মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান; সিটি কর্পোরেশন থেকে সব সুবিধা পাবেন: ইশতেহারে জুবায়ের, ভিডিও সহ

রাজনীতি

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান; সিটি কর্পোরেশন থেকে সব সুবিধা পাবেন: ইশতেহারে জুবায়ের, ভিডিও সহ

image
Fri, July 27
12:02 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, সকল ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা সুনিশ্চিত করা হবে। এবং সিটি কর্পোরেশন থেকে পদস্ত সমস্ত সুযোগ সুবিধা যাতে তারা নির্ভিগ্নে পান সে ব্যাপারে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী, নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে জুবায়ের নগরীর উন্নয়ন ও নগরসীর কল্যানে তার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা, সমর্থন ও দোয়া কামনা এবং টেবিল ঘড়ি মার্কায় মূল্যবান ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নগরবাসীর রায় পেলে সিলেটের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে এবং সিলেটকে আদর্শ ও বসবাসের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ মহানগরীতে পরিণত করতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

ইশতাহারে তিনি উল্লেখ করেন সিলেট মহানগরীকে একটি পরিকল্পিত ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে তার অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় রয়েছে- সিলেট সিটি কর্পোরেশন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, প্রস্তাবিত বর্ধিত মহানগরীর প্রয়োজনকে সামনে রেখে ‘মাস্টারপ্লান’ তৈরী করা এবং এর আলোকে বিদ্যমান সমস্যার ধাপে ধাপে সমাধান, রাত ১০টার পূর্বে নগরীতে কোন প্রকার ভারী যানবাহন যাতে ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নগরীতে টাউন বাস সার্ভিস সম্প্রসারণ, পাথর পরিবহনকারী ট্রাকগুলোকে যাতে নগরীর ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে না হয় সে লক্ষ্যে বিকল্প দু’টি সড়ক চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর সম্মুখে যাতে যানজট তৈরী না হয় সেজন্য একটি নীতিমালা তৈরী। এছাড়া, সড়কে যানজট কমানোর জন্য সুরমা নদীতে আধুনিক রিভার ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা চালু করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টকে এর সাথে সংযুক্ত করা এবং সুরমা নদীর নাব্যতা বাড়ানোর জন্য নদী ড্রেজিং এর ব্যবস্থা করা।

মহানগরীর ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে থাকায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের দাবি অনুযায়ী মহানগরীর ফুটপাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করবো। এ লক্ষ্যে বন্দর বাজার থেকে চৌকিদেখী, বন্দরবাজার থেকে টিলাগড়, ভিআইপি রোড এবং আম্বরখানা থেকে মদীনা মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করে পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং অপরিসর ও উঁচু ফুটপাতকে পথচারীদের সহজে চলাচলের উপযোগী করা হবে। ফুটপাত সর্বাবস্থায় দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া, নগরীর একাধিক জায়গায় শুক্রবার ও শনিবার হকারদের সুবিধার্থে হলিডে মার্কেট চালু ও স্থানীয় কৃষকদের কৃষিপণ্য বিপনণের জন্য সুবিধাজনক জায়গায় ‘কৃষক বাজার’ গড়ে তোলা হবে।

জলাবদ্ধতা সিলেট সিলেট মহানগরীর অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর বেশিরভাগ নিচু এলাকা ও রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বসত ভিটায় পানি উঠায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় অনেক নাগরিককে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময় বড় অংকের অর্থের প্রকল্প নেয়া হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। মালনীছড়াসহ কোন কোন স্থানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে তিনি তার পরিকল্পনায় উল্লেখ করেন, নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক খাল, ছড়া ও নালা শতভাগ দখলমুক্ত এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, দখলমুক্তকরণ নিশ্চিত করার জন্য পুরোটাই বক্স কালভার্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ছোট ছোট নর্দমা ও ড্রেনকে প্রাকৃতিক ছড়া বা খালের সাথে সংযুক্ত করা হবে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- সিলেট মহানগরীকে দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষ্যে সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণ করে সেখানে আকর্ষনীয় স্থাপনা তৈরী, আলী আমজদের ঘড়ি ও ক্বীনব্রীজসহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সমূহকে আরো আকর্ষনীয় করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ, মহানগরীতে একটি চিড়িয়াখানা নির্মাণ, এলাকা ভিত্তিক বনায়ন ও সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণকে প্রাধান্য দেয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িভিত্তিক সবুজায়নকে উৎসাহিত করা, ছাদ কৃষিকে উৎসাহিত করা, বৃক্ষরোপনের পাশাপাশি এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ, বৃক্ষ নিধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বয়স্কদের শরীরচর্চার পার্ক এবং খেলার মাঠ তৈরী ও সেখানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ, আইটি সেক্টরে প্রবাসীদেরকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধন করে পুরো সিলেট নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাইস্পীড সম্পন্ন ওয়াইফাই জোন স্থাপন, নাগরিক সেবা সমূহ অনলাইনের মাধ্যমে কার্যকর করা, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নগরীর বিভিন্ন লোকেশনে ডিজিটাল পর্যটন রোডম্যাপ স্থাপন, যানজট নিরসনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন, শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য ফ্রি আইটি কর্মশালা করে অনলাইন জব বা ফ্রিল্যান্সিং- এ উৎসাহ প্রদান, কমিউনিটি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চাহিদা নির্ধারণ করে নিম্ন আয় ও শ্রমজীবি মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের সুব্যবস্থা করা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, বিশেষ করে তাদেরকে ধর্মীয়, নৈতিক ও কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা, সপ্তাহে বা মাসে প্রয়োজনীয় এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, সিলেট মহানগরীকে মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সিলেট সিটির জন্য ‘স্বতন্ত্র বিল্ডিংকোড’ তৈরীর উদ্যোগ এবং বহুতল ভবন নির্মানে এই বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করা।

নগরিক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিলেটের আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা দক্ষিণের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, ২০ দলীয় জোট সিলেট মহানগর সদস্য সচিব ও নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব মো: ফখরুল ইসলাম, জেলা উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, ২০ দলীয় জোট সিলেট জেলা সদস্য সচিব ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, বিজেপি জেলা আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন লিটন ও সদস্য সচিব ড: একেএম নুরুল আম্বিয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা জহুরুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির জেলা সভাপতি ক্বারী আবু ইউসুফ চৌধুরী, এনডিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, জাগপা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিজেপি জেলা সদস্য সচিব ডা: একেএম নুরুল আম্বিয়া, জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট আলিম উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো: শাহজাহান আলী, এডভোকেট আব্দুর রব ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

ছবি ও ভিডিও: সৈয়দ মোতাহার আহমদ শুভন।

লেখাটি ২৫১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Video




Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৬৪১৯৭০৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ৯৪ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger