আন্তর্জাতিক

ভারত বিএনপিকে পছন্দ করে না; এটা একেবারেই ভুল প্রশ্ন এবং ভুল দৃষ্টিভঙ্গী: বীনা সিক্রি

image
Mon, June 11
04:20 2018

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

'যদি বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তখন কী হবে?' মাসখানেক আগে ভারতের একটি প্রভাবশালী সাপ্তাহিকে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ঠিক এই প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুজন বিশ্লেষক, যারা কাজ করেন একটি ফরেন পলিসি থিংক ট্যাংকের সঙ্গে।

মেইনস্ট্রীম উইকলি'তে প্রকাশিত এই নিবন্ধটির শিরোণাম ছিল, "ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ: হোয়াট ইফ বিএনপি রিটার্নস।"

এর ঠিক এক মাস পরে বিএনপির কারাবন্দী নেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন দলের কর্মী-সমর্থকরা চরম উৎকন্ঠায়, তখন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলকে দেখা গেল নয়াদিল্লিতে। সেখানে তারা দফায় দফায় কথা বলছেন কীভাবে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় সেটা নিয়ে।

আর ঠিক ঐ একই সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছুটে গেছেন লন্ডনে, যেখানে গত প্রায় দশ বছর ধরে নির্বাসিত দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা তারেক রহমান বসবাস করছেন।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দুতে একই রকম সময়ে প্রকাশিত হলো একটি প্রতিবেদন, যার মূল কথা, বিএনপি নেতারা ভারতের কাছে সাহায্য চাইছেন বাংলাদেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে।

বিএনপি বাংলাদেশে পরিচিত একটি ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে।

কিন্তু গত মাসখানেকের ঘটনা কি সেখানে কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? বিএনপি কি তার ভারত সম্পর্কিত অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনছে? ভারতের নীতিনির্ধারকরা কি বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন?

বিএনপি নিয়ে নতুন আগ্রহ

ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক, লেখক ও সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে বিএনপি ভারতের আস্থা অর্জনে নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিএনপির নেতাদের কথাতেও তার আভাস মিলছে। আর এর পাশাপাশি ভারতের নীতিনির্ধারকরাও বাংলাদেশে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিতে বিবেচনায় রাখতে চাইছেন।

বিএনপি যে বাংলাদেশে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি, তারা যে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে, আবারও বাংলাদেশে সরকার গঠন করতে পারে, এই বিবেচনাগুলো কিন্তু ভারত সরকারের নীতিনির্ধারকরা একেবারে বাদ দিতে চাইছেন না।

বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে, ভারতের কাছে আওয়ামী লীগ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের দল এবং বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসুক এটি তারা চায় না।

আমি একদম সোজা এই প্রশ্নটাই করেছিলাম অবসরপ্রাপ্ত একজন ভারতীয় কূটনীতিক বীনা সিক্রির কাছে। বাংলাদেশে একসময় ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন বীনা সিক্রি, ২০০৩ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, যখন বিএনপি ছিল ক্ষমতায়। তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া'র বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টারের সাবেক চেয়ার।

ভারত বিএনপিকে পছন্দ করে না এবং আওয়ামী লীগের প্রতিই তাদের পক্ষপাত, বীনা সিক্রি কিন্তু এই ধারণা একেবারেই নাকচ করে দিলেন।

"এটা একেবারেই ভুল প্রশ্ন এবং ভুল দৃষ্টিভঙ্গী। ভারত বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে আগ্রহী। ভারতের নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসির মূল কথাও এটাই। পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এটা হবে।"

তিনি স্বীকার করছেন যে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিরাট উন্নতি হয়েছে, কিন্তু তিনি একই সঙ্গে এটাও বলছেন, ভারত বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, কথা বলতে প্রস্তত। তবে তাদেরকে অবশ্যই দুদেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিএনপি প্রতিনিধি দল যে ভারতে গেছে বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে কথা বলতে সে ব্যাপারে তার মন্তব্য কি?

বীনা সিক্রি বলছেন, ভারত যে কারও সঙ্গে কথা বলতে রাজী। কারণ ভারত পিপল-টু-পিপল রিলেশনশীপে বিশ্বাসী। কাজেই যে কোন কারও সঙ্গেই ভারত কথা বলতে রাজী।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের জন্য ভারতের সহায়তা চান। তারা মনে করেন, বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ভারতের যথেষ্ট প্রভাব আছে। সেই প্রভাব ভারত কাজে লাগাতে পারে।

কিন্তু ভারত কি সেই ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত?

বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বীনা সিক্রি মানতে নারাজ, এখানে ভারতের কোন ভূমিকা আছে।

"কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক দায়িত্ব তো বাংলাদেশের। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপার। কাজেই ভারত যে কোনভাবেই বাংলাদেশের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে, এটা হবে না। কখনোই না। অতীতেও ভারত এটা কখনো করেনি। এবং ভবিষ্যতেও ভারত কখনো এরকম হস্তক্ষেপের কথা বিবেচনা করবে বলে আমি মনে করি না।"

বিবিসি বাংলা।

লেখাটি ১০৭৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৩২৮১২০৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৫১ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা