রাজনীতি

মৌলভীবাজারে কৃষক সমিতি’র টাকা আত্মসাৎ ও মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ

image
Fri, June 8
04:17 2018

বিশেষ সংবাদদাতা:

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার “খামারগাঁও, নোয়ারাই ও শাহবাজপুর কৃষক সমিতি’র” ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতি সৈয়দ আবির আলী’র বিরুদ্ধে।

সদস্যরা জমাকৃত টাকার হিসাব চাওয়ায় ইতিমধ্যে শিকার হয়েছেন একাধিক মামলার। বিষয়টি সমাধান করতে স্থানীয় ভাবে একাধিক শালিশ বৈঠক বসলেও সমাধান হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসী আবিরের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হয় অত্যাচার, নির্যাতন ও মামলার। ওই মামলাবাজের কপ্পরে এখন পুরো গ্রাম। মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন অনেক। মামলাবাজ আবির এখন এলাকাবাসীর আতংক। একটি সূত্র বলছে সে কতিপয় অসাধু লোককে ম্যানেজ করে এমন বেপরোয়া অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে নোয়ারাই, খামারগাঁও ও শাহবাজপুর নামে একটি কৃষি সমবায় সমিতি গড়ে উঠে এবং বিআরডিবির মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশনও করা হয়। ওই সমিতির সভাপতি করা হয় ওই গ্রামের সেই আবির আলীকে। ওই বছরের শেষের দিকে গ্রামে অবস্থিত পানি উন্নয় বোর্ডের আতওতাধীন সেচ খালের জলাশয় লিজ এনেছে বলে মাছ চাষ শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে খোজ নিয়ে জানা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ খালসহ বাধের উপরের জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে রশিদ-শিরিন নামে একটি সমিতি লিজ এনে গাছের চারা রোপন করেছে। আবির ২০০৯ সালে এই গাছের চারাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল নিজের দখলে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ওই সমিতির লোকজন ২০১০ সালে মামলা দায়ের করলে ২০১৪ সালে মামলার রায় আসে গ্রামের লোকজনের পক্ষে। যার ফলে আবির সমিতির টাকা দিয়ে মামলা চালিয়ে রায় এনে একা তারা দখলে মাছ চাষাবাদ করে ১৫/১৬ লক্ষ টাকা লুট করে।

সম্প্রতি আবির নোয়ারাই জামে মসজিদে চলতি রমজানের ২দিন কোরআন প্রশিক্ষণ বন্ধ রেখে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে দেয়নি। এ ঘটনাটি এলাকাবাসী মৌলীভবাজার মডেল থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবগত করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মসজিদের তালা খোলে নামাজের ব্যবস্থা করে দেন।

আরোও জানা যায়, পরবর্তীতে সমিতির সদস্য সমিতির টাকা ও মাছ চাষের লাভের টাকার হিসাব চাইলে সে কোনো হিসাব না দিয়ে একাধিক মামলা, হামলা ও ভয় প্রদর্শন করে পরাস্থ করতে থাকে।

এবিষয়ে সমিতির বর্তমান সভাপতি কুতব মিয়া, সদস্য শেখ নুরুল ইসলাম সুন্দর মিয়া ও কয়েছ মিয়াসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, দীর্ঘ আট বছর যাবত ফিসারী থেকে তাদের কমপক্ষে মনুফা রয়েছে ১৫/১৬ লক্ষ টাকা। চাঁদার টাকাসহ তারা আবিরের কাছে পাবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মতো। আবির এর কোনো হিসেবে দিচ্ছে না।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি শালিস করে কোনো সমাধান পাননি। অবশেষে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী সমিতির সকল সদস্য এক জরুরি সভা ডেকে আবিরকে সমিতি থেকে বহিষ্কার করেন।

এবিষয়ে সৈয়দ আবির আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এনিয়ে একাধিক মামলা চলছে এবং আমি সম্প্রতি পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। কিছু লোক আমাকে হয়রানি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে একাজ গুলো করছে।

লেখাটি ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৩১১৯১১৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৪৩ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা