রাজনীতি

দেশমাতার সঠিক, সময়োচিত ও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত

image
Fri, September 14
10:37 2018

মেজর মো. আখতারুজ্জামান (অব.):

আদালত যা খুশি রায় দিক। দেশমাতা খালেদা জিয়া বলে দিয়েছেন তিনি আর আদালতে যাবেন না। এটি দেশমাতার সঠিক, সময়োচিত ও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর বাইরে আসা যাবে না।

সরকারের আজ্ঞাবহ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে না তা সুর্যের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কুমিল্লা আদালতও জামিন দেয় নাই। তারপরেও যদি আমাদের আইনজীবীদের হুস না হয় তাহলে আর কিছু বলার নাই। দেশমাতার সকল মামলা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক মামলা রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

এখানে আইনী লড়ায়ের ভরং কোন কাজ হবে না। আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা যতেষ্ট চেষ্টা করেছেন আইনী লড়ায়ের মাধ্যমে মামলাগুলির সুরাহা করতে। দুর্ভাগ্য যে তাদের সেই আইনী লড়ায়ের প্রচেষ্টা সরকারকে সুযোগ করে দিয়েছে প্রমান করতে যে আইনী লড়ায়ের মাধ্যমেই দেশমাতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আইনী লড়ায়ের মাধ্যমেই দেশমাতার জামিন কখনও দেয়া হচ্ছে আবার কখনো নামন্জুর করা হচ্ছে। আইনী লড়ায়ের মাধ্যমে জামিন জামিন খেলা হচ্ছে।

এই পর্যন্ত যতগুলি জামিন দেয়া হয়েছে , একে একে তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লায় জামিন না মন্জুর হওয়াতে এখন আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করবেন। ইতিমধ্যে মূল মামলার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু কুমিল্লা জামিন মন্জুর করে নাই তাই দেশমাতার জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ঝুলে গেল। দেশমাতা আদালতে যাবেন না বলার পরেও আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা মূল মামলার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার আবেদন করেছেন তাতে আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা সরকারের আইনী ফাদে পা দিয়েছেন।

আদালত সময় ক্ষেপন করার জন্য জামিনের শুনানীর তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পিছিয়ে দিয়েছেন। কারন উচ্চ আদলতে কুমিল্লার জামিন না মন্জুরের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করলে হয়তো জামিন পাওয়ার একটি সম্ভাবনা হবে তখন আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা দেশমাতাকে তার অবস্থান থেকে সরে এসে জামিনের স্বার্থে আদালতে যেতে বাধ্য করতে পারে। ফলে একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের সুযোগ আইনজীবীরা নষ্ট করে দিবে যা সরকারের অতিব কাম্য।

সরকার কোন অবস্থাতেই দেশমাতাকে মুক্তি দিবে না। এখন জামিন জামিন খেলে আদালতের উপর দিয়ে এবং আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীদের আইনী লড়ায়ের ভরং ধরে সময় পার করে দিবে। আমাদের আইনজীবীরা যতই আইনী লড়ায়ের ভরং ধরুন না কেন, সরকার আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশমাতাকে আরো সাজা দিবে এবং বাকি জীবন দেশমাতাকে কারাগারে বন্দি করে রাখবে, এতে কোন সন্ধেহ নাই।

যদি দেশমাতা আদালতে না যায় এবং কোন আইনজীবী দেশমাতার পক্ষে তথাকথিত আইনী লড়াই না করে তাহলে সরকারকে জোর করে দেশমাতাকে আদালতে নিয়ে বিচার করতে হবে এবং সেই বিচারকে আইনী লড়াই সাজানোর জন্য সরকারকে দেশমাতার পক্ষে আইনজীবীও নিয়োগ করতে হবে। দেশমাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় সাজানো আদালতে উভয় পক্ষে সরকারের আইনজীবীদের সাজানো বিচার প্রক্রিয়ায় দেয়া সাজা কখনই জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না।

দেশমাতা খালেদা জিয়ার সকল মামলা রাজনৈতিক এবং তা রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। দেশমাতার মুক্তি হবে রাজপথে। রাজপথ ছাড়া দেশমাতার মুক্তির কোন বিকল্প নাই।

লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য।

লেখাটি ৩২৮৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


Share


Related Articles

Comments

ফেসবুক/টুইটার থেকে সরাসরি প্রকাশিত মন্তব্য পাঠকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোট ভিসিটর সংখ্যা
৭৭৮২৩৭১৪

অনলাইন ভোট

image
মাদক বিরোধী অভিযানের নামে অব্যাহত ক্রসফায়ার সমর্থন করেন কি?

আপনার মতামত
হ্যাঁ
না
ভোট দিয়েছেন ১০৫ জন

আজকের উক্তি

নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সহায়ক সরকার বিষয়টি রাজনৈতিক, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা
Changer.com - Instant Exchanger