চি‌কিৎসা সেবা নি‌শ্চিতে হাইকোর্টের দেয়া ৭ দফা নির্দেশনা স্থগিত

চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাইকোর্টের দেয়া ১০ দফা নির্দেশনার মধ্যে ৭ টি নির্দেশনা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা হাসপাতালগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কিনা, আই সি ইউ বেডের জন্য অতিরিক্ত ফি না নেওয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডার দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশনা বহাল রেখেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিত আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননী এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। অপরদিকে রিটকারী আবেদন কারীদের পক্ষে ছিলেন জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার অনিক আর হক, ব্যারিস্টার এহহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামিল হক ফয়সাল।

বহাল রাখা নির্দেশনাগুলো হচ্ছে
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুনের পূর্বে আদালতে দাখিলের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. আইসিইউ এ চিকিৎসাধীন কোভিড ১৯ রোগী চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃত্তিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং রোগীর পরিচয় পত্র ব্যতীত অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রয় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ বিক্রয় ব্যবস্থা মনিটরিং জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

স্থগিত ৭ দফা নির্দেশনা গুলো হল
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনাসমূহ পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২৪ মে জারিকৃত নির্দেশনা অনুসারে ওই তারিখের পর থেকে ৫০শয্যার অধিক বেসরকারী হাসপাতাল এবং ক্লিনিক সমূহ চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত কতজন কেভিড- নন কেভিড রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৫০ শয্যার অধিক হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের একটি তালিকা প্রেরণ করতেও বলা হয়েছে।

৩. বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনাসমূহ বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ যথাযথভাবে পালন করছে কিনা, সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পরপর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেরিত ঐ সকল প্রতিবেদন আবার আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

৪.বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের বিশেষত ঢাকা মহানগর ও জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা সহ বিভাগীয় শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ যাতে কেভিড নন কেভিডসহ সকল রোগীকে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫. কোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনীহা দেখালে এবং এতে করে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে তা অবহেলাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত অর্থাৎ ফোজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৬.স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক ও বিস্তৃত করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে এ সেবা দ্রুত ও সহজভাবে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। কোন হাসপাতালের আইসিইউ তে কতজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিও শয্যা কি অবস্থা আছে তার আপডেট প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে সে জন্য পৃথকভাবে আইসিইউ হটলাইন নামে পৃথক হটলাইন চালু এবং হটলাইন নাম্বার গুলো প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭.সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোভিড রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় লাল, হলুদ সবুজ ও জোনে বিভক্ত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় লকডাউন বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া সংগত হবে না মর্মে আদালত মনে করে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন দায়ের করে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। তার আগে সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালে আগত সব ধর রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ দফা নির্দেশনা ও অভিমত দিয়ে আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

Add your comment:

Related posts