প্যারিসে বর্ণবাদ বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ণবাদ বিরোধী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নৃশংসতা চালিয়েছে বলে তাদের দাবি। প্যারিসে এমন বিক্ষোভ আয়োজন নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বিশ^জুড়ে ব্লাক লাইভস ম্যাটার বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়।

তারই অংশ হিসেবে প্যারিসে এদিন বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়। প্যারিসে এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয় ‘জাস্টিস ফর আদামা’র ব্যানারে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ফরাসি পুলিশের হেফাজতে মারা যান কৃষ্ণাঙ্গ আদামা ট্রেওরে। তার স্মৃতিকে স্মরণ করে এমন ব্যানারে বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়।

এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শনিবার বিকেলে প্যারিসের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে প্যালেস ডি লা রিপাবলিকে সমবেত হন প্রায় ১৫ হাজার বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভকারী। তারা স্লোগান দিতে থাকেন ‘নো জাস্টিস, নো পিস’। অর্থাৎ ন্যায়বিচার না হলে শান্তি ফিরবে না। ফ্রান্স প্রজাতন্ত্রের প্রতীক মারিয়ানে মূর্তির ওপর চড়ে বসেন বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ।

এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন আদামা ট্রেওরে’র বোন আশা ট্রেওরে। তিনি সামাজিক, বর্ণবাদ এবং পুলিশি নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। আশা ট্রেওরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যা যা ঘটছে তাই এখন ঘটছে ফ্রান্সে। এখানেও আমার ভাইয়েরা মারা যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বে বিক্ষোভকারীদের সমবেত হতে দেয় পুলিশ। তবে বিক্ষোভ এক পর্যায়ে অপেরা এলাকার দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষোভের কারণে স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ পরিকল্পিত এই বিক্ষোভ সামনে অগ্রসর হতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু প্যালেস ডি লা রিপাবলিকের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। লা প্যারিসিয়েন পত্রিকা বলেছেন, এ সময় ২৬ জন বিক্ষোভকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ওদিকে লিওন এবং মার্সেলির মতো ফরাসি অন্য শহরগুলোতেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে।
ফরাসি পুলিশের পর্যবেক্ষকরা বলছে, তারা গত বছর পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১৫০০ অভিযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকই সহিংসতার অভিযোগ।

সম্প্রতি পুলিশ ১৪ বছর বয়সী একটি বালককে মারাত্মক আহত করেছে বলে অভিযোগ আছে। গত মাসে প্যারিসের কাছে বন্ডি এলাকায় একটি স্কুটার চুরির চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ ওই বালকের বিরুদ্ধে। এমন সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। সেই আটক অবস্থায় সে মারাত্মক আহত হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফে কাস্টানার ঘোষণা দিয়েছেন সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘চকহোল্ড’ পদ্ধতি ব্যবহারে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংসতার অভিযোগে রাজপথে বিক্ষোভ হওয়ার পর এমন ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ক্রিস্টোফে কাস্টনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, আইন প্রয়োগকারী ও অফিসারদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ অবলম্বন করা হবে। এমন অভিযোগ কারো বিরুদ্ধে উঠলে তাকে বরখাস্ত পর্যন্ত করা হবে। তবে তার এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে পুলিশের বিভিন্ন সমিতি ও কর্মকর্তারা। তারা তাদের মধ্যে বর্ণবাদের ব্যাপকতার কথা অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার চ্যাম্পস-এলিসিতে পুলিশ সদস্যরা তাদের হ্যান্ডকাফগুলো মাটিতে ছুড়ে ফেলে এর প্রতিবাদ জানিযেছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ব্লাক লাইভস ম্যাটার প্রতিবাদ বিক্ষোভের মডেল ধারণ করে বহু দেশের মতো সেখানেও এই বিক্ষোভ হচ্ছে।

Add your comment:

Related posts