আন্তর্জাতিক

আবারো অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানাল ইইউ

image
Wed, July 11
02:26 2018

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য স্বাধীন এবং দৃঢ়চেতা নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন সবার শান্তিপূর্ণ প্রচার ও মতপ্রকাশ এবং ভোটারদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কিত আলোচনায় এ অভিমত প্রকাশ করে বলেন, দেশটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক গ্রুপের প্রধান মিস জ্যাঁ ল্যামবার্ট সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টিকারী সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে তিনি দলীয় যুবগোষ্ঠীগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। মিস ল্যামবার্ট বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্র ও মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র চার্লস ট্যানকের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি বড় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি কমিটি কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের পক্ষে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে এবং তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ সবারই থাকবে। তবে তিনি বলেন, যদি কোনো দল নির্বাচনে না আসে তাহলে এর কারণ হচ্ছে তারা তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথা বুঝতে পেরেই আসবে না। এ আলোচনায় বিএনপি আমন্ত্রিত হলেও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সভায় অংশগ্রহণ না করার কথা তারা আগেই জানিয়ে দেয়।

সভার শুরুতে চার্লস ট্যানক বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতির প্রশংসা করে সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সিগফ্রেড উলফ বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা বিস্তারের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হলেও আগামী নির্বাচনে তারা প্রভাব ফেলবে। তিনি মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে সিগফ্রেড উলফ বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং কারাগারগুলো জঙ্গিদের মতবাদ বিস্তারের লক্ষ্য হয়ে উঠছে। তবে এমইপি মিস ল্যামবার্ট বলেন, সন্ত্রাসবাদ প্রসারের কাজ যে শুধু একটি দল করছে তা নয়, অনেক গোষ্ঠীই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপকে লক্ষ্য করে জিহাদিরা কাজ করছে। চার্লস ট্যানক বলেন, বিএনপি যদি জামায়াতকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে, তবে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং মসিউর রহমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, গত নয় বছরে যত অগ্রগতি হয়েছে, তা বিস্ময়কর। তাঁরা দুজন এবং দীপু মনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রথাগত নির্বাচনের ইশতেহার দেওয়ার পরিবর্তে দিনবদলের কর্মসূচি তৈরি করে, যাতে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এখন ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে বলেও তাঁরা জানান। দেশের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান।

তবে ইউরোপীয় কমিশনের জন্য বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক উইলিয়াম ভ্যান ডার জিস্ট বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি হলেও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের খানা জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে বৈষম্য বেড়েছে, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমেছে। আগামী ১২ বছরের মধ্যে দেশটিতে দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে হবে।

অধ্যাপক জিস্ট বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মান কমার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানের যে অবনতি ঘটেছে, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। দারুস সালাম বা আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং ঢাকার চেয়েও ওপরে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এগুলোর দিকে নজর না দিলে ২০৪১ সালে মধ্যম আয়ের বৃত্ত থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবে না।

সভায় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যদের (এমইপি) মধ্যে সাইয়েদ কামাল, ব্যারনেস মোবারক, সাজ্জাদ করিম, আমজাদ বশির বক্তব্য দেন।

সাইয়েদ কামাল আইএসের মতো ইসলামি জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলার জন্য সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। বাণিজ্য বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের সদস্য সাজ্জাদ করিম ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের অধিকার ও মজুরিবিষয়ক সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। ব্যারনেস মোবারক নারীর ক্ষমতায়নে আরও উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন। আমজাদ বশির রোহিঙ্গাদের আশ্রয়শিবির দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের এই অবস্থা কোনোভাবেই স্থায়ী হতে দেওয়া যায় না।

সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশের অজিত সাহা এবং সেক্যুলার মুভমেন্ট অব বাংলাদেশের পুষ্পিতা গুপ্ত সংখ্যালঘু, বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সহিংসতা ও বৈষম্যের কথা তুলে বলেন। তাঁরা দুজনেই বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন হলেই হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। তার আর বিচার হয় না। তাই আগামী নির্বাচন নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন বলে জানান। অজিত সাহা গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন হামলার ঘটনার ছবি ও তথ্য তুলে ধরে বলেন, সরকার এসব ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে দীপু মনি বলেন, হিন্দুরা আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় এমন ধারণা থেকেই বিএনপি-জামায়াত তাদের ওপর হামলা চালায়। অবশ্য সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বৈষম্যের অভিযোগের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েছে।

লেখাটি ৭৩০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৫১১৯১৫৯

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৭৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা