রাজনীতি

বিদ্যুৎ বিভাগের তেলেসমাতি; খুঁটি নেই, মিটার নেই, সংযোগ ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল!

image
Thu, July 12
11:32 2018

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

খুঁটি নেই, মিটার নেই, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। তারপরও দিতে হবে বিদ্যুৎ বিল। এটা কোন আজব দেশের ঘটনা। আর এই ভৌতিক বিলের খপ্পরে পরেছে উত্তরের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলাধীন আদিতমারী উপজেলার ৪৩ পরিবার। ভূতড়ে বিলের প্রতিবাদে সম্প্রতি বিক্ষোভও করেছেন ঐ সব ভুক্তভোগী পরিবার।

তিন বছর আগে বিদ্যুত সংযোগের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কালীগঞ্জ শাখায় আবেদন করেন আদিতমারীর মহিষাশ্বহর গ্রামের ওই ৪৩ পরিবার। আবেদনের সূত্রধরে স্থানীয় দালাল সাইফুল ইসলাম প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করে মিটার প্রতি ১২/১৫ হাজার টাকা। তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়। এরইমধ্যে পার হয়েছে তিন বছর তিন মাস। কিন্তু এখনো তাদের ভাগ্যে জোটেনি খুঁটি, লাইন বা মিটার। আর গেল সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চলে গেছে বেসরকারি খাতে। বিধি মতে, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বন্ধ হয়ে যায় নতুন সংযোগ। এতে করে বিপাকে পড়েন বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও দালাল চক্রটি।

এক পর্যায়ে গ্রাহকদের চাপে গত বছর ৪৩ পরিবারের জন্য মিটার বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন দালাল সাইফুল। পরে খুঁটি বা লাইন না পেয়ে গ্রাহকরা মিটারগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এ অবস্থায় গেল জুন মাসে ওই পরিবারগুলোর নামে ৫ হাজার ৯৩ টাকা হারে দুই লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-নেসকো। এর পরের ঘটনা ভিন্ন। ভূতড়ে বিদ্যুৎ বিল দেখে হতভম্ভ ওইসব পরিবার। বিলের কাগজপত্র নিয়ে কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি সমাধানে দাবি অভিযোগ জানালেও হয়নি কোনো কাজ।

ওই গ্রামের লুৎফর রহমান ও জসির মিয়া বলেন, সাইফুলের কথা মত তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ১৫ হাজার টাকা দেই। বিদ্যুতের জন্য কেউ কেউ গরু-ছাগল পর্যন্ত বিক্রি করেও টাকা দেন সাইফুলকে। কিন্তু তিন বছরেও কোনো কাজ হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও উপরন্তু ৫ হাজার ৯৩ টাকার বিল দেয়া হয়েছে প্রত্যেকের নামে। শুধু তাই নয়, বিল পরিশোধ না করলে মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহিষাশ্বহর গ্রামের আনছার আলী, ইউনুস আলী, কাছিম উদ্দিন, ফজলুল হক ও জছির মিয়া জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অন্যরা আবেদন করলেও তারা আবেদন করেননি। অথচ তাদের ১০ জনের নামেও ৫ হাজার ৯৩ টাকা হারে বিল করা হয়েছে। এ ধরনের ভুয়া বিদ্যুৎ বিল বাতিল করে দ্রুত সংযোগ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে দালাল সাইফুল ইসলাম জানান, আবেদনকারীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা বিদ্যুতের ঠিকাদার রেজাউলের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে। তবে সংযোগ না দিয়ে বিল আসায়, সেও হতভম্ব। তারও জানা নেই বিলগুলো কেন পাঠানো হয়েছে বা পরিশোধ না হলে কী হবে এসব পরিবারের।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-নেসকো কালীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী শাহানুর ইসলাম জানান, বাস্তবে যদিও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। কিন্তু গ্রাহকদের নামে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে কাগজ-কলমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেখানোর কারণে ন্যূনতম হিসাব অনুযায়ী বিল করা হয়েছে। যেহেতু তারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি, তাই আবেদন করলে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিলগুলো মওকুফের ব্যবস্থা করা হবে। তবে উল্লেখিত গ্রাহকরা আদিতমারী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অঞ্চলের আওতায় পড়ে। আর তাই নেসকোর সংযোগ দেয়ার কোনো নিয়ম নেই বলেও জানান নেসকো’র উপজেলা প্রকৌশলী শাহানুর ইসলাম।

লেখাটি ৪১১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৫১২১৪৩৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৭৯ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা