অর্থের অভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আইনের ছাত্রী মিম!

রাজনীতি

অর্থের অভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আইনের ছাত্রী মিম!

image
Mon, June 11
02:06 2018

মোঃখালেদ বিন ফিরোজ, নওগাঁ:

অর্থের অভাবে বাড়িতে বসে অলস সময় কাটছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্রী শারমিন আকতার মিমের। পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে পরিবারের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গত প্রায় ৫ মাসে তার ৫০হাজারের বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। বর্তমানে রিকশা চালক পিতার পক্ষে তার পড়াশোনার খরচ যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় একটি সম্ভাবনাময় স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনাশ হতে চলেছে।

শারমিন আকতার মিম জানায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৬ নম্বরে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন তিনি। গত ১০ জানুয়ারি থেকে প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসও নিয়মিত শুরু করেন তিনি। তবে আবাসিক হল না পাওয়ায় মেসে থেকে পড়াশোনা চালাতে থাকেন তিনি। কিন্তু তার জন্য প্রতি মাসে থাকা-খাওয়া বাবদ প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যেটা তার দরিদ্র রিকশাচালক পিতার পক্ষে জোগান দেয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গত এক মাস ধরে বাড়িতেই বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তার প্রশ্ন এ সমাজে এমন কি কেউ নেই যে, তার পড়াশোনার খরচ যোগাতে সহায়তা করবেন? যাতে তার ভবিষ্যত অনাগত স্বপ্ন সত্যি হতে পারে!

শারমিন আক্তার মিম নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের রিকশাচালক জামাল হোসেন ও গৃহিণী মা মোরশেদা খাতুনের বড় মেয়ে। ছোট বোন শাহারা আফরিন মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া মাত্র চার শতাংশ জমির মালিক মিমের পিতা জামাল হোসেন। সেখানেই টিন ও বুনের বেড়া দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে ঠাসাঠাসি করে পরিবারের চারজন সদস্যের একত্রে বসবাস। শারমিন আক্তার মিম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। অভাব ও দরিদ্র তাকে দমাতে পারেনি কখনো।

মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালের ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় ৫১০ নম্বর পেয়ে বৃত্তিলাভ করেন। মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে বৃত্তি পান। পরে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে আবার জিপিএ-৫ এবং ২০১৭ সালের নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ- ৪.২৫ অর্জন করেন।


হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা মিম এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এতদিন পড়াশোনা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এখন উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও টাকার অভাবে এখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে।

শারমিনের মা মোরশেদা খাতুন অশ্রসিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের জানান , শত কষ্টের মাঝেও মেয়ে দু’টিকে শিক্ষিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি। আমাদের পক্ষে কিছুতেই প্রতিমাসে এত টাকা যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাঝপথে টাকার অভাবে মেয়ে মিমের স্বপ্ন এখন স্বপ্নই রয়ে যাচ্ছে।

লেখাটি ৩৬০৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৬৪৪৩৪৮৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৯৪ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger