রাজনীতি

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড আইয়ুব খানের এনএসএফকে ছাড়িয়ে গেছে: কোটা সংস্কার আন্দোলন নেত্রী উম্মে হাবিবা বেনজির, ভিডিও সহ

image
Tue, July 3
07:48 2018

নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নারকীয় তা-বের বিচার চেয়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি করেন তারা। ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর কার্যালয়ে গিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এসময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নারকীয় তা-ব বন্ধে প্রক্টরিয়াল বডি কী ভূমিকা রেখেছে তাও জানতে চায় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রক্টর বিচারের আশ্বাস দিলেও এক সময় কার্যালয় ছেড়ে চলে যান প্রক্টর।

এদিকে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র পর একই স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ‘গুজব ছড়াবেন না’ শিরোনামে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ মানববন্ধনে অংশ নেয়াদের অধিকাংশই গত তিনদিন ধরে ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবি করে আসা শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে মারধর করেছিল। উচ্চ গতি ও শব্দে বাইক চালিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী’রা নিজেদের মানববন্ধনে বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ড বহন করে। যেখানে লেখা ছিল ‘ছাত্রলীগ তুমি কলম দিয়ে লেখ, না বন্দুক দিয়ে’, ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দে নইলে পদ ছেড়ে দে’, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাস থেকে শিক্ষা বাচাঁও,’ ‘আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার বিচার চাই,’ ‘আন্দোলনের সাথে প্রহসন বন্ধ কর, যৌক্তিক সংস্কার কর’ ইত্যাদি।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কোটা সংস্কারকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় প্রশাসন প্রমাণ করেছে তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের উচিত তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া।’

পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্রী উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, গত দুইদিন ক্যাম্পাস খুলতে না খুলতেই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ সময়ে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড কে আইয়ুব খানের এন এস এফকে ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রক্টর গত শনিবারের ঘটনায় বলেছেন ক্যাম্পাস ছুটি ছিল। তিনি কিছু জানতেন না। তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অথচ প্রক্টরের দায়িত্ব ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ক্যাম্পাস ছুটি কিনা এ কথা বলার কোন সুযোগ নেই। তিনি দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পদত্যাগ করা উচিত। সালমান

ফারসি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগ নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের মারধর করে যাচ্ছে। এতে তাদের কোন বিচারও করে না প্রশাসন।

বিশ্বধর্ম ও সাংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া অনিমেষ বলেন, গত দুইদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তখন প্রশাসন চুপ ছিল। তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসন নৈতিকভাবে যে জায়গায় আছে সেখানে থেকে চুপ থাকতে পারে না।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পর একইস্থানে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গত তিনদিন যাবৎ মারধর করেছিল। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদধারীরাও ছিল। তাদের দাবি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাই তারা প্রতিহত করছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেয়াদের মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মাদ নিজামুল ইসলাম, ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক শেখ সাগর আহম্মেদ, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পদাক রানা হামিদ, সহ-সম্পাদক জাহিদ হাসান জয়, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের বর্ধিত কমিটির সদস্য শেখ আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি ও হলশাখার নেতাকর্মীরা। তবে টেলিভিশন ক্যামেরা দেখে মানববন্ধন ছেড়ে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগের পদধারীরা।

লেখাটি ২৭৫ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Video




Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৫১১৯৭০৯

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৭৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা