অনায়াসে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না।

সরকারের উচিত হবে, দেশে ইয়াবা আগ্রাসন ঠেকাতে অন্যান্য দেশের মতো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কানাডা, সিঙ্গাপুর যেভাবে মাদকের বিরুদ্ধে চিরুণী অভিযান চালিয়ে তাদের দেশে মাদকের গতিরোধ করেছে, বাংলাদেশকেও তাদের চেয়ে বেশি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেসব প্রভাবশালীরা দেশে ইয়াবাসহ মাদকের বিস্তার করছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে এবং ইয়াবাসহ মাদক আগ্রাসন নিরোধকল্পে আলাদা ফোর্স গঠন ও মাদক আইনের কঠোরতা নিশ্চিত করে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বস্তুত প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছে মরণ নেশা ইয়াবা। আর এর ফলে দেশের জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের স ার হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত- এই ক্ষোভকে প্রশমিত করছে অবিলম্বে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে সক্রিয় ও অধিক শক্তিশালী করে সারাদেশে চিরুণী অভিযান পরিচালনা করা। সেইসাথে সারাদেশে সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।

(৯) উগ্র হিন্দু রানা রাশ গুপ্তরা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মৌলবাদী হিন্দু রানা দাশদের গ্রেফতার করতে হবে। তাকে যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনাল থেকে বহিস্কার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে আজো গ্রেফতার করা হয়নি। সে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসবাদ ও মুসলিম বিদ্বেষ বিশেষ করে ইসলামের স্থাপত্যসমূহকে হিন্দুদের মন্দিরে রূপান্তর করায় অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এই গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকসহ তার পৃষ্টপোষকদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

বক্তারা বলেন, কট্টর সাম্প্রদায়িক সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ তথা রানা দাশগুপ্ত গং বলেছে, “পাকিস্তানীদের মতো বর্তমান সরকারও হিন্দুদের উপর নির্যাতন করছে।” সে আরো বলেছে, “জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করছে।” শুধু তাই নয়, সে পিটিআই’ কে দেয়া সাক্ষাতকারে “মোদীকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের আহবান জানিয়েছে।” এরকম একজন রাষ্ট্রদ্রোহী, সরকার বিরোধী, সর্বোপরি কট্টর সাম্প্রদায়িক ও মুসলিম বিদ্বেষী, অথচ সরকারের বেতনভোগী সরকারী চাকুরে রানা দাশ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে প্রসিকিউটর হিসেবে বহাল তবিয়তে রাখা হয়েছে। যা অবাক হওয়ার মতো বিষয়।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করছে, “হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক, তাদের ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারত না।” অথচ তারাই বলেছে হিন্দুরা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৮%। তাহলে এই ৮% লোক যাদের ৫% ও ভোটার নয়, তারা কী করে ভোটব্যাংক হতে পারে।

বক্তারা বলেন, মূলত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। হিন্দুরা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে খায়। বেশীরভাগ সময় নিজেরাই মন্দির ভেঙ্গে সরকারের বদনাম গায়। ৫% হিন্দুদের মধ্যে ২% গয়েস্বর মার্কা হিন্দু। তাহলে ভোটের রাজনীতিতে হিন্দুরা কত নগণ্য তা এতোদিন ধামাচাপা দিতেই তারা এরূপ মিথ্যাচার করেছে। কথায় বলে চোরের মার বড় গলা। রানা দাশ, গোবিন্দ প্রামাণিক, রবীন্দ্র ঘোষ’রা এদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চালাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সংগঠন ‘হিন্দু মহাজোট’ এর গোবিন্দ প্রামাণিক এদেশের মুসলমানদের প্রকাশ্যে হত্যার আহবান জানিয়ে ভিডিও ছেড়েছে। বঙ্গবন্ধুকে জালিম বলে আখ্যায়িত করেছে। সেই গোবিন্দ প্রামাণিক এদেশে এবং ভারতে মুসলিম স্থাপত্যগুলো দখল করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে মুসলিম স¤্রাট শাহজাহান নির্মিত তাজমহলকে “তেজ মহালয়” নামক মন্দির দাবি করে ক্যালেন্ডার ছাপিয়েছে। রামমন্দিরের নাম দিয়ে যেভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে একইভাবে এসব উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা সকল মুসলিম স্থাপত্য ধ্বংস করতে চায়। এসব উগ্র গোবিন্দ, রবীন্দ্রদের আস্করায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় উগ্র হিন্দুরা মুসলমানদের উপর যুলুম নির্যাতন করছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের উগ্র হিন্দু ডাক্তার ফাল্গুনি সাহা মুসলিমদের সাথে উগ্র আচরণ করে চিকিৎসা না করে বের করে দিয়েছে। অবিলম্বে এসব উগ্র মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে। রানা দাশ, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, রবীন্দ্র ঘোষদের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চালানোর দায়ে গ্রেফতার করতে হবে।

(১০) বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও বসুন্ধরা গ্রুপ প্রধানমন্ত্রীকে হুমকী প্রদানকারী কুখ্যাত দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক তসলিমা নাসরিনের উস্কানী ও সন্ত্রাসীমূলক লেখা প্রতিনিয়ত ছাপিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হোক এবং এ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশককে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশে দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদেও পৃষ্ঠপোষকতা করায় বসুন্ধরা গ্রুপের সব পণ্য বয়কট করতে হবে।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী, প্রধানমন্ত্রীকে কোপানোর আশায় থাকা দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কুখ্যাত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে তসলিমা নাসরিনের ‘ধর্ষকের কাছে নারীর কোনো ধর্ম নেই’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। কুখ্যাত নাস্তিক তসলিমা তার নিবন্ধে লেখা হয়, ‘পয়গম্বরও আরব দেশে ইহুদি পুরুষদের মেরে ওদের মেয়েদের নিজের সঙ্গীদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন।

গত ২৪ এপ্রিল সে নাস্তিক মোশাররফ করিমের পক্ষাবলম্বন করে আবারো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করে ষ্ট্যাটাস দিয়েছে। সে লিখেছে, “যদিও মোশাররফ জিহাদের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাখ্যা নয়। নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দারুল ইসলাম বানানোর জন্য উম্মতদের হুকুম দিয়েছেন বিধর্মীদের মারার।” নাউযুবিল্লাহ!

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাসিত ও কুখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার লেখাগুলো এতোটাই ইসলামবিরোধী ও বিকৃত চিন্তাপ্রসূত যে, এদেশের নাস্তিক্যবাদী পত্রিকাগুলোও তার লেখা ছাপার সাহস করে না। কিন্তু ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ নামক পত্রিকা তার লেখাগুলো নিয়মিত অবলীলায় ছেপে যাচ্ছে। অথচ এই তসলিমা নাসরিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে প্রতিনিয়ত তার ফেসবুক পেজে লিখে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ব্লগার নিলয় হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তসলিমা নাসরিন চরম উস্কানী দিয়ে লিখেছে, “খুনিদের বাড়িতে ডাকুন। মিষ্টি মুখ করান। পারলে পোলাও গোশত খাওয়ান। বলুন, বাবারা ভয় নেই, আমি আছি। হাসিনার আশ্বাস খুনিরা পেয়েছে বলেই তো এত সহজে খুনের পর খুন করে যেতে পারে।” তসলিমা নাসরিন আরো লিখেছে যে, “আমি অপেক্ষা করছি, হাসিনাকে কবে ওরা কোপাবে।” (সূত্র: যঃঃঢ়ং://মড়ড়.মষ/ঊরুঃঈম) সুতরাং তসলিমা নাসরিনের লেখা প্রকাশ করা নঈম নিজামও নিঃসন্দেহে সরকারবিরোধী। নঈম নিজাম চাইছে, দিনের পর দিন তসলিমা নাসরিনের লেখা ছাপিয়ে ছাপিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যেন তসলিমা নাসরিনের এদেশে ফেরত আসার মতো অনুকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রবল জনরোষের সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী, প্রধানমন্ত্রীকে কোপানোর আশায় থাকা কুখ্যাত নাস্তিক লেখিকা তাসলিমা নাসরিনের লেখা বারবার প্রকাশ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও বসুন্ধরা গ্রুপ। এর আগেও তসলিমার পর্ণো নামক কুখ্যাত পর্ণো প্রবন্ধ ছাপিয়েছে। শুধু তাই নয়, ‘নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর’ নামক বইটি অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশ করিয়েছে বইটির স্বত্ত্বাধিকারী নারায়ণগঞ্জের ত্বকীর চাচা কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ওয়াহিদ রেজা। তসলিমার গদ্যপদ্য বইয়ের প্রকাশক আগামী প্রকাশনীর ওসমান গণি। শুধু তাই নয় ২০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পালানো কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী তসলিমা নাসরিনকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বসুন্ধরা গ্রুপ ও তাদের বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। এই নঈম নিজাম বাংলাদেশ প্রতিদিনে তসলিমা নাসরিনের ইসলাম বিদ্বেষী লেখা ছাপিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে সে এদেশে তসলিমার নাস্তিক্যবাদ প্রচার করে দেশে আবার হেফাযতিদের উস্কানীর সুযোগ করে দিতে চাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কোপানোর আশায় থাকা তসলিমার এদেশীয় গডফাদার নঈম নিজাম ও বসুন্ধরা গ্রুপ সেরকম পরিস্থিতি যেন না সৃষ্টি হতে পারে, সে জন্য এখনই ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর এই ইসলামবিরোধী স্বেচ্ছাচারে লাগাম দিতে হবে। কুখ্যাত নাস্তিক তসলিমার প্রবন্ধ ছাপিয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা যে অপরাধ করেছে বাংলাদেশে অবিলম্বে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হোক এবং এ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশককে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কথায় রয়েছে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। নঈম নিজামরা বিষবৃক্ষ হয়ে ডালপালা মেলার আগেই তাদেরকে সমূলে উৎপাটিত করা হোক, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
(১১) আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল চলার সময় আইন লঙ্ঘন করে জাতীয় পতাকা অবমাননা করে দেশব্যাপী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিদেশী পতাকা লাগানো নিষিদ্ধ করতে হবে। বিশ্বকাপ দেখার নামে মুদ্রাপাচার বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশী পতাকা উড়ানো নিষিদ্ধ হলেও এ আইন প্রয়োগ করছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিবারই বিশ্বকাপ আসলে সারাদেশে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকায় সয়লাব হয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন ও কনসুলেট অফিস, রাষ্ট্রদূত বা মিশনের প্রধান তার অফিশিয়াল বাসভবন ও গাড়িতে নিজ দেশের পতাকা ওড়াতে পারবে। এর বাইরে অন্য কোথাও বিদেশী পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় অপরাধ।

বক্তারা বলেন, বিদেশী পতাকা ওড়ানো শুধু নিষিদ্ধই করা হয়নি বরং ২০১০ সালের সংশোধিত আইনে এই বিধান লংঙ্ঘন করলে ২ বছর পর্যন্ত শাস্তি এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে বিধান রয়েছে। তারপরও বিদেশী পতাকা উড়ানো বন্ধে সরকারীভাবে কোন ব্যবস্থা হচ্ছেনা। অবিলম্বে আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিদেশী পতাকা লাগানো নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দেশবাসীর দেশপ্রেম উজ্জীবিত করতে হবে।

(১২) ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেণ্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অচল শহর হওয়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ঢাকা পরিণত হয়েছে দেশবাসীর প্রধান গন্তব্যস্থলে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ঢাকাকে কেন্দ্র করে। অতিরিক্ত চাপ সইতে না পেরে ঢাকা অচল শহর হতে চলেছে ঢাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ-এর কোন বিকল্প নেই।

বক্তারা বলেন, গবেষণায় এসেছে, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিই ঢাকায়। ৩৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩২টিই এ ঢাকা মহানগরীতে। শুধু সংখ্যার বিচারেই নয়, মানের দিক থেকেও দেশের সেরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এ শহরটিতে কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (মে, ২০০৯) তথ্য অনুযায়ী, ৬টি বিভাগে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এরমধ্যে ৩০ লাখ ৩০ হাজার (২৮ শতাংশ) শিক্ষার্থী শুধু ঢাকা বিভাগেই। এর বড় অংশটি ঢাকা শহরে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের চরম ভারসাম্যহীন অবস্থার এটিই বাস্তবচিত্র।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক ‘দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০১৭’ ১৪০টি শহরের রাজধানী ঢাকা ৩৮ দশমিক ৭০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ঢাকায় বর্তমানে ২ কোটি লোকের বসবাস। ১৯৮০ সালে ঢাকায় ৩০ লাখ লোকের বসবাস ছিল। এর মধ্যে ৩৫ লাখ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। ২০৩৫ সালে ঢাকায় মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন হবে। ১০ বছর আগে ঢাকার গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, আর বর্তমানে তা প্রায় ৪ কিলোমিটারে নেমে আসছে। মানুষের হাঁটার গতির মান ঘণ্টায় গড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। সবমিলিয়ে অচল শহরে পরিণত হতে চলেছে ঢাকা। এ থেকে পরিত্রাণে অবিলম্বে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনই বিকল্প নেই। প্রতিটি জেলার সুষম উন্নয়ন করতে গেলেও বিকেন্দ্রীকরণের ছাড়া কোন উপায় নেই। অবিলম্বে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

(১৩) এদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে; সন্ত্রাসবাদী আইএস-এর প্রবর্তক, নব্য দাজ্জাল ‘আহলে হাদীস’ নামধারী ওহাবী-সালাফীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বিতর্কিত ‘ইবনে তাইমিয়া’র প্রবর্তিত উগ্র ওহাবী-সালাফী মতবাদের পৃষ্ঠপোষক সউদী আরব। গত ২২শে মার্চ ওয়াশিংটন পোষ্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সৌদি রাজা বিন সালমানও সেটা স্বীকার করেছে। সউদীর অর্থায়নে তালেবান থেকে শুরু করে বর্তমানে আইএস নামে পরিচিত যত উগ্র ও সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে সকলেই ওহাবী-সালাফী মতবাদে দীক্ষিত ও প্রশিক্ষিত। ওহাবী-সালাফী চিন্তাধারার ফসল হচ্ছে, আজকের জামাত-রাজাকার, হিযবুত তাহরীর, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, নব্য জেএমবি, আহলে হাদীস, জাকির নায়েক, বিন বা’য ও আলবানীরা। যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ।

বক্তারা বলেন, ওহাবী-সালাফী মতবাদের আন্তর্জাতিক ফসল হচ্ছে, আইএস, আন্‌ নুসরা, আল শাবাব, বোকো হারাম, আল কায়েদা ও তালেবানের মতো উগ্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। ধর্মের নামে গড়ে উঠা এসব গ্রুপের সদস্যরা সউদী আরবের মদীনা ইউনিভার্সিটি সহ বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সারাবিশ্বে সন্ত্রাসবাদী ও বিতর্কিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রথমে তারা মুসলমানদের শ্বাশত ও সম্মানিত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোধগার করে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে আক্বীদাগত দ্বন্দ্ব ও বিভেদ সৃষ্টি করছে এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুদের খুশি করার জন্য মুসলমান নামধারীদের দিয়ে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে। মুসলমানদের দল উপদলে বিভক্ত করছে। মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে কাজ করে যাচ্ছে সন্ত্রাসী সালাফীরা।

বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী আইএস এর মৌলিক মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা তাইমিয়া, আল বানী এবং জাকির নায়েকের এদেশীয় অনুচর আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, ড. শহিদুল্লাহ খান নাদানী, মতিউর রহমান নাদানী, ড. সাইফুল্লাহ, কাজী ইবরাহীম, মুজাফ্ফর বিন মহসিন, আমানুল্লাহ বিন ইসমাইল নাদানী, আসাদুল্লাহ আল গালীব, আমীর হামজা, আব্দুল হাই মোঃ সাইফুল্লাহ’রা এদেশে উগ্র সন্ত্রাসবাদী প্রচার করছে। গুলশান হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীরা সালাফী। জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীও সালাফী। সন্ত্রাসবাদের শিক্ষাদাতা ধানমন্ডির লকহিড গ্রামার স্কুলের মালিক সালাফী। সন্ত্রাসী কার্যকলাপই এদের ধর্ম।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাস রুখতে সন্ত্রাসী সালাফী মতবাদ নিষিদ্ধ না করলে এদেশে আইএস মতাদর্শী, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম তৈরী বন্ধ হবে না। সন্ত্রাসবাদীদের নির্মুল করা দুস্কর হয়ে পড়বে। তাই অবিলম্বে ওহাবী-সালাফীদের নিষিদ্ধ করতে হবে। তাই বাংলাদেশে তাদের সকল প্রতিষ্ঠান, বই কিতাব, ওয়াজ মাহফিল, ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করতে হবে। সারাদেশে নব্য দাজ্জাল, সালাফী ভন্ডদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে মামলা দিতে হবে।
পাশাপাশি দেওয়ানবাগীর ইসলাম অবমাননাকর ও ধৃষ্টতামূলক অসংখ্য বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে এযাবত আঘাত দিয়ে চলছে। কিন্তু সরকারের নীরব ভূমিকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান হতাশ। অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য তাকে গ্রফতার অতঃপর বিচার করতে হবে। দ্বীন ইসলাম বিরোধী মারাত্মক কুফরী আক্বীদা প্রচার করায় দেওয়ানবাগী ভন্ডকে গ্রেফতার করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুরতাদ ঘোষণা করতে হবে ও মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।

সমাবেশ ও মানবন্ধনে সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ-সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। সহ সভাপতি লায়ন আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আতাউর রহমান বঙ্গ, হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর সভাপতি- বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, মাওলানা মুহম্মদ শোয়েব আহমেদ, হাফেজ ক্বারী মুহম্মদ শাহ আলম ফরাজী, হাফেজ মুহম্মদ আব্দুল বারী, কারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদুজ্জামান আল কাদেরী, আলহাজ মুহম্মদ খোরশেদ আলম রেজভী, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আল আমীন, আলহাজ্জ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক, মুহম্মদ আল আমীন, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল গফুর, মুহম্মদ গরীব মাহাবুব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।

বিজ্ঞপ্তি।

লেখাটি ২০৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৬৪১১৫৪৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৯৪ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger