খেলাধুলা

নিশ্চিত মৃত্যু থেকে ফিরে এসেও জেএসসি পরীক্ষা দিতে পারবেনা, অলরাউন্ডার মাহফুজ

image
Thu, August 9
02:59 2018

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহা প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট জেলার ক্রিকেটে অলরাউন্ডার ও বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণরত মাহফুজ হাসানকে সামনের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার সুযোগ না দেয়ায় গত ৬ আগষ্ট সন্ধায় সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ঘটনাটি তাৎক্ষনিকভাবে বড়বোন টের পেয়ে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে তাকে রক্ষা করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসি ও মাহফুজ হাসানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তুষভান্ডার আর,এম,এম,পি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে আসন্ন ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় কোন রকম টেস্ট পরীক্ষা না নিয়েই প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এবারের জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থেকে বাদ দিয়েছে। মাহফুজ হাসান ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ। লালমনিরহাট জেলায় ক্রিকেটে অল রাউন্ডার খেলোয়ার হিসাবে কৃতিত্ব অর্জন করায় তাকে বিকেএসপি’তে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পায়। যে কারণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় যথারীতি অংশ গ্রহণ করলেও তার ফলাফল সন্তোসজনক না থাকায় তাকে জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থেকে বাদ দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মাহফুজ গত ২ আগষ্ট’১৮ তারিখে প্রধান শিক্ষক বরাবরে এক লিখিত আবেদনে উল্লেখ করে যে, ক্রিকেট খেলোয়ার হিসেবে জেলা পর্যায়ে অনুশীলন করার কারণে পড়াশোনায় মনযোগী হতে পারেনি। যে কারণে তার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা কিছুটা খারাপ হয়। সে আবেদনের সাথে একটি অঙ্গীকারনামা দিয়েছিল এবং সেখানে লিখেছে তাকে জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিলে সে নিশ্চিত জিপিএ-৫ অর্জন করবে। যে আবেদন পত্রটিতে মানবিক কারণে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ একজন খেলোয়ার হিসেবে মাহফুজকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগদানের জন্য প্রধান শিক্ষক বরাবরে লিখিত আবেদনে সুপারিশ করেছিলেন।

সবকিছু প্রচেষ্টায় যখন ব্যর্থ, তখন সে গত ৬ আগষ্ট সন্ধায় তুষভান্ডারস্থ ভাড়া বাসায় সেলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস টেনে আতত্মহত্যা করার পথ বেছে নেয়। পাশের রুম থেকে বড়বোন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার টের পেয়ে তাৎক্ষনিক মাহফুজের রুমের দরজায় লাথি দিয়ে ছিটকিনি ভেঙ্গে রুমে ঢুকে মাহফুজকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

পরে পরিবারের লোকজন মাহফুজের দেহ তল্লাশি করে একটি ‘চিরকুট’ উদ্ধার করেন। সেই ‘চিরকুটে’ মাহফুজ লিখেছে “আমার মৃত্যুর জন্য তুষভান্ডার আর.এম.এম.পি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড স্যার দায়ী। ইতি: মাহফুজ হাসান, ০৬/০৮/২০১৮ইং ” আরেক অংশে লিখেছে “ উপজেলা চেয়ারম্যান স্যার আমার জন্য সুপারিশ করিয়াছিলেন। দোয়া করি আল্লাহ্ যেন তাঁকে সুস্থ্য রাখেন। ইতি: মাহফুজ হাসান,০৬/০৮/২০১৮ ইং।”

ঘটনা জানাজানি হলে পরের দিন (৭আগষ্ট) অন্যান্য সংবাদকর্মীদের সাথে এ প্রতিনিধি মাহফুজদের বাসায় গিয়ে ঘটনার আদি-অন্ত জানা যায়। পরে, তুষভান্ডার আর এম এম পি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নলনী কান্ত রায়ের সাথে তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি মাহফুজ সম্পর্কে প্রথমে কোন রকম তথ্য দিতে রাজি হননি। মাহফুজ বিকেএসপি’তে সুযোগ পাওয়া একজন ভাল খেলোয়ার কি না-এমন বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মাহফুজ এবং সংবাদ কর্মীদের চরিত্র নিয়েও তিনি বিরূপ মন্তব্য করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ মন্ডল কক্ষে এসে প্রধান শিক্ষকের গুণ-কীর্ত্তনে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান কেন স্বয়ং মন্ত্রীর সুপারিশেও কোন কাজ হবেনা-এমন বিশোদগার করেন।

সহকারী শিক্ষক মন্ডল আরো বলেন, ‘আমাদের হেড স্যারের মত সৎ অফিসার উপজেলায় দ্বিতীয়টি নেই। তিনি কোন রকম ঘুষ নেন না, কাউকে ঘুষ দেন না। একজন সৎ মানুষের মেজাজ কর্কষ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি ন্যায় কথা বলতে কাউকে ভয় করেন না।’ -এমন প্রসংশার এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের চরিত্র নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘মাহফুজ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেনা। স্যারদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখেনা। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ‘স্যারদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে, তারা আমাদের সাথে ভাল আচরণ করেন না। এমনকি পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়ে পরীক্ষায় ফেল দেখানো হয়। আবার এমন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা কম নম্বর পেয়েছে তাদেরকে বেশী নম্বর দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সাময়িক পরীক্ষার আগে দীর্ঘ মাসাধিক কাল রমজানের বন্ধ ছিল বিদ্যালয়। সিলেবাসের একচতুর্থাংশ পড়ানো হয়নি। এ অবস্থায় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়া হয়। জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য কোন রকম টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়নি। বছরের অর্ধেক সময় যেতে না যেতেই জেএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কাজ শেষ করতে হয়। জেএসসি পরীক্ষা হয় সাধারনতঃ নভেম্বর মাসে। শিক্ষার্থীরা সামনে একটা বিরাট সময় পায় পড়াশোনার জন্য। রেজিষ্ট্রেশন বা ফরম পূরন হওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সবাই মনযোগী হয়ে উঠেন। যে কারণে জেএসসি পরীক্ষায় টেস্ট বা বাছাই পরীক্ষা নেয়ার তেমন কোন বাধ্যবাধগতা নিয়ম নেই। এমনটা জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক। ‘

কোন শিক্ষার্থী যদি ৫ বিষয়ে ফেল করে, তাকে সঙ্গত কারণে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ দেয়াটা ঠিক হবেনা।’ এমনটা জানালেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান ।

তবে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান ‘জেএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কাউকে বাদ দেয়ার এমন কোন বিধি বিধান আছে বলে আমার জানা নেই।’ ৮আগষ্ট ছিল জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের শেষ দিন।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা যায়, গত এস.এস.সি পরীক্ষার সময় তুষভান্ডার আর.এম.এম.পি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নলিনী কান্ত রায়ের ভুলের কারণে ১৬ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চয়তা হয়ে পড়ে।

লেখাটি ৩১২ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৮৫২১২২৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১১২ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger