নাম, যশ, খ্যাতি হলেই জীবনে সুখী ধারণাটাও সত্যিই ভুল

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, অবসাদ আর হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।মুম্বাইয়ের বান্দ্রার নিজ ফ্ল্যাটে রোববার গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছন বলিউডে এই অভিনেতা। তার অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন ভারতীয় শিল্পীর মতোই বাংলাদেশের শিল্পীরাও। সুশান্ত সিং রাজপুতের অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান।

সোমবার (১৫ জুন) দুই বাংলায় জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী তার ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।

করোনা দূর্যোগে প্রিয়জনের মানসিক অবসাদে পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে জয়া আহসান লিখেছেন-

জয়া তার ফেসবুকবার্তায় লিখেছেন, প্লিজ এই দুঃসময়ে আপনার প্রিয়জনের পাশে দাঁড়ান, কাউকে একা ফিল করতে দেবেন না। অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের আত্মহত্যা এটাই হয়তো বলে দিয়ে গেল। একজন শিল্পীর চলে যাওয়া সত্যিই মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। তার চলে যাবার প্রকৃত কারণ হয়তো পরে জানা যাবে কিন্তু মানসিক অবসাদ সত্যিই এই যুগের সবচেয়ে কঠিন সমস্যা এবং এর সঙ্গে লড়াই করাটাও। নাম, যশ, খ্যাতি হলেই সেই মানুষটা জীবনে সুখী এই ধারণাটাও সত্যিই ভুল।

২০১৫ সালে ডব্লিউএইচও প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে, প্রতিবছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ ডিপ্রেশনের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তাই কেউ মনের কথা বলতে চাইলে তাকে সময় দিন। কেউ মনোবিদের কাছে গেলে ‘তুই পাগলের ডাক্তার দেখাস’ এই ধরনের কথা বলে তার মনোবল ভেঙে দেবেন না বরং তাকে উৎসাহিত করুন। আমরা প্রত্যেকেই হয়তো এক একটা সমস্যায় থাকি। ঘটনাক্রমে সেগুলো হয়তো না চাইতেও ঘটে যায়। সেগুলোই নিজের মধ্যেই হয়তো চেপে রাখি ভাবি এর থেকে বেরোনোর হয়তো আর কোনো সমাধান নেই। এগুলোই আমাদের তিলে তিলে শেষ করে দেয়। এগুলো বরং আমরা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি।

অন্তত কিছুটা হালকা হওয়াই যায়। লড়াই করার রসদ খুঁজে পাওয়া যায়। কারোর মন খারাপ হয়েছে শুনলে প্লিজ তাকে একা ছেড়ে দেবেন না। যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করুন। অন্তত এই কঠিন সময়ে তো বটেই। সত্যিই মানসিক অবসাদকে এবার সিরিয়াসলি নেবার সময় এসেছে। কথা হোক। আর আমরাও সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে একে অন্যের যেন মনের জোর বাড়াতে সাহায্য করি। আর যাই হোক, আমরা আমাদের প্রিয়জনকে মানসিক অবসাদে চলে যেতে দেব না। এই হোক অঙ্গীকার।

Add your comment:

Related posts