আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে কষ্ট হবে, এখানে আবার আসার পরিকল্পনা করে ফেলেছি: বার্নিকাট

image
Fri, July 6
12:04 2018

‘নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম:

বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হবে। তবে আমি ইতমধ্যেই এখানে আবার আসার পরিকল্পনা করে ফেলেছি।’ - যুক্তরাষ্ট্রের ২৪২তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট তাঁর বক্তব্যে এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তাঁর শেষ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন।

রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের পুরো বক্তব্যে ইউ এস এমব্যাসির ওয়েবসাইট থেকে নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল,


হিজ এক্সসেলেন্সি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এম. পি., মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ;

মাননীয় প্রধান অতিথি ড.ক্যাসওয়েল, নভো বিজ্ঞানী এবং মহাকাশে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণকারী; গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বন্ধু ও সহকর্মীরা:

আসসালামু আলাইকুম, নমস্কার, শুভ সন্ধ্যা।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আপনাদের স্বাগতম এবং ৪ঠা জুলাইয়ের আগাম শুভেচ্ছা! আগামীকাল (বুধবার) বিশ্বজুড়ে আমেরিকানরা তাদের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে এই ছুটির দিনটি উদযাপন করবে। আপনাদের অনেকেই যেমনটি জানেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটাই আমার শেষ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৪২তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনে আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসটি নিছক আমাদের দেশের জন্মলাভের বার্ষিকী নয়। এটা সেই শাশ্বত সত্যকেই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটা জনগোষ্ঠী চেষ্টা করলে তাদের নিজস্ব ভবিষ্যত গড়ে নিতে পারে। এমন ভবিষ্যত যা অব্যাহতভাবে জীবনের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেশের সকল নাগরিকের জন্য সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যায়। একটা সুবিশাল পরীক্ষা- স্বশাসন,গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য অবিচল সাধনার এক পরীক্ষা- যে বিশ্বকে বদলে দিতে পারে ৪ ঠা জুলাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। সেই পরীক্ষাটি আমাদের মাঝে বেঁচে আছে এবং আজকে তা ভালোভাবেই আছে যতদিন আমরা আমাদের স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠাতারা যা ঘোষণা করেছেন “আরো নিখুঁত ঐক্য গড়ে তুলতে” তা অনুসরণ করছি ।

আপনারা হয়তো এই সাজসজ্জা থেকে বুঝতে পারছেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা বেছে নিয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটিকে -যা একইসঙ্গে সবচেয়ে বিনীত ঘটনাও বটে । সেটি হচ্ছে আমাদের মহাকাশ অভিযান এবং নাসার ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

একটা সময় এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এক তুমুল প্রতিযোগিতা, যা দুর্দানত দ্বন্দ্বকে ধারণ করেছিল এবং আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে নতুন করে সংগায়িত করেছে । সুদূর মহাশূন্যে বেরিয়ে পড়ে অনুসন্ধানের অদম্য আকাঙ্খা আমাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কারের প্রচেষ্টাকে উৎসাহ যুগিয়ে এগিয়ে নিয়েছে। এসব প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের অগণন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। ক্যামেরা ফোন ও খেলোয়াড়দের জুতা থেকে শুরু করে বহনযোগ্য পানি শোধনের যন্ত্র এবং জীবনরক্ষাকারী পুষ্টিসমৃদ্ধ শিশু ফর্মূলা -এ রকম অনেক উদ্ভাবনই আমাদের মহাকাশ কর্মসূচির প্রত্যক্ষ ফল। আর বর্তমানে মহাকাশ অনুসন্ধান ও গবেষণার বিষয়টি কূটনীতির ক্ষেত্রেও অপ্রত্যাশিতভাবে হলেও এক অনন্য ভিত্তি পেয়েছে।

চলতি বছর বিশ্ব বাংলাদেশকে নাসা ও স্পেসএক্স-এর সহায়তায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করতে দেখল। বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে দ্রুতগতির অভিযাত্রায় এটা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশি জনগণের অদম্য সংকল্প আর সৃষ্টিশীলতার এক টি খাঁটি নজির এটি।

আমার বিশ্বাস, এই দৃঢ় সংকল্প আর প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য এই উচ্চাভিলাষই আমেরিকান ও বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমাদের উভয় দেশের সংবিধানে এই ধারণা সন্নিবেশিত আছে যে, সকল মানুষ জন্মগতভাবে সমান। তাদের চিন্তা, উদ্ভাবন আর নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ ও স্বাধীনতা দেওয়া হলে অপার সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

এ বছরের শেষ ভাগে আমাদের উভয় দেশেই এসব মূল্যবোধের একটা পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের নাগরিকেরাই ব্যালটবাক্সে নিজেদের মতের প্রতিফলন ঘটাবে, যা হবে স্বশাসনের সত্যিকারের বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের শেষ লগ্নে এসে আমি বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের জনগণকে সেই আহ্বানটিই জানাতে চাই, যা আমি বলতে চাই আমার নিজের দেশের সরকার এবং জনগণকেও। সেটা হচ্ছে: আমাদের সমর্থন করতে হবে অহিংস, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন যা কিনা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।

বাংলাদেশী জনগণের প্রজ্ঞা এবং প্রত্যয় দ্বারাই একটি স্বাধীন , ধর্ম নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্ম সম্ভব হয়েছিল I সাতচল্লিশ বছর পর সেই একই প্রজ্ঞা আর প্রত্যয় এখন মহা আকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন সম্ভব করেছে I আমি বিশ্বাস করি সেই একই প্রজ্ঞাও প্রতিটি ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করবে I

বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হবে। তবে আমি ইতমধ্যেই এখানে আবার আসার পরিকল্পনা করে ফেলেছি। আবার যখন আসব তখন একেবারেই ভিন্ন একটি বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশা করি আমি। আরও অগ্রসর, আরও উন্নত এক বাংলাদেশ। তবে সে বাংলাদেশে থাকবে স্বাধীনতার জন্য সেই একই সংকল্প ও আবেগ যা ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশের মানুষের মনে জাগরুক।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে জীবনাবসান হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রণেতা টমাস জেফারসনের। মৃত্যুর আগে তিনি হয়তো আমাদের আজকের উদযাপনের ছবিটা কল্পনা করতে পেরেছিলেন। টমাস জেফারসন লিখেছিলেন: “প্রতিবছর এ দিনটির প্রত্যাবর্তন যেন চিরদিন ওই অধিকারগুলো নিয়ে আমাদের স্মৃতি আর অমলিন শ্রদ্ধা নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।“

আজ আমি ২৪২ বছর ধরে সগর্বে টিকে থাকা ওইসব অধিকার আর প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিগুলো আপনাদের সঙ্গে উদযাপন করতে পেরে আনন্দিত। সর্বজনীন এসব অধিকার ও নীতি আমাদের দুই দেশকে নানাভাবে বন্ধনে আবদ্ধ করে। পাশাপাশি উভয় দেশের নাগরিক তথা বিশ্বের জন্য বয়ে আনে অভিন্ন কল্যাণ।

আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ!

অনেক ধন্যবাদ!

আবার দেখা হবে!

লেখাটি ২৬৭৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৯২১৭৮৯৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১১৭ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger