রাজনীতি

ফুটবলকে কেন্দ্র করেই কি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ?

image
Sat, July 7
02:53 2018

শাফিউল কায়েস:

দিনটি ছিলো ৪ ঠা জুলাই রোজ বুধবার। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে।

বিকালবেলা স্থানীয় প্রায় ১৬ জন ছেলে ক্যাম্পাসে ফুটবল খেলতে আসে। সন্ধ্যার পূর্বমুহূর্তে তারা শৃঙ্খলভাবে খেলা শেষ করে।খেলা শেষ হলে তারা ক্যাম্পাস লেকে গিয়ে অশালীনভাবে গোসল শুরু করে। লেকের পাশে বসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে অশ্লীল ভাষায় টিস করতে থাকে।

লেকের পাশে উপস্থিত থাকা কয়েক জন ভার্সিটি'র ছাত্র এই ঘটনা লক্ষ্য করে। যখন তারা দেখলো স্থানীয় ছেলেরা আরো বেশি পরিমানে বিরক্ত করছে তখন ভার্সিটির কয়েক জন ছাত্র এর প্রতিবাদ করলে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

এই সংঘর্ষে কয়েক জন ভার্সিটির শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।তৎক্ষনাৎ তাদেরকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাস সংলগ্ন সোবাহান সড়কের দিকে মিছিলটি নিয়ে যায়। এসময় এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের আবারও সংঘর্ষ বাধে। তখন এলাকাবাসীরা স্থানীয় মসজিদদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে আক্রমণ চালায়। এসময় তারা একটি মোটর সাইকেল, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনাসহ গাছপালায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩০-৩৫ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত হলে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় জেনারেল হাসপাতালে।

রাতে পৌনে ১১টার পর পর্যন্ত এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ত্রিমাত্রিক সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছিলো। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো।

সত্য প্রকাশের জন্য চাই সঠিক তথ্যের লেখনি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এছাড়া ইডিটিং ছাড়াই ভিডিও চিত্র।

বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন,অনেক টিভিতেও ভুল সংবাদ প্রচারণা করেছে। যেসব সংবাদ পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেল এই ভুল সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতিনিধিদের অনুরুধ পরবর্তী সংবাদ গুলো সঠিক ভাবে পরিবেশন করেন তা নাহলে জনসাধারনে মিথ্যাকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করবে।

এই সংঘর্ষের মূল কারণ ছিলো ভার্সিটর মেয়েদেরকে অশ্লীল ভাষায় বিরক্ত করায়,কোন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নয়। তবে অনেক অনলাইন পত্রিকাও এই ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আর যে সব সাংবাদিক ভাইয়েরা সত্যকে তুলে ধরেছেন তাদেরকে সকলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। এছাড়াও ধন্যবাদ জানাই গোপালগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসালাম(স্যার)কে ততৎক্ষনাৎ সংঘর্ষে তার বাহিনী নিয়ে উপস্তিত থাকার জন্য সাথে ঘটনায় উপস্থিত সকল পুলিশ বাহিনী কে।

আমি চাই না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নাম হোক,আমি চাই না শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হোক ,আমি চাই না এলাকাবাসীর কোন ক্ষতি হোক।

আমার মতে এই ছোট ইস্যু কে জড়িয়ে এতবড় ঘটনা তৈরী করা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আদো কি উচিত হয়েছিলো?

শিক্ষার্থী ভায়েরা আপানাদেরকে বলছি, প্রতিবাদ করছেন অনেক ভালো করছেন!আমিও নিন্দা জানাই যারা বোনদের কে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে টিস করে, তদেরকে বিরক্ত কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায় দোকানপাট ভাঙচুর, দোকানে আগুন ।এসবের মানে হয়তো শূন্য।তোমাদের জন্য ,আমাদের জন্য এই দোকানের মানুষগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে।এতে করে হয় কি ওনাদেরও পকেটে কিছু ঢোকে ,পরিবার চলে। আর তোমাদের আমাদেরও অতিসহজে চাহিদা মেটে।মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকান ,আপনাদের এই ভাঙচুর কিংবা দোকানে আগুন দেয়া ঠিক হয়নি। আর আমার কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন।আর গোটা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে আমার অনুরোধ যা করেন আর তাই করেন গরীব-অসহায়দের পেটে লাথি মেরে বিশৃঙ্খলা করবেন না।

বিক্ষোভ মিছিল হবে!হবে অসহযোগ আন্দোলন।আমিও এর পক্ষে কিন্তু অসহায় গরীদের কথা চিন্তা করুন পেটের দায়ে ,এক বেলা ভালো খাবে বলেই তাদের এত হাড়ভাঙা পরিশ্রম।

এলাকাসীর উদ্দেশ্য বলছি, যারা পড়াশোনার জন্য আপনাদের এলাকায় আসছে, তারা আপনাদের কাছে আমানত। ধর্ম কিংবা মানবিক দৃষ্টিতে তাকালে মনে হয় তাদের সাথে কোন রকম খারাপ ব্যবহার করা আপনাদের ঠিক হবে না।তাদের বিপদের সময় আপনাদের পাশে দাড়ানো উচিত ।যদি বিপদে পাশে নাও দাড়াতে পারেন তাহলে আপনাদের দায়িত্ব, আপনাদের দ্বারা যেনো তারা কোন ভাবে বিপদের সম্মুখীন না হয়।শুধু গোপালগঞ্জ এলাকাবাসীর উদ্দেশ্য বলছিনা, সমগ্র দেশের এলাকাবাসীদের বলছি বহিরাগতদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের।

আমার এই লেখার এক মাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে , সাংবাদিক ভাইয়েরা যাতে সঠিক ও সত্য সংবাদ পরিবেশন করেন,য শিক্ষার্থীর যেনো গরীব-অসহায় মানুষের পেটে লাথি না মারে,এলাকাবাসীর দ্বারা বহিরাগতরা কোন ভাবে বিপদে না পড়ে, পুলিশদেরকে জানাই আপনাদের পরিশ্রম ব্যর্থ যেনো না হয়।


আমার এই লেখায় আশা করি কোন প্রতিষ্ঠান, এলাকা,শিক্ষার্থী হেয় প্রতিপন্ন হবে না।

"মিলেমিশে থাকায় হচ্ছে সবচেয়ে শান্তির প্রতীক"

লেখাটি ১৮০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৯১৫৮৮৭৯

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১১৭ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger